বরগুনার তালতলী উপজেলার শুভসন্ধ্যা, নিদ্রা সমুদ্র সৈকত ও তৎসংলগ্ন এলাকা থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ ও ভাঙন রোধে জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে মানববন্ধন করেছে।
বুধবার (১৯ নভেম্বর) সকাল ১০ ঘটিকায় শুভসন্ধ্যা সমুদ্র সৈকতে এলাকাবাসী ও স্থানীয় পর্যটন উদ্যোক্তাদের আয়োজনে এ মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক ও পর্যটন উদ্যোক্তাসহ এলাকার তিন শতাধিক নারী পুরুষ অংশগ্রহণ করেন।
নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ড. কামরুজ্জামান বাচ্চু'র সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন ইউপি সদস্য সহিদ আকন ও মুনসুর আলী বাবুল, ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ (তালতলী-আমতলী) শাখার সমন্বয়ক আরিফুর রহমান, পায়রা নদী ইলিশ রক্ষা কমিটির সমন্বয়ক শাহজাহান শেখ, শুভসন্ধ্যা সমুদ্র সৈকত রক্ষা কমিটির আহবায়ক জাহাঙ্গীর হাওলাদার ও স্থানীয় আলমগীর হাওলাদার, বেলাল হোসেন ফারাবি প্রমূখ।
এ সময় বক্তারা বলেন, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপার লীলা ভূমি শুভসন্ধ্যা ও নিদ্রার চর (ডিসি পয়েন্ট) সমুদ্র সৈকত। বঙ্গোপসাগরের সীমাহীন জলরাশি, পায়রা (বুড়িশ্বর), বিশখালী ও বলেশ্বর এই তিন নদীর মোহনা, দুই কিলোমিটার জুড়ে বালুকাময় বেলা ভূমি, পশ্চিম আকাশে ঢ'লে পড়া সূর্যাস্ত, সারি সারি ঝাউগাছ ও ম্যানগ্রোভ বন, পাখপাখালির ডাক, বনের শান্ত নিরিবিলি পরিবেশ, এই সমুদ্র সৈকত ভ্রমণ পিপাসুদের অন্যতম আকর্ষন কেন্দ্র। জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এখানে ২০১৯ সালে উপমহাদেশের অন্যতম বৃহৎ জোৎছনা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। এছাড়াও প্রতিবছর রাস উৎসব ও অন্যান্য উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। যার ফলে এখানে দেশ-বিদেশের হাজার হাজার প্রকৃতি প্রেমি মানুষের মিলন কেন্দ্রে পরিনত হয়েছে। স্থানীয় বেশ কিছু পর্যটন উদ্যোক্তা এখানে নানা ধরনের বিনিয়োগও শুরু করেছেন।
কিন্তু একটি প্রভাবশালী চক্র সৈকত লাগোয়া এলাকা থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে এই সমুদ্র
সৈকতের ভাঙন বাড়িয়ে তুলছে। এতে ঝুঁকির মুখে পড়েছে পর্যটনকেন্দ্র, উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগ ও আশপাশের গ্রামগুলো। তাঁরা অভিযোগ করেন, নলবুনিয়া, নিদ্রারচর, তেতুলবাড়িয়া ও জয়ালভাঙাসহ আশপাশের গ্রামের বহু বাড়িঘর ও ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। অনেক পরিবার ভিটেমাটি হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। বক্তারা অবিলম্বে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন। তা না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেন তাঁরা।ঢাকারিপোর্ট২৪.কম/জাক/আরএএম