এশিয়া উপমহাদেশের মধ্যে সেরা সুতা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান পাবনা ক্যালিকো কটন মিল।
পাবনা-ঢাকা মহাসড়কের পাশে ১৯৬৬ সালে রাজাপুর গ্রামে প্রায় ৫০ একর জায়গার ওপর ইলিয়াস সাহেব ও রহমান সাহেবের যৌথ উদ্যোগে স্থাপন হয় ক্যালিকো কটন মিল। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরুর পূর্ব পর্যন্ত খুব ভালোভাবে চলতে থাকে মিলটি।
দেশ স্বাধীন হওয়ার পর প্রায় ৩ বছর বন্ধ থাকে মিল। পরবর্তী ১৯৭৪ সালে পুনরায় বাংলাদেশ সরকার ৪৯ শতাংশ এবং মালিকানায় ৫১ শতাংশের ভাগ নিয়ে আবার চালু হয়। প্রায় ৫-৭ হাজার শ্রমিক নিয়ে পুরোদমে চলতে থাকে এ মিলটি। শ্রমিক রাজনীতির কারণে মিলের উৎপাদন কম হতে থাকলে ক্ষতির দিকে পরে কর্তৃপক্ষ।
পরবর্তী শ্রমিক নির্বাচন নিয়ে তৈরি হয় দুটি গ্রুপ। একটি হল মৃত নজরুল ইসলাম নান্নুর গ্রুপ, অপরটি হলো মৃত খন্দকার মোহাম্মাদ আবুল বাশার গ্রুপ। দুটি গ্রুপের একটিকে সমর্থন করে ইলিয়াস সাহেব (বাশার গ্রুপ) ও অন্য গ্রুপকে সমর্থন করে রহমান সাহেব (নান্নু গ্রুপ)। যার ফলে বিকল অবস্থার দিকে অগ্রসর হতে থাকে মিলটি।
একটি সময় এসে দুটি গ্রুপের মারামারি শুরু হলে বাসার গ্রুপের কিয়াম উদ্দিন (৪০) নিহত হয়। এছাড়া উভয় গ্রুপের ২০ জন আহত হয়। এরপর দীর্ঘদিন বন্ধ থাকে মিলটি। ফলে শ্রমিকদের বেতন ভাতা বন্ধ হয়ে যায়।
তারপর থেকে আজও পর্যন্ত আর খুলেনি এ মিল। মিল চলাকালীন অগ্রণী ব্যাংকের কাছ থেকে ঋণ নেয় মিল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু ঋণ শোধ না হওয়াই আজ পর্যন্ত অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেডের আওতায় রয়েছে মিলটি।
নাম বলতে অনিচ্ছুক কয়েকজন বলেন, অগ্রণী ব্যাংকের আওতায় থাকলেও পার্শ্ববর্তী গ্রামের নেতাদের ছত্রছায়ায় থাকা কিছু অসাধু ব্যক্তি মিলের যাবতীয় মেশিন চুরি করে বিক্রি করে দেয়। কিছুদিন পূর্বে অগ্রণী ব্যাংকের কথা বলে একটি অসাধু চক্র মিলের সকল গাছ কেটে নিয়ে যায়। এছাড়া মিলের বাকি অংশ পরে থাকা ইটও তারা নিয়ে যায়। তৎকালীন মিলে যে সব শ্রমিকরা কাজ করেছে তাদের প্রায় শ্রমিক আজ আর বেঁচে নেই। আর যে সব শ্রমিক বেঁচে আছে তারা আজও মনে করে তাদের প্রাণের মিল পুনরায় আবার চালু হবে।
এলাকার তথ্যসূত্রে আরো জানা যায়, মিলের একটি বড় পুকুরসহ বিভিন্ন স্থান অত্র অঞ্চলের প্রভাবশালীদের অধীনে রয়েছে।
কয়েকদিন ধরে ক্যালিকো মিলের ম্যানেজারের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা যোগাযোগ করা যায়নি।
ঢাকারিপোর্ট২৪.কম/আরএ/আরএএম