শুক্রবার, অক্টোবর ৯, ২০২৬

২৪ আশ্বিন ১৪৩৩

সরকার অনুমোদিত অনলাইন গণমাধ্যম
BD.GOV.REG.NO-88

শুক্রবার, অক্টোবর ৯, ২০২৬

২৪ আশ্বিন ১৪৩৩

সরকার অনুমোদিত অনলাইন গণমাধ্যম
BD.GOV.REG.NO-88

আপনি পড়ছেন : বিশ্ব

নাভি পিল্লাইর নোবেল জয়ের পরপরই আইসিসির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা


DhakaReport24.com || 2026-10-09
নাভি পিল্লাইর নোবেল জয়ের পরপরই আইসিসির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা

নোবেল শান্তি পুরস্কার ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। শুক্রবারের এ পদক্ষেপে ইউরোপীয় মিত্রদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক বিরোধ আরো বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের সাবেক বিচারক দক্ষিণ আফ্রিকার আইন বিশেষজ্ঞ নাভি পিল্লাই শুক্রবার নোবেল শান্তি পুরস্কার পান। আন্তর্জাতিক অপরাধবিচারে তার অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এ পুরস্কার দেওয়া হয়। ২০০৩ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত আইসিসির আপিল বিভাগে বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন নাভি পিল্লে।

এদিকে দীর্ঘদিন ধরেই আইসিসির বিরোধিতা করে আসছে ট্রাম্প প্রশাসন।

এর আগে আদালতের কৌঁসুলি ও বিচারকদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল ওয়াশিংটন। তবে এবারের পদক্ষেপের আওতায় আদালতকে সেবা দেওয়া বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ওপরও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। এমন তথ্য উঠে এসেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক বিশেষ প্রতিবেদনে।


মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এক বিবৃতিতে বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কখনোই আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতকে মার্কিন নাগরিকদের বিচার করতে দেবেন না।


এ কারণেই আজ যুক্তরাষ্ট্র আইসিসির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছে। এই দুর্বৃত্ত আদালতের সঙ্গে লেনদেন বন্ধ করে এর সম্পদ ও কার্যক্রম পরিচালনার সক্ষমতা সংকুচিত করা হবে।’


রয়টার্স বলছে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুসহ দেশটির কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইসিসির গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষুব্ধ যুক্তরাষ্ট্র। এ ছাড়া আফগানিস্তানে মার্কিন সেনাদের কর্মকাণ্ড নিয়ে আদালতের একটি তদন্ত নিয়েও ওয়াশিংটনের আপত্তি ছিল। ওই তদন্ত পরে বন্ধ করে দেয় আইসিসি।


২০০২ সালে যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার বিচার করার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত আদালটির সদস্যরাষ্ট্র ১২৫টি। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সব দেশ এবং যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্ক ছাড়া ন্যাটো জোটের সব সদস্য দেশ এই আদালতের সদস্য। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ মিত্রদের অনেকে আইসিসির প্রতি সমর্থন দিয়ে আসছে। এর মধ্যে আদালটির সদর দপ্তর নেদারল্যান্ডসে, যা ইইউ ও ন্যাটোর সদস্য।


রুবিও আরো বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ নিরসনে আইসিসি ও এর সদস্যরাষ্ট্রগুলোকে সুযোগ দিতেই নিষেধাজ্ঞা আরোপে দেরি করা হয়েছিল। কিন্তু তারা সে সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়েছে।’


এই আদালতকে নিয়ন্ত্রণে আনতে যুক্তরাষ্ট্র তার মিত্রদেরও পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে উল্লেখ করে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘হয় আইসিসিকে তার হুমকি বন্ধ করতে হবে, নয়তো আমরা আইসিসির কার্যক্রম বন্ধ করে দেব।’


তবে এই নিষেধাজ্ঞা বিস্তারিত প্রকাশ না করলেও মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, মার্কিন স্বার্থ সুরক্ষায় দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয় কিছু লাইসেন্স দেবে। এর মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা কিছু কার্যক্রমে সাময়িক ছাড় দেওয়া হতে পারে।


যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা সাধারণত দেশটির প্রতিষ্ঠানগুলোকে সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে কাজ করা থেকে বিরত রাখে। এতে ব্যাংক হিসাব বন্ধ, বীমা সেবা প্রত্যাহার এবং সফটওয়্যার-সংক্রান্ত সহযোগিতা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।


এদিকে নিষেধাজ্ঞার আশঙ্কায় আইসিসি গত কয়েক মাস ধরে প্রস্তুতি নিচ্ছিল। তারই অংশ হিসেবে আদালতটি মাইক্রোসফটের সফটওয়্যারের বদলে উন্মুক্ত সফটওয়্যার ব্যবহারের উদ্যোগ নিয়েছে এবং ব্যাংকিং ও স্বাস্থ্যবীমার বিকল্প ব্যবস্থাও করেছে। আদালতের রেজিস্ট্রার ওসভালদো জাভালা গিলার ইউরোপীয় ইউনিয়নকে নিষেধাজ্ঞার বহির্দেশীয় প্রভাব থেকে সদস্য দেশগুলোকে সুরক্ষা দিতে ‘ব্লকিং ব্যবস্থা’ চালুর প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।


নোবেল কমিটি পুরস্কার ঘোষণার সময় বলেছিল, আন্তর্জাতিক আইনের বিচারক ও প্রতিষ্ঠানগুলো যখন রাজনৈতিক আক্রমণের মুখে, তখন এ পুরস্কার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্মারক। কমিটির ভাষ্য, যুদ্ধাপরাধীদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা শান্তিপূর্ণ বিশ্বের পূর্বশর্ত।

ঢাকারিপোর্ট২৪.কম/জাক/আরএএম