পাবনায় তিন মাস ধরে নেই ছাত্রলীগের জেলা কমিটি। গত (১৬ এপ্রিল) ও পাবিপ্রবিতে (১৭ এপ্রিল) দায়িত্ব প্রাপ্ত কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক প্রার্থীদের জীবন বৃত্তান্ত জমা নেন।
জীবন বৃত্তান্ত নেওয়ার তিন মাসের বেশি সময় অতিক্রম করলেও কমিটি নিয়ে নেই কোন আলোচনা। দীর্ঘ চার বছর পর পাবনা জেলা ছাত্রলীগের নতুন কমিটি দেখার আশায় তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা।
পাবনায় শেষ ২০১৮ সালে সম্মেলনের মাধ্যেমে জেলা ছাত্রলীগের কমিটি হয়েছে। এইবার প্রেস কমিটি হবে এমনই বলছে জেলার নেতা কর্মীরা। তবে সম্মেলনের কোন নির্দেশনা দেয়নি কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ।
কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারাণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যের স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে গত ১১ এপ্রিল (সোমবার) পাবনা জেলা ছাত্রলীগ ও পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। চার বছর পর পাবনা জেলা পাবে ছাত্রলীগের নতুন অভিভাবক।
এই বিষয়ে জেলার এবং পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে একাধিক ছাত্রনেতা বলেন, তিন মাস পেরেয়ে গেলেও কমিটি না হওয়ায় আমরা কিছুটা হতাশ। এত সময় কেন নিচ্ছে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ আমরা সেটা বুঝতে পারছিনা। কমিটি বিহীন জেলা এবং পাবিপ্রবি ছাত্রলীগ। ছাত্ররাজনীতির ধারাবাহিকতা ক্রমেই অপরিবর্তিত হচ্ছে।
সভাপতি এবং সাধারন সম্পাদক পদে মোট জীবন বৃত্তান্ত জমা দিয়ছেন জেলায় ৪০ জন এবং পাবিপ্রবিতে ৪৩ জন ছাত্রনেতা। জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি পদে এবার আলোচনায় আছেন, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক প্রতিষ্ঠাতা আহবায়ক মিজানুর রহমান সবুজ, পাবনা জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি মেহেদী হাসান, হাবিবুর রহমান রিংকু, শাওন রেজা খান।
সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় রয়েছে, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফরিদুল ইসলাম বাবু, পাবনা জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মুরাদ মালিথা, সানাউল্লাহ সানি, নিয়ন খান, সাইফুল ইসলাম খোকন, পাবনা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাশেদ, পাবিপ্রবি শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক তৌশিকুর রহমান রাভা।
পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে সভাপতি পদে আলোচনায় রয়েছে পাবিপ্রবি শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি মাহমুদুল হাসান, লিংকন হোসেন, সাবেক কার্যকারী সদস্য অলোক সরকার এবং সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় রয়েছে পাবিপ্রবি শাখা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ন-সাধারণ সম্পাদক নুরুল্লাহ ও সাবেক সহ্-সভাপতি মাহমুদ কামাল তুহিন, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম প্রান্ত।
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ২৮ জানুয়ারি পাবনা জেলায় ছাত্রলীগের সম্মেলনে শিবলী সদিককে সভাপতি এবং তাজুল ইসলাম কে সাধারণ সম্পাদক এবং পাবিপ্রবি শাখায় মাহমুদ চৌধুরী আসিফকে সভাপতি ও ফরিদুল ইসলাম বাবুকে সাধারণ সম্পাদক করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন কমিটি অনুমোদন দেয়।
এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের উপ-গ্রন্থনা ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক তন্ময় দেবনাথ ঢাকা রিপোর্ট ২৪. কমকে মুঠোফোনে বলেন, আমরা দ্রুত সময়ের মধ্যে সকল কমিটি দিবো। প্রকৃতিক দুর্যোগ কেটে গেলেই কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি আল-নাহিয়ান খান জয় ও সাধারাণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যের নির্দেশে কমিটির কার্যক্রম শুরু হবে। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ সকল জেলা এবং বিশ্ববিদ্যালয় কমিটির বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিবেন।
ঢাকারিপোর্ট২৪.কম/এএন/আরএএম