সময়ের খরস্রোতা কুমার নদ। আর নদ পারা পারের একমাত্র মাধ্যম খেয়া নৌকা। সামান্য বৃষ্টিপাত বা প্রাকৃতিক কোন দুযোর্গ এলেই বন্ধ হয়ে যায় পারা পার। ফলে শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী অসুস্থ রোগী সহ সাধারণ মানুষ পড়ে যায় চরম ভোগান্তিতে। খেয়া বন্ধ থাকলে জরুরী প্রয়োজনে জেলা কিংবা উপজেলা সদরে যেতে হয় প্রায় ৩০ কিলোমিটার পথ ঘুরে। কুমার নদের উপর একটি মাত্র ব্রীজের অভাবে মাদারীপুর সদর উপজেলার শ্রনদী, সিরখাড়া ও রাজৈর উপজেলার কবিরাজপুর , পাইকপাড়া ও হরিদাসদী- মহেন্দ্রী এলাকার প্রায় ৩ লক্ষাধিক জনগোষ্ঠীর যাতায়তে ভোগান্তির শেষ নেই।
স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, বিদ্যমান সমস্যা সমাধান ও বর্তমান সরকারের ধারাবাহিক উন্নয়নের অংশ হিসেবে মাদারীপুর জেলার কবিরাজপুর-জিসি থেকে শ্রনদী জিসি পর্যন্ত কুমার নদের উপর ২৮০ মিটার দীর্ঘ ব্রীজ নির্মানের উদ্যোগ নেয় সরকার। বর্তমানের ব্রীজের কাজ শেষের পথে ,আগামী মাসে জনসাধারণের চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হবে। স্কুল-কলেজে যেতে দুর্ভোগ পোহাতে হবেনা শিক্ষার্থীদের। সহজে মালামাল পরিবহন, অসুস্থ রোগীদের নিয়ে হাসপাতালে আনা-নেয়া ও কৃষিজাত পন্য সরবরাহ করা যাবে সহজে। এছাড়াও নদের দক্ষিণ পাড়ের বৃহৎ একটি অংশ কোটালীপাড়া রাজৈর কালকিনি ও মাদারীপুরের সদরের বড় একটি অংশের মানুষ এ ব্রীজ পার হয়ে কম সময়ের মধ্যে ভাঙ্গা মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের মালিগ্রাম হয়ে সরাসরি পদ্মা সেতু দিয়ে সহজে ঢাক গমন করতে পারবে। এত সময় কমবে বাচবে অর্থ কমবে ভোগান্তি। যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজিকরণ করায় সাধারণ মানুষের সময় ও অর্থের অপচয় হবেনা যা ইতিতবাচক প্রভাব পড়বে গ্রামীন অর্থনীতিতে ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় আসবে ব্যাপক পরিবর্তন।
সূত্র জানায়, বর্তমান সরকারের ধারাবাহিক উন্নয়নের সুফল পাচ্ছেন দেশের প্রান্তিক এলাকার মানুষজন। প্রায় ৩১ কোটি ৫৩ লক্ষ টাকা ব্যয়ে উপজেলা ও ইউনিয়ন সড়কে দীর্ঘ ব্রীজ নির্মান প্রকল্পের আওতায় মাদারীপুর সদর উপজেলার শ্রীনদী জিসি সড়ক হতে রাজৈর উপজেলার কবিরাজপুর জিসি সড়কের ৪২০০ চেইনেজে কুমার নদের উপর ২৮০ মিটার দীর্ঘ পিসি গার্ডার ব্রীজ নির্মান কাজ সমাপ্তির পথে। চলছে ২০০মিটার আরই ওয়াল ও সংযোগ রাস্তার কাজ। কাজটি বাস্তবায়ন করছে মাদারীপুর স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, মাদারীপুর সদর উপজেলা ও রাজৈর উপজেলার বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর ভোগান্তির কথা বিবেচনা করে শ্রীনদী জিসি থেকে কবিরাজপুর জিসি সড়কে কুমার নদের উপর ব্রীজটি নির্মানের উদ্যোগ নেয় সরকার। ভুমি সংক্রান্ত জটিলতায় ব্রীজের কাজ বন্ধ ছিল কিছুদিন। পরে স্থানীয় নেতৃবৃন্দের সহায়তায় ভুমি বিরোধ শেষে পুরোদমে চলে ব্রীজের নির্মান কাজ। শেষ মুহুর্তে চলছে ঘষামাঝার কাজ । আগামী মাসের মধ্যে ব্রীজ যাতায়তের জন্য প্রস্তত হবে বলে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। ব্রিজটি নির্মাণের ফলে রাজৈর উপজেলার কবিারজপুর, হরিদাসদী-মহেন্দ্রদী, পাইকপাড়া