চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় একটি গরুর খামারে আগুন লেগে গোয়ালঘর ও গরুর বাছুরসহ ১৮ টি গরু পুড়ে মারা যাওয়ার ঘটনা নিয়ে এলাকায় চলছে নানা গুঞ্জন। গত শুক্রবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে উপজেলার সরফভাটা ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড সিপাহী পাড়া এলাকার সিপাহী পাড়া সমাজ কল্যাণ সমিতির গরুর খামারে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। কেউ কেউ ধারণা করছে এটি শর্ট সার্কিট থেকেই হয়েছে আবার কেউ কেউ ধারণা করছে প্রতিহিংসা থেকেও হতে পারে। তবে ঠিক নিশ্চিতভাবে বলতে পারছেনা তাদের কেউই।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এলাকার স্থানীয় তরুণ ও প্রবাসী উদ্যোক্তাদের এ যৌথ খামারে সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে আগুন দেখতে পেলে রাঙ্গুনিয়া ফায়ার সার্ভিসকে কল দিয়ে জানানো হয়। সন্ধ্যা ৬ টা ৪৫ মিনিটের দিকে তাঁরা এসে আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ শুরু করে। তবে ততক্ষণে গোয়ালঘর ও বাছুরসহ প্রায় সবগুলো গরু অগ্নিকাণ্ডে পুড়ছিলো। গোয়ালঘরে খড় থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। এতে খামারসহ ১৮ টি গরু আগুনে পুড়ে মরে নিমিষেই শেষ হয়ে গেলো তরুণ উদ্যোক্তাদের লালিত এ স্বপ্ন। ফায়ার সার্ভিস একটি গরু আহত অবস্থায় উদ্ধার করলেও আগুনে আক্রান্ত হওয়ায় সেটিকে জবাই করে দিতে হয়েছে তাঁদের।
সিপাহী পাড়া সমাজ কল্যাণ সমিতি নামক ভুক্তভোগী এ প্রতিষ্ঠানের সূত্রে জানা গেছে, তাঁদের এ ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে গরুর খামার ছাড়াও রয়েছে গাড়ির গ্যারেজ। এ দুটির অবশ্য আলাদা-আলাদা বিদ্যুৎ সরবরাহ ও প্রয়োজনে বন্ধের ব্যবস্থা রয়েছে। সেদিন তাঁদের গ্যারেজে শর্ট সার্কিট হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্যারেজের বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ হয়ে যায় তবে গরুর ঘরের বিদ্যুৎ সংযোগ আলাদা হওয়ায় তা নিরবচ্ছিন্ন ছিলো। যদি গরুর খামারের ঘরেও শর্ট সার্কিট হতো তাহলে ওই ঘরেরও স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ হতো। কিন্তু তা বন্ধ হলোনা।
এছাড়াও ওই গরুর ঘরে মশার উপদ্রব নিয়ন্ত্রণ করতে কয়েল জ্বালানোর নিয়ম প্রচলিত থাকলেও সেদিন কোনো কয়েল জ্বালানো হয়নি। এখন উদ্রেক হলো খামারিদের ওই গরুর ঘরে সেদিন শর্ট সার্কিট না হলে, মশার কয়েল ও ধোঁয়া না জ্বালালে তাহলে সেদিন আগুনের সূত্রপাত হলো কিভাবে, প্রশ্ন থেকেই যায়!
এ নিয়ে অবশ্য এলাকায়ও চলছে নানা গুঞ্জন। কেউ কেউ এটিকে দুর্ঘটনা বলে ধারণা করলেও খামারিদের দাবী এটি প্রতিহিংসার বহিঃপ্রকাশও হতে পারে আবার দুর্ঘটনাও হতে পারে। তবে কেউই নিশ্চিতভাবে বলতে পারছেনা কিভাবে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলো। প্রকৃতপক্ষে যা ই হোক না কেন এতে দুটি বিষয় হলো, একদিকে খামারিদের আর্থিকভাবে অপূরণীয় ক্ষয়ক্ষতি হলো অন্যদিকে জ্বলন্ত আগুনে পুড়ে মারা গেছে অবুঝ প্রাণীদের মধ্যে ১৮ টি গরু। এটি বরাবরই পীড়াদায়ক।
এদিকে এ বিষয়ে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্টদের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনার সূত্রপাত কিভাবে হলো তা উদঘাটনের দাবী জানিয়েছেন ভুক্তভোগী খামারিরা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিপাহী পাড়া সমাজ কল্যাণ সমিতি নামক এ গরুর খামারের সভাপতি সাইমুম রউফ বলেন, "আমরা মূলত এলাকায় কর্মসংস্থানের যোগান দিতে ও লভ্যাংশ থেকে সেবামূলক কার্যক্রমের জন্য এ খামার শুরু করি। গত দুই বছর আগে এলাকার তরুণ ও প্রবাসীসহ মোট ২০ জন উদ্যোক্তা মিলে ঋণসহ মোট ৬০ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করি এ খামারে। শুরুতে বাইশটা গরু থাকলেও পরে তা বেড়ে ৩০টা পর্যন্ত হয়েছে। সর্বশেষ শুক্রবারের আগুনে বাছুরসহ ১৯ টি গরুর মধ্যে ১৮ টি গরু পুড়ে মারা গেলো। একটি আগুনে আক্রান্ত অবস্থায় উদ্ধার হলেও তা জবাই করে দিতে হলো। সকালের দিকে আগুনে পোড়া মৃত গরুগুলো নদীতে ফেলে দেওয়া হলো। এ যাবৎ লাভের মুখ দেখিনি আমরা। খামারে আগুন লেগে স্বপ্নভঙ্গের বিষয়টি খুবই দুঃখজনক আমাদের জন্য। এছাড়াও খামারে আগুনের সূত্রপাত হয়তো শর্ট সার্কিট থেকেও হতে পারে আবার কারো শত্রুতা-প্রতিহিংসামূলকও সৃষ্টি হতে পারে। তবে ঠিক নিশ্চিতভাবে বলতে পারছিনা কিভাবে এটি হলো।
জানতে চাইলে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা কামরুজ্জামান সুমন বলেন, শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় আগুন লাগলেও আমরা বিষয়টি জানতে পারি সন্ধ্যা ৬ টা ৪৫ মিনিটের দিকে। খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রায় ৪০ মিনিটের মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণ করি।
ঢাকারিপোর্ট২৪.কম/এমজার/আরএএম