চলতি বছরের জুনে খুলে দেয়া হবে স্বপ্নের পদ্মা সেতু। পদ্মা সেতু এখন আর স্বপ্ন নয়-এমন খবরে সেতুটি একনজর দেখার জন্য ছুটে আসছেন দর্শনার্থীরা। কিন্তু নিরাপত্তার কথা ভেবে সেতু তো দূরের কথা সেতু এলাকার মধ্যেও ঢুকতে বাধা দিচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পরে দর্শনাথীরা সেতুর সংযোগ সড়ক রেল প্রকল্প ও ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপেসওয়েতে সময় কাটিয়ে আবার যার যার গন্তব্যস্থলে ফিরে যাচ্ছেন। তবুও যেন সবার চোখে মুখে প্রশান্তির হাসি। দূর থেকেই পদ্মা সেতুর সাথে সেলফি তুলে আত্মার শান্তি যোগাচ্ছেন দর্শনার্থীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, স্বপ্নের পদ্মা সেতুর সব স্প্যান বসানোর পর সেতুর কার্পেটিং চলছে। বাকি কাজ শেষ করে আগামী জুনেই সেতুটি চালু হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এই বহুল প্রতীক্ষিত সাফল্য দেখার জন্য শুক্রবারসহ ছুটির দিনগুলোতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বাস, প্রাইভেটকার, মোটরসাইকেল, মাইক্রোসহ বিভিন্ন যানবাহনে চড়ে শত শত লোক ছুটে আসছেন। তবে নিরাপত্তার কারণে সেনা সদস্যরা প্রকল্প এলাকাসহ স্বপ্নের সেতুর কাছে বা ভেতরে কাউকে প্রবেশ করতে দিচ্ছেন না। যারা ভাড়া করে ট্রলার নিয়ে আসেন তারাও সেতুর কাছাকাছি যেতে পারেন না সেনাবাহিনীর বাধার কারণে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর শরীয়তপুরের জাজিরাপ্রান্তের নাওডোবায় ৩৭ ও ৩৮ নম্বর পিলারের উপর প্রথম স্প্যান বসানো হয়। ৩ বছর পর মুন্সীগঞ্জের মাওয়াপ্রান্তে ১২ ও ১৩ নম্বর পিলারের উপর সর্বশেষ স্প্যানটি বসানোর মধ্য দিয়ে ৬.১৫ কিলোমিটার সেতুই দৃশ্যমান হয়। এখন চলছে সেতুর প্রথমতলার রেলওয়ে স্ল্যাব এবং দ্বিতীয়তলায় রোডওয়ে স্ল্যাব বসানোর কাজ।
যশোর থেকে আসা ব্যবসায়ী লুৎফর রহমান জানান, আজ সকালে পুরো পরিবার নিয়ে পদ্মা সেতু দেখতে চলে আসি; কিন্তু সেনাবাহিনীর লোকজন ভেতরে প্রবেশ করতে দিচ্ছেন না। তাই দূর থেকেই পদ্মা সেতু দেখে মনের তৃপ্তি জোগালাম। এখন পদ্মাপাড়ের হোটেলে খাওয়া-দাওয়া করে চলে যাব।
স্থানীয় বাসিন্দা তারেক রহমান বলেন, ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে পদ্মা সেতু দেখার জন্য পদ্মাপাড়ে সাধারণ লোকজন আসছেন। তাদের মধ্যে আনন্দ দেখা যাচ্ছে। স্থানীয় লোকজনের মধ্যেও খুশির বন্যা বইছে।
শিবচর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান বিএম আতাউর রহমান বলেন, স্বপ্নের পদ্মা সেতু হলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের আর্থ-সামাজিক অবস্থা ও জীবন-জীবিকা বদলে যাবে। পদ্মাপাড়ের মানুষের অনেক আবেগ ও ভালোবাসা জড়িয়ে আছে এ সেতুতে। তাই সেতুটি দৃশ্যমান হওয়ায় পদ্মাপাড়ে মানুষ ও দর্শনার্থীদের ভিড়। আগামী জুনে সেতুটি উদ্বোধন হওয়ার অপেক্ষায়।