ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে আগামী ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠেয় যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানে নতুন করে হামলা চালানো হবে না বলে জানিয়েছেন তিনি।
তবে এ ঘোষণার মধ্যেই হরমুজ প্রণালীর দক্ষিণাঞ্চলে বড় ধরনের বিস্ফোরণের খবর সামনে এসেছে। এতে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথের নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ট্রাম্প জানান, ইরানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের ‘ফলপ্রসূ আলোচনা’ চলছে। নির্বাচনের আগে ইরানে হামলা না চালানোর ঘোষণার মধ্য দিয়ে তিনি সামরিক উত্তেজনা আপাতত বাড়ানোর পথে না যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তবে দুই দেশের মধ্যে চলমান সংঘাতের স্থায়ী সমাধান নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনো কাটেনি।
এদিকে, ইরানের সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজ এজেন্সির বরাতে হরমুজ প্রণালীর দক্ষিণাঞ্চলে ‘ব্যাপক বিস্ফোরণের’ খবর প্রকাশিত হয়েছে। প্রাথমিকভাবে বলা হয়েছে, অনুমোদিত পথের বাইরে চলাচলকারী একটি তেলবাহী ট্যাংকার সমুদ্রের মাইনে আঘাত করে থাকতে পারে। তবে ঘটনার বিস্তারিত, জাহাজটির পরিচয় এবং হতাহতের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালী ঘিরে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি আন্তর্জাতিক বাজারেও প্রভাব ফেলছে। ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান সংঘাত, জাহাজ চলাচলে বাধা এবং তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে।
বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ৪ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১০৪ দশমিক ২৮ ডলারে পৌঁছায়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআই অপরিশোধিত তেলের দাম ৩ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ৯১ দশমিক ৪৯ ডলারে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তাকে এই মূল্যবৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি পরিবহন করা হয়। ফলে এই নৌপথে সংঘাত বা জাহাজ চলাচলে বড় ধরনের বিঘ্ন দেখা দিলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল সরবরাহের ওপর চাপ তৈরি হতে পারে। সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে জাহাজের নিরাপত্তা এবং জ্বালানি পরিবহনের ধারাবাহিকতা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে।
ঢাকারিপোর্ট২৪.কম/জাক/আরএএম