সাতক্ষীরার শ্যামনগরে আদালতের নির্দেশ অমান্য করে নিজের প্রভাব খাটিয়ে অন্যর জমি দখল করে নিয়ে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করেছেন ইউপি সদস্য।
আদালতের নির্দেশ অমান্যকারী শোকর আলী শ্যামনগর উপজেলার খানপুর গ্রামের হোসেন গাজীর ছেলে ও ভুরুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ৭ ওয়ার্ডের সদস্য।তার বিরুদ্ধে হত্যা নাশকতাসহ শ্যামনগর থানায় একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় আজিবর রহমান, রফিকুল ইসলাম, আরিফুল ইসলামসহ অনেকে জানান, খানপুর ইছাকুর মৌজায় কালিগঞ্জ উপজেলার মৌতলা গ্রামের মৃত কাজী আছাদুল ইসলামের ১ একর ৫৫ শতক জমি রয়েছে। দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে তিনি ভোগ দখল করে আসছিলেন। গত ৪ বছর আগে আছাদুল ইসলামের মৃত্যুর পর থেকে তার পরিবার ওই জমি ভোগ করছেন। কয়েক মাস আগে অর্ধেক জমির মালিকানা দাবি করেন আছাদুল ইসলামের ছোট ভাই আখেরুল ইসলাম। তিনি জমির মালিক দাবি করলেও স্থানীয় শালিসে তিনি তার নামের কোন দলিল দেখাতে পারেনি। পরবর্তীতে আখেরুল ইসলাম ওই জমি নিজের নামে রেকর্ড করে নেন। জমি দখল না পেয়ে ইউপি সদস্য শোকর আলীর কাছে বিক্রি করে দেন তিনি। তবে জালিয়াতির মাধ্যমে দলিল করায় কাজী সাঈদ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেন। বর্তমানে ওই মামলা দূর্নীতি দমন কমিশনের অধিনে তদন্তনাধীন রয়েছে।
এদিকে জমি কিনে শুকুর আলী নিজের সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে দখল করতে মরিয়া হয়ে ওঠেন। উপায় না দেখে মৃত কাজী আছাদুল ইসলামের ছেলে কাজী আবু সাঈদ বাদী হয়ে আদালতে ১৪৫ ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন। আদালত ওই জমির স্থিতিশীল বজায় রাখার জন্য গত ( ১৬ মে ) শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জকে নির্দেশ প্রদান করেন। আদালত নির্দেশ হাতে পেয়েই ওই দিন রাতে লাঠিয়াল বাহিনী নিয়ে আঁধারে জমিতে ছাপরা ঘর নির্মাণ করেন হত্যা মামলার আসামি শোকর আলী। ওই ঘরে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তার ভাড়াটে পেটুয়া বাহিনী পাহাড়ায় নিযুক্ত রেখেছেন তিনি। এসময় থানা পুলিশকে অবহিত করেন আবু সাঈদ। কিন্তু কোন লাভ হয়নি তাতে থানা পুলিশ আইন আদালত কিছু মানেননা ইউপি সদস্য শোকর আলী।
গত (২১ মে) আদালত শোকর আলীকে ওই জমিতে না যাওয়ার জন্য নির্দেশ দেন। এছাড়া অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করার জন্য শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জকে নির্দেশ প্রদান করেন।
জমির মালিক মৃত আছাদুল ইসলামের ছেলে আবু সাঈদ জানান,আদালত অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের নির্দেশ দিলেও আজ পর্যন্ত বাস্তবায়ন করতে পারেনি শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ। হত্যা মামলার আসামি ইউপি সদস্য শোকর আলীর কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে প্রশাসন। আদালতকে বৃদ্ধা আঙুল দেখিয়ে এখনো আমার পৈতৃক সম্পত্তি দখল করে রেখেছে সে। প্রশাসনসহ স্থানীয় নেতাদের ম্যানেজ করে আমার পৈতৃক সম্পত্তি অবৈধভাবে দখল করে রেখেছে সন্ত্রাসী শোকর আলী।
শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ নুরুল ইসলাম বাদল বলেন, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী শোকর আলীকে ওই জমিতে না যাওয়ার জন্য বলা হয়েছে। যদি কোন ব্যক্তি আদালতের নির্দেশ অমান্য করেন তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে জানান তিনি।
ঢাকারিপোর্ট২৪.কম/টিএএস/আরএএম