ভোলায় স্ত্রীর অভিযোগে সালিশের পর স্বামীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে নিহতের পরিবারের অভিযোগ ওই সালিশে তাকে বেঁধে রাখা হয় অপমান সইতে না পেরে তিনি বিষপানে আত্মহত্যা করেছেন।
শনিবার (৮ এপ্রিল) সন্ধ্যায় ভোলা সদর উপজেলার ইলিশা ইউনিয়নের আট নম্বর ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত ব্যক্তির নাম মো. নিজাম উদ্দিন (৪৫) তিনি ওই গ্রামের মশু মোল্লার ছেলো নিজাম পেশায় রিকশাচালক ছিলেন।
রোববার (৯ এপ্রিল) দুপুরে ময়না তদন্ত শেষে নিহতের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এ ঘটনায় নিহতের ছোট ভাই মো. নীরব বাদি হয়ে ভোলা সদর মডেল থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করেছেন।
নীরব জানান, কলহের বিষয়ে ভাবি জান্নাত বেগম স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন ছোটনের কাছে নালিশ করেন তিনি শনিবার সকালে স্থানীয় গ্রাম পুলিশ মোঃ ইউছুফকে দিয়ে কালাম মেম্বারের পোল এলাকায় তার নিজস্ব অফিসে ডেকে নেন পরে স্ত্রী ও সন্তানদের উপস্থিতিতে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।
নীরব বলেন, এক পর্যায়ে চেয়ারম্যান গ্রাম পুলিশ দিয়ে নিজামকে বেঁধে রোদের মধ্যে বসিয়ে রাখেন এর কিছুক্ষণ পর তাকে ছেড়ে দেয়া হয় পরে সন্ধ্যায় নিজাম বাড়িতে এসে মাকে বিষয়টি জানান বেঁধে বসিয়ে রাখা ও স্ত্রীর অভিযোগের বিষয়টি নিয়ে তিনি খুব অপমানিত বোধ মনে করেন।
তিনি জানান, নিজাম ইফতারের পরে বিষপান করে ঘরে শুয়ে ছিলেন অনেক ক্ষণ তার কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে ঘরে গেলে বিষয়টি নজরে আসে এরপর দ্রুত ভোলা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের স্ত্রী জান্নাত বেগম জানান, চেয়ারম্যান তাকে ডেকে নিয়ে প্রথমে বেঁধে রাখতে বলেন পরে তিনি বাঁধতে নিষেধ করে এবারের মতো শাসন করতে বলেন চেয়ারম্যানও তাই করেছেন।
চেয়ারম্যান ছোটন বলেন, অভিযোগের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে নিজাম কোনো কথার উত্তর দেয়নি তাই তাকে শুধু বলা হয়েছে চৌকিদার দিয়ে বেঁধে পুলিশ দেয়া হবে কিন্তু সেটি করা হয়নিমএখন সে কী কারণে আত্মহত্যা করেছে সেটি জানা নেই তার দাবি এ ঘটনায় স্থানীয় একটি মহল মিথ্যা রটাচ্ছে।
ভোলা সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. শাহিন ফকির জানান, নিহতের ভাই লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন আমরা অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি।
ঢাকারিপোর্ট২৪.কম/এসএ/আরএএম