শনিবার, নভেম্বর ৭, ২০২৬

২৩ কার্তিক ১৪৩৩

সরকার অনুমোদিত অনলাইন গণমাধ্যম
BD.GOV.REG.NO-88

শনিবার, নভেম্বর ৭, ২০২৬

২৩ কার্তিক ১৪৩৩

সরকার অনুমোদিত অনলাইন গণমাধ্যম
BD.GOV.REG.NO-88

আপনি পড়ছেন : কুমিল্লা

গুচ্ছ পদ্ধতিতে পাবলিকের স্বকীয়তা হারিয়ে আঞ্চলিকতায় কুবি


আবু শামা - কুবি প্রতিনিধি:
DhakaReport24.com || 2023-02-24 16:55:15
গুচ্ছ পদ্ধতিতে পাবলিকের স্বকীয়তা হারিয়ে আঞ্চলিকতায় কুবি

গুচ্ছভুক্ত ভর্তি পরীক্ষার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বকীয়তা হারিয়ে আঞ্চলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিণত হচ্ছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়।  বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের ৭০ থেকে ৭৫ শতাংশ শিক্ষার্থীই বৃহত্তর কুমিল্লার। ফলে বিশ্ববিদ্যালয় ধারণাটির দিনে দিনে পরিবর্তন করে দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। এছাড়া অব্যবস্থাপনা,  ভর্তি বিড়ম্বনা, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছুটোছুটি, অতিরিক্ত খরচসহ পদে পদে ভোগান্তির শিকার হয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখা যায়, ফিজিক্স বিভাগের ক্লাসে উপস্থিত হওয়ার ৪৩ জনের মধ্যেই ৩৬ জনের বাড়িই বৃহত্তর কুমিল্লা অর্থাৎ কুমিল্লা, নোয়াখালী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ফেনী, লক্ষীপুর ও চাঁদপুর জেলায়। আর বাকীদের মধ্যে চট্টগ্রামের ৩  জন, কিশোরগঞ্জের ১ জন এবং ঢাকা,২ , নারায়ণগঞ্জের ১ জন করে শিক্ষার্থী রয়েছেন। অর্থাৎ পড়ায়  ৮০ শতাংশ শিক্ষার্থীর বাড়ি বৃহত্তর কুমিল্লার। একই চিত্র দেখা যায়, ইংরেজি বিভাগ এবং প্রত্নত্তত্ব বিভাগে, ইংরেজি বিভাগে উপস্থিত হওয়া ৩০ জন  শিক্ষার্থীদের মধ্যে ১৮ জন শিক্ষার্থীর  বাড়ি বৃহত্তর কুমিল্লা। যা প্রায় ৬০ শতাংশ।   প্রত্নত্তত্ব বিভাগে ২৪ জন শিক্ষার্থীদের মধ্যে ১২ জন  কুমিল্লার। যা ৫০ শতাংশ। গণিত বিভাগের উপস্থিত ৪০ জন শিক্ষার্থীদের মধ্যে ২৭ জন কুমিল্লার। যা ৭৪ শতাংশ। নিবিজ্ঞান  ২৮ জনের মধ্যে ১৮ জনের বাড়ি কুমিল্লা। যা ৮০শতাংশ।

শুধু এসব বিভাগই নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের সব বিভাগেই প্রায় ৭০ থেকে ৭৫ শতাংশ শিক্ষার্থী কুমিল্লা অঞ্চলের। এ পদ্ধতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংস্কৃতিক বিনিময়ের অন্যতম বড় বাধা হবে বলে মনে করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষার্থীরা।

এছাড়াও গুচ্ছ পদ্ধতি একটি ভোগান্তির পদ্ধতির বলে উল্লেখ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি হতে আসা এক নবীন শিক্ষার্থীর অভিভাবক, তিনি বলেন আগে অনেক ভালো ছিল, এখন শিক্ষার্থীরা পরিক্ষা দিয়ে নিদিষ্ট করে বলতে পারতেছে না কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়বে বা কোন সাবজেক্টে পড়বে। এছাড়াও অটো  মাইগ্রেশনের কারণে বারবার সাবজেক্ট পরিবর্তন হচ্ছে এবং এগুলোর জন্য টাকা গুনতে হচ্ছে। এক বিশ্ববিদ্যালয়ে কাগজপত্র জমা দেওয়ার পর অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে সাবজেক্ট আসলে আবার ভর্তি বাতিল করা খুবই বিরক্ত ।

