একটা সময় দরিদ্রতার কশাঘাতে জর্জরিত ছিল ফুলমতি রবিদাসের পরিবার। স্বামীর জুতো সেলাইয়ের উপার্জনে কোনোমতে সংসার চালানোর পাশাপাশি চার সন্তানকে লালন পালন করেছেন। তবে ছোটবেলা থেকেই অভাবের সঙ্গে বেড়ে ওঠা সন্তানরা পারিবারিক পেশা বাদ দিয়ে বেছে নেন ফ্রিল্যান্সের পেশা। দূর হয় সংসারের অভাব।
ফুলমতি রবিদাস একে একে বিয়ে দেন মেয়ে ও বড় ছেলের। তিলে তিলে গড়ে তোলা সংসারে আনন্দের সীমা ছিল না। এর মধ্যে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান স্বামী অনন্ত রবিদাস। স্বামীর মৃত্যুশোক সামলিয়ে মেজো ছেলে উজ্জ্বলের বিয়ে ঠিক করেন। ইচ্ছা ছিল নতুন বউ ঘরে এলে সংসারের দায়িত্ব বুঝিয়ে দেবেন।
কিন্তু সেই ইচ্ছে আর পূরণ হলো না ফুলমতি রবিদাসের। রোববার ছেলের বিয়ের দিনই ফ্যানের সুইচ দিতে গিয়ে বিদ্যুতায়িত হয়ে মারা গেলেন ফুলমতি রবিদাস। বিয়ে করার জন্য ছেলে যখন নতুন শ্বশুরবাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন তখন বাড়ির করিডোরে ফুলমতি রবিদাসের নিথর দেহের পাশে ছিল স্বজনদের আহাজারি। এমনই এক মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে পাবনার চাটমোহর উপজেলার বিলচলন ইউনিয়নের বোঁথড় চড়কবাড়ি এলাকায়।
সরেজমিন জানা যায়, ফুলমতির মেজো ছেলে উজ্জ্বল বিয়ে করার উদ্দেশে রোববার সন্ধ্যা ৭টায় মায়ের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে বগুড়া জেলার নন্দীগ্রাম উপজেলার কড়ির হাটে গ্রামে রওনা দেন। বাড়িতে হাতেগোনা কয়েকজন ছাড়া কেউই ছিলেন না। ছেলে ও বরযাত্রীদের বিদায় দেওয়ার পর ঘরে ফিরে ফ্যানের সুইচ দিতে গিয়ে বিদ্যুতায়িত হন ফুলমতি রবিদাস। স্বজনরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ফুলমতিকে মৃত ঘোষণা করেন। বিয়েবাড়ি মুহূর্তেই বিষাদে পরিণত হয়।
এদিকে তখনো বিয়ে করতে যাওয়া উজ্জ্বল জানে না তার মা এই পৃথিবীতে আর নেই। রাত ১২টায় বিয়ে সম্পন্ন হওয়ার পর উজ্জ্বলকে ঘটনাটি জানান স্বজনরা। নতুন বউকে নিয়ে রাতেই ফিরে আসেন বাড়িতে। মায়ের মরা মুখ দেখে নিজেকে সামলাতে পারছিলেন না উজ্জ্বল ও নববধূসহ সবাই। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে চাটমোহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম রেজা যুগান্তরকে জানান, ফ্যানের সুইচ দিতে গিয়ে বিদ্যুতায়িত হয়ে ফুলমতি রবিদাস নামের এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। শোনার পর ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। ছেলের বিয়ের দিনে মায়ের মৃত্যুর বিষয় খুবই কষ্টদায়ক।
ঢাকারিপোর্ট২৪.কম/টিএএস/আরএএম