ভারি বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্টি হওয়া বন্যায় কক্সবাজার জেলাায় বেশ ক্ষয়ক্ষতির হয়েছে।এছাড়া এই বন্যায় জেলায় ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে।তারমধ্যে চকরিয়ায উপজেলায় নিহত হয়েছে ১১ জন, পেকুয়ায় উপজেলাস ৬ জন, রামু উপজেলায় একজন ও উখিয়ায় পাহাড় ধসে ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।
গত ১০ আগস্ট বৃহস্পতিবার সকালে পেকুয়া ও চকরিয়ার বিভিন্ন স্থান থেকে পানিতে ভেসে যাওয়া চার জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। বন্যার পানি নেমে গেলেও চকরিয়ায় 'বন্যার পানিতে মানুষের ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ায় দুশ্চিন্তার ভাজ পড়েছে ।বাড়ির সেপটিক ট্যাংক পরিষ্কার করতে গিয়ে গ্যাসের বিষক্রিয়ায় বাবা ও তার দুই সন্তানের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে।
চকরিয়ার উপজেলাধীন কাকারা ইউনিয়নের ফুলছড়ি গ্রামে গেলো কয়েকদিনের টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে ডুবে থাকা পুরো এলাকা থেকে নেমে যাচ্ছে পানি। তবে এর সঙ্গে সঙ্গে ভেসে উঠছে বিভিন্ন ক্ষতচিহ্ন। দেখা মিলছে বিধ্বস্ত রাস্তাঘাট, কালভার্ট; একই সঙ্গে উপড়েপড়া গাছপালাও।
শুধু এটি নয়, এখন উপজেলার প্রতিটি গ্রামের চিত্র একই ধরনরে।পানিতে তলিয়ে গেছে বীজতলা, ফসলের মাঠ, মাছের ঘের। আর বিধ্বস্ত বসতঘরগুলোও যেন বহন করছে ক্ষতের চিহ্ন। এ অবস্থায় ঘরে ফেরা মানুষগুলো পড়েছেন
ক্ষতিগ্রস্থ হওয়া স্থানীয় বাসিন্দরা জানান,এই চারদিনে অন্তত ৪- ৫ ফুট পানিতে বন্দি ছিলেন তারা। পানি ক্রমাগত নেমে যাচ্ছে; এর সঙ্গে সড়কের ভাঙন, বিধ্বস্ত ঘরবাড়ি, ফসলি জমি ও মাছের ঘেরের ক্ষয়ক্ষতি দৃশ্যমান। যাদের বাড়িঘর এখনও রয়েছে, তাদেরও বাড়িতে গিয়ে রান্না করার সুযোগ নেই, বাড়ির ভেতরের পানি বের করার চেষ্টা করছেন। বন্যা দুর্গত পরিবারগুলোর সাথে কথা বলে জানা গেছে, তাদের অনেক এ গ্রামের বাসিন্দারা জানান রাস্তা থেকে কালভার্ট সরে গেছে, পরিবারের ঘরে রান্নার চাল থাকলেও শুকনো।
সৃষ্ট এই দুর্যোগে নিহত ২০ জনের পরিবারের মাঝে ইতোমধ্যে ২৫ হাজার টাকা করে ৫ লাখ টাকার মানবিক সহায়তা দিয়েছেন কক্সবাজার জেলা প্রশাসন। বন্যার পানি সরে যাওয়ায় কক্সবাজারের অন্যান্য উপজেলায় বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও চকরিয়ার ১৩ টি ইউনিয়ন ও পেকুয়ার ৬টি ইউনিয়নে এখনো বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। খাদ্য ঘাটতি এড়াতে চকরিয়া উপজেলায় ৫৫ মে.টন খাদ্য ও পেকুয়া উপজেলায় ২৫ মে.টন খাদ্য সহায়তা দেয়া হয়েছে। এছাড়াও আর্থিক ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে চকরিয়ায় ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের মাঝে ৮ লাখ ৭৫ হাজার টাকা ও পেকুয়া উপজেলায় ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা নগদ অর্থ প্রদান করেছেন জেলা প্রশাসন। এছাড়াও বন্যা কবলিত এলাকায় গ্যাস ও চুলায় আগুন জ্বালানো সময়সাপেক্ষ হওয়ায় চকরিয়ায় ৩ হাজার ব্যাগ শুকনো খাবার ও পেকুয়াতে মহেশখালী, ১৫ শ' ব্যাগ শুকনো খবার বিতরণ করেছে জেলা প্রশাসনের পক্ষ হতে। এছাড়াও তুলনামূলক কম ক্ষতিগ্রস্থ উপজেলা কুতুবদিয়া,উখিয়া, টেকনাফে নগদ ৪২ হাজার টাকা করে ও এই ৪ উপজেলায় ৭০০ ব্যাগ শুকনো খাবার বিতরণ করেছে। কক্সবাজার সদর ও ঈদগাঁও উপজেলায় ৪৫ হাজার টাকা করে এবং রামু উপজেলায় ৬৭ হাজার নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করেন। এছাড়াও এ তিনটি উপজেলায় ৮ শ' ব্যাগ শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে জেলা প্রশাসন হতে । দুর্যোগ পরবর্তী দূর্ভোগ লাঘবে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল ইতিমধ্যে সুপেয় পানি নিশ্চিতকরণে ৩৭ হাজার ৫০০ টি পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট, ২০০টি পানিসহ জেরিকেন এবং ৫ হাজার লিটার পানি সরবরাহ করেছে। এছাড়াও ৫০ হাজার ট্যাবলেট মজুদ রয়েছ বলে জানান। এছাড়াও সৃষ্ট বন্যায় সড়কের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সড়ক বিভাগের মোট ৫৯ কি.মি সড়ক, এলজিইডির ৮০.৭৫ কি.মি কাঁচা রাস্তা ও ৪৭ টি ব্রীজ ও কালভার্ট বিভিন্ন মাত্রায় ক্ষতিগ্রস্থ হয়। রাস্তা পানিতে ডুবে থাকায় এখনো এসবের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যায়নি। সড়কের ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে নবনির্মিত দোহাজারি- কক্সবাজার রেললাইনে কিছু অংশ।দুর্যোগে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ফসলি জমিরও। বিভিন্ন ধরনের ফসলাদির ১৫ হাজার ৬৩৮ হেক্টর ফসলি জমি, ১৭৫২ টি পুকুর,দিঘি,খামার ক্ষতিগ্রস্থ হয়। এছাড়াও ১৮৩২টি মৎস্য ঘের, ২৬২ মে.টন ফিন ফিশ,৭০৩ মে.টন চিংড়ি, ৯.৯৫ মে.টন পোনা ও ১৭৯ টি জাল ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এছাড়াও জেলা প্রশাসনের ৭৪৭ মে.টন খাদ্য, নগদ ১১ লাখ ৫০ হাজার টাকা ও ১ হাজার বান্ডিল ঢেউটিন মজুত রয়েছে বলে জানান ।