সাংবাদিকতা বিভাগে ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সানজিদা কানন বলেন, শিক্ষার্থীদের হয়রানি কমানোর জন্য গুচ্ছ পরীক্ষা চালু করা হয়েছিল, যাতে একটা পরিক্ষার মাধ্যমেই  গুচ্ছভুক্ত সকল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পায়। এটা সকলের জন্য একটা স্বস্তির বিষয় ছিল। কিন্তু গুচ্ছভুক্ত পরীক্ষার পরবর্তী প্রক্রিয়া আমাদেরকে অনেক পিছিয়ে দিয়েছে। যেখানে ঢাকা,রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস নভেম্বরে শুরু হয়েছে সেখানে গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর ক্লাস প্রায় ফেব্রুয়ারিতে শুরু হয়েছে।এই দিক থেকে একই সেশন হওয়া সত্বে ও আমরা যথেষ্ট পিছিয়ে পড়েছি। এছাড়াও আগের চেয়ে বেশি ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড.  মনিরুজ্জামান বলেন,গুচ্ছ ভালোর চেয়ে খারাপই হচ্ছে। আমরা শিক্ষকরা গুচ্ছের জন্য প্রস্তুত ছিলাম। কিন্তু এখন হিতে বিপরীত হয়েছে, শিক্ষার্থীদের ক্ষতি হচ্ছে বর্তমানে সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে গুচ্ছ নিয়ে ভাবার সময় এসেছে। না হলে আবারও সতন্ত্র পদ্ধতিতে চালু হোক।

এবিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক ড. মোহা. হাবিবুর রহমান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় কোন কলেজ না যেখানে একই জেলার শিক্ষার্থীরা পড়বে। এখানে ৬৪ জেলার শিক্ষার্থীরা পড়তে আসবে কিন্তু গুচ্ছের কারণে তা হারিয়ে গেছে।

গণিত বিভাগের অধ্যাপক ড.আব্দুল হাকিম বলেন, বর্তমানে গুচ্ছ পদ্ধতি উচ্চ শিক্ষার অন্তরায়। দুবছর পার হয়ে গেলেও এখনো ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন হয় নাই। এতে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অভিভাবকদের ও ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. হুমায়ুন কবির বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে বইয়ের পড়া চেয়ে দেখাশুনার মাধ্যমে শেখা বেশি হয়। এখানে সারাদেশের শিক্ষার্থীরা আসবে, তারা একে অপরের সংস্কৃতি দেখে শিখবে। বিশ্ববিদ্যালয় মানে ডাইভার্সিটি থাকবে, কিন্তু গুচ্ছের কারণে তা হারিয়ে গেছে।

তিনি আরও বলেন, নতুন শিক্ষাবর্ষে আমি প্রত্যেক বিভাগ পরিদর্শন করছি। সেখানে দেখেছি ৭০ থেকে ৭৫ শতাংশ শিক্ষার্থী বৃহত্তর কুমিল্লার। যা একটা সাধারণত কলেজে দেখা যায়। গুচ্ছ থেকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সরে আসবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা এখনো নবীন বিশ্ববিদ্যালয়। এ কারণে অনেক ধরনের সীমাবদ্ধতা আছে আমাদের।  সে কারণে হুটহাট সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ নেই। তিনি আরও বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ২০২২-২৩ নতুন শিক্ষাবর্ষের ভর্তি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করছে সেখানে গুচ্ছ ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি শেষ করতে পারে না। এটা শিক্ষার্থীদের জন্য ক্ষতি।

তবে গুচ্ছের বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এফ এম আবদুল মঈন জানান, গুচ্ছের আগেও এখানে শিক্ষার্থীদের চিত্র একই। এখানকার শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীও কুমিল্লার। অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ও যেহেতু গুচ্ছতে থাকছে আমরাও থাকব।

ঢাকারিপোর্ট২৪.কম/হাদি/আরএএম