চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা উপজেলার বগাদী গ্রামে প্রেমের টানে আত্মহত্যা করেছে অষ্টম শ্রেণীতে পড়ুয়া এক মাদ্রাসা ছাত্রী। গতকাল শনিবার বেলা ১২টার সময় দুর্লভপুরে নানার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
কিশোরীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, আলমডাঙ্গা উপজেলা ভাংবাড়িয়া ইউনিয়নের বগাদি গ্রামে আসমান আলীর কন্যা আজমিরা খাতুন (১৫)শ্যামপুর মাদ্রাসার অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী ছিলেন। ছোটবেলা থেকেই আজমিরার পিতা-মাতা অত্যন্ত গরিব হওয়ায় তিনি নানার বাড়ি দুর্লভপুরে লালন পালন হয়ে আসছে। বিদ্যা অর্জনের জন্য তাকে শ্যামপুর মাদ্রাসায় ভর্তি করে দেওয়া হয়।পড়াশুনাকালে একই মাদ্রাসায় দশম শ্রেণীর ছাত্র রাতুলের সাথে তার প্রেম সম্পর্কে গড়ে ওঠে। অনেকদিন যাবত তাদের প্রেমের সম্পর্ক চলতে থাকে।দিন যত যাই আস্তে আস্তে গভীর থেকে গভীরতম হতে থাকে তাদের সম্পর্ক। এরই মধ্যে আজমিরার নানাবাড়ি থেকে রাতুলকে একাধিকবার তার সাথে যোগাযোগ করতে নিষেধ করার পরেও বিভিন্নভাবে যোগাযোগ করে আসতেছিল। গত চারদিন আগে রাতুল এবং আজমিরার মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হলে আজমিরা তার প্রেমের প্রতিদান হিসেবে হাত কেটে ক্ষতবিক্ষত করে। এতেই শান্ত হয়নি আজমিরা শেষমেষ প্রেমের প্রতিদান হিসেবে শনিবার বেলা ১২টার সময় বিষপান করে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধার পরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হারদী নিয়ে যাওয়ার পথিমধ্যে তার মৃত্যু ঘটে।
আজমিরার খালা জানান রাতুলের বিরুদ্ধে আলমডাঙ্গা থানায় মামলা করার প্রস্তুতি চলছে। উল্লেখ্য যে রাতুল একই উপজেলা কাঠাভাঙ্গা গ্রামে শফি উদ্দিনের ছেলে।
এদিকে রাতুল পলাতক থাকায় রাতুলের পিতার সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান গত দুই মাস আগে আমার ছেলের ফোনে ফোন দেয় আজমিরা। আমি রিসিভ করলে বান্ধবী বলে পরিচয় দেয় । প্রায়ই ফোনে কথা বলতো তবে কি কারণে আত্মহত্যা করেছে সেটা আমি জানিনা।
এ বিষয়ে আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ বিপ্লব কুমার নাথ বলেন,আত্মহত্যার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে পুলিশ লাশের সুরতাল রিপোর্ট সংগ্রহ করেছে, কিশোরীর লাশ ময়নাতদন্তের জন্য আগামীকাল চুয়াডাঙ্গা মর্গে পাঠানো হবে।এ বিষয়ে আলমডাঙ্গা থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে । মৃত্যুর সঠিক কারণ ময়নাতদন্ত রিপোর্ট হাতে পেলে জানা যাবে।
ঢাকারিপোর্ট২৪.কম/জাক/আরএএম