রগুনার আলোচিত কলেজছাত্র অনিক হত্যাকাণ্ডের ছয় বছর পর অবশেষে গ্রেপ্তার হলেন মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক প্রধান আসামি সালাউদ্দিন গাজী। প্রযুক্তি নির্ভর অভিযানে তালতলী উপজেলার ফকিরহাট এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে সদর থানা পুলিশ।
শনিবার (২৪ মে) দুপুরে বরগুনা সদর থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান থানার ওসি দেওয়ান জগলুল হাসান।
গ্রেপ্তার হওয়া সালাউদ্দিন গাজী বরগুনা সদর উপজেলার ৭ নং ঢলুয়া ইউনিয়নের কাঁঠালতলী গ্রামের আবদুস সত্তার গাজীর ছেলে। ২০১৯ সালের ৭ আগস্ট অনিক হত্যা মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে আদালত মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন। রায় ঘোষণার আগেই তিনি ভারতে পালিয়ে যান এবং দীর্ঘদিন সেখানেই আত্মগোপনে ছিলেন। সম্প্রতি গোপনে দেশে ফিরে আসেন তিনি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০১৩ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় বরগুনা শহরের শহীদ স্মৃতি সড়কে চেতনানাশক মিশ্রিত কোমল পানীয় খাইয়ে অনিককে অচেতন করে ডিশ লাইনের তার দিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে হত্যা করে মরদেহ গুম করা হয়। হত্যার পর অনিকের পরিবারের কাছে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে দুর্বৃত্তরা। ঘটনার ১৮ দিন পর সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের পুরাতন ভবনের পাশের একটি সেপটিক ট্যাংক থেকে অনিকের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ বিষয়ে অনিকের বাবা সুবল চন্দ্র রায় বলেন, আমার ছেলে হত্যার পর বহু বছর অপেক্ষা করেছি। আজ দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হয়েছে। কিন্তু শান্তি পাব তখনই, যখন হত্যাকারীর মৃত্যুদণ্ড দ্রুত কার্যকর হবে।
ওসি দেওয়ান জগলুল হাসান বলেন, দীর্ঘ ছয় বছর পলাতক থাকা সালাউদ্দিন সম্প্রতি দেশে ফিরে আত্মগোপনে ছিল। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে প্রযুক্তির সহায়তায় তাকে ফকিরহাট এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। আজই তাঁকে আদালতে পাঠানো হবে।
স্থানীয়দের মতে, অনিক হত্যার মতো নৃশংস ঘটনার বিচার সম্পূর্ণরূপে কার্যকর হলে সমাজে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় এটি একটি উদাহরণ হয়ে থাকবে।
ঢাকারিপোর্ট২৪.কম/জাক/আরএএম