শনিবার, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬

১১ আশ্বিন ১৪৩৩

সরকার অনুমোদিত অনলাইন গণমাধ্যম
BD.GOV.REG.NO-88

শনিবার, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬

১১ আশ্বিন ১৪৩৩

সরকার অনুমোদিত অনলাইন গণমাধ্যম
BD.GOV.REG.NO-88
**সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ**

>> যুদ্ধাপরাধীদের জায়গা আদালতে, জাতিসংঘের মঞ্চে নয়: এরদোয়ান

>> স্বাস্থ্যকেন্দ্র ভাঙচুরে পুলিশের গাফিলতি প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা

>> থানা থেকে কৃষক লীগ নেতাকে ছাড়াতে এসে জামায়াত নেতাসহ আটক ৮

>> প্রাথমিকে নিয়োগপত্র না পাওয়া প্রার্থীদের জন্য শিক্ষামন্ত্রীর বার্তা

>> গুলিস্তান থেকে আ.লীগের শতাধিক নেতাকর্মী আটক

>> মধ্যরাতে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় ৪ জন গ্রেপ্তার

>> রাজধানীতে আ.লীগের ঝটিকা মিছিল, আটক ৪

>> পাকিস্তানকে ‘সন্ত্রাসী রাষ্ট্র’ বললেন এস জয়শঙ্কর

>> সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সুখবর

>> আ.লীগের দোসরদের গ্রেপ্তার করলে পুলিশদের পুরস্কৃত করা হবে

আপনি পড়ছেন : বিশ্ববাংলা

দালালের খপ্পরে পড়ে জাম্বিয়ায় ৩ বাংলাদেশির মৃত্যু


DhakaReport24.com || 2025-10-22
দালালের খপ্পরে পড়ে জাম্বিয়ায় ৩ বাংলাদেশির মৃত্যু

দালালের খপ্পরে পড়ে দক্ষিণ দক্ষিণ আফ্রিকা যাওয়ার পথে নাজমুল শিপু (২৫), আবেদ মিয়া (২০) এবং সাইফ উদ্দিন মো. রায়হান (২১) নামে তিন বাংলাদেশি যুবক জাম্বিয়ায় মারা গেছেন।

নিহত শিপু চাঁদপুর জেলার মতলব থানার বোয়ালিয়াবাড়ির বাসিন্দা। অপর নিহত আবেদ মিয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সদর উপজেলার তালশাহার এলাকার বাসিন্দা।

মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) নাজমুল শিপু ও আবেদ মিয়া মারা গেছেন বলে নবীনগরের সেই দালাল নিহতদের পরিবারকে জানিয়েছে।

নিহতদের আত্মীয়দের মাধ্যমে জানা যায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের বাবু ও কামরুজ্জামান দিপু নামে দুই দালালের সঙ্গে নাজমুল শিপু ও আবেদের পরিবারের সরাসরি ফ্লাইটে ভিসা করে দক্ষিণ আফ্রিকা পাঠানোর কথা চূড়ান্ত হয়। গত সপ্তাহে ঢাকার একটি ট্রাভেলসের মালিক পুলকের কাছে নিয়ে এসে ইথিওপিয়া পর্যন্ত বিমানের টিকিট কেটে ফেলে। পরে দালালরা কথা পাল্টে তাদেরকে ইথিওপিয়া এনে সড়কপথে মালাউই হয়ে জাম্বিয়া নিয়ে আসে। পথিমধ্যে তাদেরকে অনাহারে রাখে সেখানকার একটি চক্র।

নিহতদের এক সফরসঙ্গী জানান, জাম্বিয়ার দালাল চক্র অনেকদিন খাওয়া-দাওয়া না দিয়ে অনাহারে রাখে। পাঁচজনের জায়গায় ১৫-২০ জন লোককে এক রুমে রেখে দেয়। কেউ ঘুমায়, কেউ দাঁড়িয়ে রাত কাটায়। সুবিধা-অসুবিধা নিয়ে তাদের সঙ্গে কথা বললেই তারা মারধর করে। কোনোভাবে দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রাণে ফিরে আসি।

