রবিবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬

৫ আশ্বিন ১৪৩৩

সরকার অনুমোদিত অনলাইন গণমাধ্যম
BD.GOV.REG.NO-88

রবিবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬

৫ আশ্বিন ১৪৩৩

সরকার অনুমোদিত অনলাইন গণমাধ্যম
BD.GOV.REG.NO-88

আপনি পড়ছেন : নীলফামারী

ডিমলায় প্রণোদনার সরিষা বীজ নিম্নমান, স্বপ্ন ভঙ্গ কৃষকের


সরোয়ার জাহান সোহাগ - ডিমলা, নীলফামারী প্রতিনিধি
DhakaReport24.com || 2023-01-22 15:17:45
ডিমলায় প্রণোদনার সরিষা বীজ নিম্নমান,  স্বপ্ন ভঙ্গ কৃষকের

সারাদেশে প্রান্তিক পর্যায়ে কৃষকদের স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে কৃষি প্রণোদনার অংশ হিসেবে মাঠ পর্যায়ের চাষীদের মাঝে পেঁয়াজ, ভুট্টা, টমেটো, সরিষা, গম, খেসারি, সূর্যমুখী ও বাদাম বীজ ডিসেম্বরে বিনামূল্যে বিতরণ করেছে উপজেলা  কৃষি অফিস।


নীলফামারী ডিমলায় তালিকাভুক্ত চাষীদের মাঝে প্রত্যেককে ২০ কেজি গম, ২৫০ গ্রাম পেঁয়াজ, আট কেজি খেসারি, ১০ কেজি ভুট্টা, দুই কেজি সরিষাসহ বিভিন্ন পরিমাণে বীজ দেয়া কৃষি অধিদপ্তর ডিমলা।


উপজেলার খগাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের দোহল পাড়া মৌজার কামার পাড়া গ্রামে সরকারি প্রণোদনার বীজ পেয়েছেন তালিকাভূক্ত কয়েকজন কৃষক। কৃষকেরা বলছেন নিয়ম মেনে আমরা সরিষা চাষ করেছি কিন্তুু বীজের মান নিম্ন হওয়ায় আশানুরুপ ফল পাই নি। 


প্রায় ৪৫/৫০ জন কৃষকের এই দশা মেনে নিতে পারছেন না কৃষক পরিবারের সদস্যরা। তারা বলছেন, ডিমলা কৃষি অফিসের বিতরণ করা সেই বীজে যৎসামান্য সরিষার গাছ হলেও তাতে নেই কোন দানা। 

গো খাদ্য ও জ্বালানী হিসেবে ব্যবহার করছেন অনেকেই। সরিষা না হওয়ায় পড়ে আছে ফাঁকা মাঠ, অনেকেই ব্যস্ত হচ্ছেন সরিষা ক্ষেতে পানি ঢুকিয়ে ইরি ধান রোপনের জন্য।


অসচ্ছল এই কৃষকেরা রীতিমত আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হবে, বিঘ্নিত হবে তেল জাতীয় শস্য উৎপাদন।


সরেজমিনে দেখা গেছে, কামার পাড়া গ্রামে বিস্তীর্ণ এলাকার বেশিরভাগ জমিতে চারা গজায়নি, কোথাও আবার দু'একটি গাছ হলেও তাতে ফুল নেই, কৃষকদের দাবী, সরকারি প্রণোদনার বীজ নিম্ন মানের

ও মেয়াদোত্তীর্ণ।


কামার পাড়ার কৃষক কামিনী রায় বলেন, ডিমলা কৃষি অফিস থেকে আমাকে এই বীজ দিয়েছে, আমি নিয়ম মেনে চাষ করলাম, কিছু কিছু জায়গায় সরিষার গাছ হলেও বাকিগুলোর কোন গাছ  হয়নি।


কৃষক জগদীশ চন্দ্র রায় জানান, কৃষি প্রণোদনার আওতায়  আমাদের এই বীজ দেয়। এই বীজে পরবর্তী বীজ তৈরি করার জন্য লাগিয়ে একটি গাছও ওঠেনি। আমার জমিটা পড়ে থাকবে, আমি খুবই ক্ষতিগ্রস্ত। তিনি অভিযোগ করেন, এ বছর আমাদের কারও সরিষা হবে না, আমরা ক্ষতিপূরণ চাই।


একই এলাকার কৃষাণী জয়ন্তী বালা বলেন, প্রণোদনার বীজ কোনো কাজে আসছে না। ২ বিঘা জমিতে সরিষার বীজ ফেলেছিলাম ১/২ টা চারা বাদে কোন গাছ হয়নি। আমি গরিব মানুষ এর ক্ষতিপূরণ চাই।


উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সেকেন্দার আলী জোর দিয়ে  বলেন, সঠিক পরিচর্যা ও সময়মতো নিয়ম মেনে সরিষা চাষিরা এই বীজ রোপণ করেনি জন্যই হয়তো এ সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে।


ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা কোন ক্ষতি পুরণ পাবেন কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরেজমিনে তদন্ত সাপেক্ষে বিষয়টি তিনি দেখবেন।