নীলফামারীর ডিমলায় তিস্তা নদীতে বালুমহাল খুলে দেওয়াসহ ৩ দফা দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও শ্রমিকেরা।
মঙ্গলবার (১১ মার্চ) দুপুরে নদীর পূর্ব ছাতনাই কলোনি বাজার এলাকায় তিস্তা পাড়ের বাসিন্দাদের ব্যানারে এই মানববন্ধন হয়।
মানববন্ধনে বক্তরা বলেন, তিস্তা নদী শুকিয়ে মাইলের পর মাইল বালুচর জেগে উঠেছে । কিন্তু খনন ও বালু অপসারণ না হওয়ায় নদীর তলদেশ উঁচু হয়ে গেছে। সামান্য বন্যায় ফসল ডুবছে। চাষযোগ্য জমিতে বালুর স্তর জমে অনাবাদি পড়ে রয়েছে। যে কারণে কৃষক ও শ্রমিকেরা বিপাকে পড়েছেন। নদীতে বালুমহাল হলে উপজেলার অনন্ত ১০ হাজার শ্রমিকের কর্মসংস্থান হবে । এখান থেকেই দেশের বিভিন্ন এলাকায় বালুর চাহিদা পূরণ সম্ভব হবে ।মহাল না থাকায় সরকার প্রতিবছর কোটি কোটি টাকা রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে মানববন্ধনে জানানো হয়।
বক্তারা আরও বলেন, এমনিতেই বন্যা আর নদী ভাঙনের কারণে তাঁরা চরম দুর্ভোগে আছেন। তার ওপর নদী ও পাড়ের জমিতে উজান থেকে ঢলের সঙ্গে নেমে আসা বিপুল পরিমাণ বালু জমেছে। এতে নদীর নাব্যতাও কমে গেছে। যে কারণে এবার বর্ষায় ঢল এলে নদীর তীর উপচে এলাকার আমন জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
স্থানীয়রা জানান, বালুমহাল ইজারা না হলেও এলাকার একটি প্রভাবশালী পক্ষ নানাভাবে বালু উত্তোলন করে সেগুলো বিক্রি করে। বিভিন্ন সময়ে নদীতে প্রশাসনের অভিযান হওয়ায় কারণে অনেকেই রাতে নদীর পাড় ও কর কেটে বালু উত্তোলন করছেন। এতে এলাকায় নদীভাঙন দেখা দেওয়ার পাশাপাশি পরিবেশেরও ক্ষতি হচ্ছে। কিন্তু বালুমহাল ইজারা হলে তখন এসব অপকর্ম হবেনা। মানুষ নিয়ম মেনেই নদী থেকে বালু উত্তোলন করবে। এতে এলাকার হাজার হাজার ব্যবসায়ী ও শ্রমিক উপকৃত হবে।
ছাতনাই চর এলাকার ব্যবসায়ী শাহজাহান বলেন, আমরা চাই বালু অপসারণ করে ব্যাক্তি মালিকানার আবাদি জমিগুলো আবারও চাষযোগ্য হোক। পাশাপাশি সরকারের নিয়মনীতি অনুযায়ী বালু মহল ইজারা হোক। মানুষ যাতে নদীর কোনো ক্ষতি না করে বালু উত্তোলন করতে পারে। এতে সরকার যেমন রাজস্ব পাবে, তেমনি সাধারণ ব্যবসায়ী ও শ্রমিকেরাও তাঁদের জীবন-জীবিকা চালাতে পারবেন।
ঢাকারিপোর্ট২৪.কম/জাক/আরএএম