নিহতদের পরিবারের অভিযোগ—দালালরা এখন তাদের কোনো পাত্তাই দিচ্ছে না। একেক সময় এক কথা বলছে। তাদের পিতামাতা এখন সন্তান হারিয়ে পাগলের মতো হয়ে গেছেন। সন্তানদের জীবিত অথবা মৃত যে কোনো অবস্থায় ফিরে পেতে সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ দূতাবাসের সহযোগিতা চেয়েছেন।

এদিকে জাম্বিয়াতে বাংলাদেশি তরুণ সাইফ উদ্দিন মো. রায়হানের (২১) মৃত্যুর সাত দিন পর সোমবার রাত ১টায় তার পিতার কাছে খবর পৌঁছায়।

নিহত রায়হান চট্টগ্রাম জেলার বাঙ্গালনূরের জোরারগঞ্জের ৫ নম্বর ওয়ার্ড পশ্চিম দুর্গাপুরের দরবেশ আলী সারেং বাড়ির বাসিন্দা। এসএসসি ২০২৪ ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার দুই ভাই—সিয়াম উদ্দিন রিহান ও আল আমিন আবির।

তার পিতা সালাউদ্দিন দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গের থেম্বিসায় বসবাস করেন।

নিহত রায়হানের ঘনিষ্ঠজন জানান, সরাসরি ফ্লাইটে রায়হানকে দক্ষিণ আফ্রিকা নেওয়ার কথা ছিল। পরিবারের সঙ্গে বাংলাদেশি ৯ লাখ টাকায় চুক্তি হয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা প্রবাসী স্প্রিং-এর দালাল জয়নাল আবেদীন ফারুকের সঙ্গে। দক্ষিণ আফ্রিকা আসার পূর্বে ফারুককে পাঁচ লাখ টাকা দেয় তার পরিবার।

২৭ সেপ্টেম্বর রায়হানসহ ছয় তরুণ ঢাকার চাঁখারপুলে মুনিম শাহরিয়ারের কাছ থেকে পাসপোর্ট ও এয়ার টিকিট বুঝে নেন। কথা ছিল দুবাই বা কাতার হয়ে আফ্রিকায় পৌঁছানোর। কিন্তু গত ২৮ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে সরাসরি ফ্লাইটে তাদেরকে দক্ষিণ আফ্রিকা নেওয়ার কথা থাকলেও বিমানবন্দরে পৌঁছে রায়হানসহ বাকি ছয়জন জানতে পারেন, তাদেরকে সড়কপথে নেওয়া হবে। ঢাকা থেকে ইথিওপিয়া হয়ে সড়কপথে মালাউই, সেখান থেকে জাম্বিয়া, তারপর মোজাম্বিক হয়ে দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রবেশের কথা ছিল রায়হানসহ ছয়জনের।

ছয়জনকে নিয়ে কৃষ্ণাঙ্গ গাইডের নির্দেশনায় হাঁটা শুরু হয়। দুর্গম পাহাড়ি পথে পায়ে হাঁটার কারণে রায়হান ক্লান্ত হয়ে পড়েন। কঙ্গোর সীমান্ত থেকে জাম্বিয়ার পাহাড়ি পথে পায়ে হাঁটার সময় তিনি পাহাড় থেকে পড়ে যান।

রায়হানের সফরসঙ্গীদের ভাষ্যমতে, পথ দেখানো স্থানীয় কৃষ্ণাঙ্গরা রায়হানকে কাঁধে নিয়ে যাওয়ার সময় তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে জোরে ফেলে দেয়। সেখানেই তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর আগে রায়হান বলেন, আমার পাসপোর্ট আর জুতাজোড়া আব্বুর কাছে পৌঁছে দিয়েন।

রায়হানের সঙ্গীরা পরিবারকে জানান, মৃত্যুর পর দালাল চক্র তার লাশ ওই পাহাড়েই পুঁতে ফেলেছে। এতে পরিবার লাশ উদ্ধারে চরম সংকটে পড়েছে।

রায়হানের পিতা সন্তানের শোকে কান্নায় বারবার জ্ঞান হারিয়ে ফেলছেন। তিনি বলেন, ব্যবসায় সহযোগিতা করতে ছেলেকে এখানে নিয়ে আসার পরিকল্পনা করেছিলাম। দালালের কারণে আমার ছেলের মৃত্যু হয়েছে। এমন মৃত্যু কোনো পিতা মেনে নেবে না।

ঢাকারিপোর্ট২৪.কম/জাক/আরএএম