পাবনা-ঢাকা মহাসড়কের পাশে সদর উপজেলার দোগাছী ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামে অবস্থিত পাবনা ক্যালিকো কঠন মিল। সুতা উৎপাদনে এশিয়া উপমহাদেশের মধ্যে ছিল সেরা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান।
১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি মাতৃভাষা বাংলার জন্য যারা শহীদ হয়েছিলেন তাদের স্মরণে এখানে নির্মিত হয় এ শহীদ মিনার। মিল চলাকালীন সময়ে ভাষা শহীদদের স্মরণে নির্মিত শহীদ মিনারটি যথাযথ সুন্দর ও নিয়মিত পরিচর্যা করা হতো।
কিন্তু বর্তমান শহিদ মিনারটিতে গরু, ছাগলের ঘাস খাওয়ার উপযুক্ত স্থানে রুপ নিয়েছে। অযত্নে অবহেলায় রয়েছে শহীদ মিনারটি। চারদিকে লতাপতায় ঢেঁকে আছে শহীদ মিনারের চারপাশ।
দীর্ঘ ২৭ বছর পর স্থানীয় সামাজিক সংগঠন নদিপ ফাউন্ডেশন ও পরিবেশ আন্দোলন মঞ্চের উদ্যোগে ২০২০ ও ২১ সালে নিজস্ব অর্থায়নে সংস্কার করে পরপর ২ বছর শহীদ মিনারটি পুনরায় চালু করে। কিন্তু সংগঠনের অর্থ সঙ্কট হওয়ায় নিয়মিত পরিচর্যা করতে পারছে না সংগঠনের সদস্যবৃন্দ।
এই বিষয়ে নদিপ ফাউন্ডেশনের বর্তমান সিনিয়র সহ্-সভাপতি দেলোয়ার হোসেন শুভ বলেন, আমরা নিজস্ব অর্থায়নে শহীদ মিনারটি পুনরায় চালু করেছিলাম। কিন্তু আমাদের অর্থনৈতিক সমস্যা থাকার কারণে শহীদ মিনারটি আর পরিচর্যা করতে পারছি না। সংগঠনের সকল সদস্য শিক্ষার্থী হওয়ায় অর্থ সমস্যায় আছি আমরা।
পরিবেশ আন্দোলন মঞ্চের পাবনা জেলা শাখার সদস্য-সচিব শেখ সোহেল রানা বলেন, আমাদের সংগঠনের সকল সদস্য বর্তমান শিক্ষার্থী। আমরা যতটুকু পেরেছি নিজেদের টাকা দিয়ে ভাষা শহীদের স্মরণে এটি যত্ন করার চেষ্টা করেছি। তিনি আরও বলেন, আমরা ভেবেছি আমাদের এই কাজ দেখে হয়তো সমাজের উচ্চবিত্ত মানুষ এগিয়ে আসবে। কিন্তু দুঃখের বিষয় কেউ আসে নাই।
অত্র এলাকার রফিক, নাজমুল, আশিক বলেন, মিল বন্ধ হয়েছে বিধায় কি আমাদের মাতৃভাষার জন্য যারা জীবন উৎসর্গ করেছে তাদের স্মরণে নির্মিত শহীদ মিনার অবহেলায় থাকবে? না থাকবে না, আমরা আবার চেষ্টা করে ইনশাআল্লাহ পুনরায় মিনারটি চালু করবো।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে অত্র ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য এস এম ওয়ারেস মুঠোফোনে বলেন, জয়গাটি মালিকানা হওয়ায় শহীদ মিনারটির এই অবস্থা। মালিক এই বিষয়ে খোঁজ খবর নেন না সম্ভবত। শহীদ মিনারটি আমাদের ভাষা শহীদের স্মরণে নির্মিত। আমি নিজ তদারকিতে ইনশাআল্লাহ ভাষা শহীদের স্মরণ করতে পুনরায় শহীদ মিনারটি স্বযত্নে রাখার চেষ্টা করবো।
ঢাকারিপোর্ট২৪.কম/আরএ/আরএএম