শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬

১০ আশ্বিন ১৪৩৩

সরকার অনুমোদিত অনলাইন গণমাধ্যম
BD.GOV.REG.NO-88

শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬

১০ আশ্বিন ১৪৩৩

সরকার অনুমোদিত অনলাইন গণমাধ্যম
BD.GOV.REG.NO-88

আপনি পড়ছেন : চুয়াডাঙ্গা

প্রেমের টানে চীন থেকে এসে চুয়াডাঙ্গার তরুণীকে বিয়ে


সালাউদ্দীন কাজল, জীবননগর প্রতিনিধি
DhakaReport24.com || 2023-07-13 16:38:00
প্রেমের টানে চীন থেকে এসে চুয়াডাঙ্গার তরুণীকে বিয়ে

প্রেম মানে না কোনো জাত, কূল বা ভৌগলিক সীমারেখা। তারই প্রমাণ দিলেন চীন থেকে বাংলাদেশে ছুটে আসা সাউই চুই (২৮)। চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার সীমান্ত ইউনিয়নের গয়েশপুর গ্রামের ফারিয়া সুলতানাকে (২৫) বিয়ে করেছেন তিনি। ওই গ্রামের দিনমজুর সানোয়ার হোসেনের মেয়ে ফারিয়া। গত ঈদুল আজহার পরদিন ঢাকায় তাদের বিয়ে হয়। এরপর গত সোমবার শ্বশুরবাড়িতে যান সাউই চুই। বিয়ের বিষয়টি এলাকায় বুধবার জানাজানি হয়।বৃহস্পতিবার সকালে স্বামী-স্ত্রী দু'জনে ঢাকায় গেছেন। 

ফারিয়া সুলতানার পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ফারিয়া গার্মেন্টসে চাকরির সুবাদে কয়েক বছর ধরে ঢাকায় থাকেন। এর মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে চীনা নাগরিক সাউই চুইয়ের সঙ্গে তার পরিচয় ও প্রেম হয়। এরই এক পর্যায়ে চুই চীন থেকে ঢাকায় এসে ফারিয়ার সঙ্গে দেখা করেন। পরে গত ঈদের পরদিন তারা বিয়ে করেন। চুইয়ের এক বোন ঢাকায় গার্মেন্টসের ব্যবসা করেন। সেই বোনের উপস্থিতিতেই তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের সময় ওই চীনা নাগরিক ইসলামধর্ম গ্রহণ করেন। তার নাম এখন মো. আব্দুল্লাহ।

ফারিয়ার বাবা সানোয়ার হোসেন বলেন, মোবাইল ফোনের মাধ্যমে আমার মেয়ের সঙ্গে চীনের ওই ছেলের পরিচয় হয়। পরিচয় হওয়ার পর ওই ছেলে আমার মেয়েকে বিয়ে করতে চাইলে আমরা তাকে আমাদের দেশে আসতে বলি এবং সব আইন মেনে বিয়ে দিয়েছি। যদিও তারা প্রথমে ঢাকায় বিয়ে করে। পরে গ্রামে আসার পর আমরা অনুষ্ঠান করেছি।
ফারিয়ার মা আনজু খাতুন বলেন, জামাই অনেক ভালো ও শান্ত স্বভাবের। আমার মেয়েকে চীনে নিয়ে যাওয়ার কথা বলছে।

ফারিয়া বলেন, সাউই চুইয়ের সঙ্গে আমার ফেসবুকে পরিচয় হয়। পরে পরিবারের সবারই পছন্দ হয়। আমার পরিবার রাজি থাকায় প্রায় আট মাস উই চ্যাটের মাধ্যমে আমাদের উভয়ের কথা হতো। সাউই চুই আমাকে কিছু ভাষা শিখিয়ে দিয়েছিলেন। সেগুলো দিয়ে তার সঙ্গে আমি কথা বলি। ২০ দিন আগে আমাদের বিয়ে হয়। তিনি অনেক ভালো মনের মানুষ। তিনি সবকিছু মানিয়ে নিতে চেষ্টা করছেন। নববধূ বলেন, চীনা ভাষা শিখতে আমার আরও সময় লাগবে। আমি চেষ্টা করছি। কিছুদিনের মধ্যে সব প্রক্রিয়া শেষ করে আমাকে চীনে নিয়ে যাবেন। আমার এক ননদ ঢাকায় থাকেন। তিনি গার্মেন্টসের ব্যবসা করেন। আমি ও চুই চীন থেকে আবার আসবো। এদেশে ওনার ব্যবসা করার ইচ্ছে আছে। আমাকে বিয়ের আগে উনি ইসলাম ধর্মগ্রহণ করেছেন। ওনার নাম এখন আব্দুল্লাহ। তিনি আরও বলেন, উনি অল্প কিছু বাংলা বুঝতে পারেন। তাছাড়া আমরা গুগল ট্রান্সলেটর ব্যবহার করে কথা বলি। খুব দ্রুত চীনা ভাষা শিখে যাবো।

সীমান্ত ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইসাবুল ইসলাম মিল্টন বলেন, চীন থেকে এসে এক যুবক গয়েশপুর গ্রামের একটি মেয়েকে বিয়ে করেছে। এটা আমি শুনেছি এবং ছেলেটাকে দেখতে প্রতিদিন তার বাড়িতে মানুষ ভিড় করছে।

জীবননগর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাসির উদ্দিন মৃধা বলেন, চীনের এক নাগরিক জীবননগর উপজেলার গয়েশপুর গ্রামে এসে একটি মেয়েকে বিয়ে করেছে। তাদের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়েছে। তাদের সার্বিক নিরাপত্তা দেয়া হয়েছে।
ঢাকারিপোর্ট২৪.কম/জাক/আরএএম