ও শিবচর উপজেলার একটি অংশের প্রায় ৩ লক্ষাধিক জনসাধারণ জেলা শহরে যাতায়াতের সুবিধা পাবেন। ব্রীজটি ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের রাজৈর উপজেলার সানেরপাড় থেকে শ্রনদী ভায়া মালিগ্রাম ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের সাথে সংযোগ। এতে কোটালীপাড়া , রাজৈর ও মাদারীপুর সদর উপজেলার একটি বড় অংশ ভাঙ্গা না ঘুরে সরাসরি এ সংযোগ সড়ক দিয়ে কুমার নদের উপর নির্মিত ব্রীজ পার হয়ে সরাসরি মালিগ্রাম দিয়ে পদ্মা সেতুতে যাওয়া যাবে। এতে পথের দুরুত্ব কমবে প্রায় ৩০ কিলোমিটার,সাশ্রয় হবে সময় ও অর্থ। এছাড়াও ব্রীজটি দিয়ে সহজে কৃষকের উৎপাদিত ফসলাদি ও পণ্য পরিবহন, দীর্ঘদিনের শিক্ষাথর্ীর দুভোর্গ লাগব হবে,উন্নত হবে প্রত্যন্ত অঞ্চলের সাথে জেলা সদরের যাতায়ত ব্যবস্থা। আর এতে পাল্টে যাবে ব্রীজের দু’পাশের মানুষের জীবনযাত্রার মান। যার ইতিবাচক প্রভাব পড়বে জাতীয় অর্থনীতিতে। ব্রিজটি জনসাধারণের চলাচলের জন্য মুজিব বর্ষ উপলক্ষে আগামী মাসের মধ্যেই আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন এর মাধ্যমে চালু করা হবে বলে জানান স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর।
স্থানীয় চেয়ারম্যান মোশারফ মোল্লা জানান, একটি মাত্র ব্রীজের কারণে রাজৈর উপজেলার চারটি ইউনিয়নের প্রায় ৩ লক্ষাধিক মানুষ প্রায় ২৫-৩০ েিলোমিটার ঘুওে জেলা কিংবা উপজেলা সদওে যাতায়ত করতে হয়। এখন ব্রীজটি চালু হলে এ অঞ্চলের জনগনের ভোগান্তি নিরসন হবে।
দেলোয়ার হোসেন নামক একজন বাসিন্দা জানান, ব্রীজটি নির্মানের ফলে প্রত্যন্ত এলাকার কৃষক তার উৎপাদিত ফসল সহজে বাজারে তুলতে পারবে, অসুস্থ ও প্রসূতি মায়েরা উপজেলা কিংবা জেলা সদরের হাসপাতালে দ্রুত সেবা গ্রহনের জন্য যেতে পারবে এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর যাতায়তে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে। এত গ্রামের আর্থ সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন হবে।
ব্রীজ নির্মান কাজের তত্ববধায়ক রাজৈর উপজেলার উপ-প্রকৌশলীমোঃ মোশাররফ হোসেন বলেন, ব্রীজটি হওয়ায় অত্র এলাকার মানুষের আত্ম-কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে যা তাদের ভাগ্য’র ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটবে।
মাদারীপুর স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী বাবুল আক্তার বলেন, ব্রীজটি নিমার্নের ফলে প্রায় ২০-২৫ কিরোমিটার পথ না ঘুরে সহজেই শিবচর হয়ে পদ্মসেতু পার হয়ে ঢাকা যাওয়া যাবে। এ ছাড়াও বীজটির কারণে এরাকার কৃষক, শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীরা খুবই উপকৃত হবেন যা দেশের অর্থনীতি বড় ধরনের অবদান রাখবেন বলে জানালেন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের শীর্ষ এ কর্মকর্তা।
মাদারীপুর সদর উপজেলার শ্রনদী জিসি থেকে কবিরাজপুর জিসি সড়কে কুমার নদের উপর দীর্ঘ ব্রীজ নিমার্ হওয়ায় পাল্টে যাবে প্রত্যন্ত জনপদের দৃশ্যপট, কৃষক পাবে তার ফসলের ন্যায্য মূল্য, ভোগান্তি কমবে শিক্ষাথর্ীদের, প্রসার ঘটবে ব্যবসা-বানিজ্যে, সহজ হবে যাতায়ত ব্যবস্থা,উন্নত হবে মানুষের জীবন যাত্রার মান।