শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬

১০ আশ্বিন ১৪৩৩

সরকার অনুমোদিত অনলাইন গণমাধ্যম
BD.GOV.REG.NO-88

শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬

১০ আশ্বিন ১৪৩৩

সরকার অনুমোদিত অনলাইন গণমাধ্যম
BD.GOV.REG.NO-88

আপনি পড়ছেন : চুয়াডাঙ্গা

শীতে কাঁপছে চুয়াডাঙ্গা


সালাউদ্দীন কাজল, চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি
DhakaReport24.com || 2024-01-12 13:19:15
শীতে কাঁপছে চুয়াডাঙ্গা

শীতে বিপর্যস্ত চুয়াডাঙ্গার জনজীবন। তাপমাত্রা কম থাকায় শীত বেশি অনুভূত হচ্ছে। আজ শুক্রবার (১২ জানুয়ারি) সকাল ৬টায় জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা আজও সারা দেশের মধ্যে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা চুয়াডাঙ্গায়। এর আগে বৃহস্পতিবারও (১১ জানুয়ারি) দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল চুয়াডাঙ্গায় ১০ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। 

চুয়াডাঙ্গা জেলা আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, হিমেল বাতাসের কারণে শীত অনুভূত হচ্ছে বেশি। জেলায় আজ সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসের আদ্রতা ৯৪ শতাংশ। স্থানীয়রা জানান, শীতে কর্মজীবী মানুষদের বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে। কাজের সন্ধানে শীত উপেক্ষা করে বাইরে বের হতে হচ্ছে তাদের। খেটে খাওয়া ও দিনমজুর মানুষ ছাড়া সড়কে মানুষের উপস্থিতি একেবারে কম। তীব্র শীতের কারণে প্রয়োজন ছাড়া কেউ বাড়ির বাইরে বের হচ্ছেন না। সড়কে হেডলাইট জ্বালিয়ে যান চলাচল করছে। সারাদিনে ১ ঘন্টার জন্যও সূর্যের দেখা মিলছে না। 

এদিকে হাসপাতালগুলোতে বেড়েছে শীতজনিত বিভিন্ন রোগীর সংখ্যা। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা আক্রান্ত হচ্ছেন বেশি। তাপমাত্রা কমে যাওয়ার কারণে দুর্ভোগ বেড়ে গেছে মানুষের। বিশেষ করে দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষ বিপাকে পড়েছেন। ইটভাটার শ্রমিক শাহাবউদ্দিন বলেন, ভোরে কাজে আসতে হয়। কাদামাটির কাজ করতে হয়। প্রচণ্ড শীতে হাত-পা বরফ হয়ে যায়।

পরিবহন শ্রমিক আজাদ মিয়া বলেন, আমরা খেটে খাওয়া মানুষ । প্রতিদিন কাজ না করলে সংসার চলে না। কয়েকদিন যাবত অতিরিক্ত কুয়াশা ও প্রচণ্ড ঠান্ডা বাতাসের কারণে কাজে যেতে কষ্ট হচ্ছে। আয়-রোজগারও কমে গেছে। চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার গুলশান পাড়ার রিকশা চালক আলী হোসেন বলেন, পেটের তাগিদে শীতের সকালে রিকশা নিয়ে বাইরে বের হতে হয়। কাজ না করলে বাজার খরচ মেটানো কষ্টকর হয়ে পড়ে। সকালে রাস্তায় মানুষের উপস্থিতি কম থাকায় ভাড়া নেই বললেই চলে।

চুয়াডাঙ্গার সড়াবাড়িয়া গ্রামের কৃষক জামাল হোসেন বলেন, ভোরে মাঠ থেকে সবজি তুলে বাজারে বিক্রি করতে আসতে হয়। কুয়াশার পানি যেন বরফের মতো ঠান্ডা। সকালে কাজ করা খুবই কষ্টের। জীবননগর উপজেলার উথলী গ্রামের চা দোকানি টেনু মিয়া জানান, ভোরে দোকান খুলতে হয় চা বিক্রির জন্য। চায়ের দোকানে পানির কাজ বেশি। ভোর থেকে মানুষের উপস্থিতি কম থাকায় বিক্রিও কম। উথলী গ্রামের শিক্ষক আমিনুল ইসলাম বলেন, বেশ কয়েকটি গরম কাপড় পরিধান করার পরও শীত ঠেকানো যাচ্ছে না। রাতে কম্বল ব্যবহার করেও শীত ঠেকানো যাচ্ছে না। শীতের কারণে চলাচল করাও বেশ কঠিন হয়ে পড়ছে। চুয়াডাঙ্গায় শীতের সময় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। আর গরমে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়।

চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিসের সিনিয়র পর্যবেক্ষক রকিবুল হাসান বলেন, বেশ কিছু দিন ধরে জেলায় ১০-১২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে তাপমাত্রা ওঠানামা করছে। বিকেল থেকে ঠান্ডা বাতাস বইতে শুরু করে। ঠান্ডা বাতাস ও কুয়াশার কারণে শীত বেশি অনুভূত হচ্ছে। শুক্রবার সকাল ৯ টার সময় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা দেশের মধ্যে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা।
ঢাকারিপোর্ট২৪.কম/এমআর/আরএএম