শনিবার, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬

১১ আশ্বিন ১৪৩৩

সরকার অনুমোদিত অনলাইন গণমাধ্যম
BD.GOV.REG.NO-88

শনিবার, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬

১১ আশ্বিন ১৪৩৩

সরকার অনুমোদিত অনলাইন গণমাধ্যম
BD.GOV.REG.NO-88

আপনি পড়ছেন : কক্সবাজার

ড্র সমিতির টাকা না দিতে কোদাইল্ল্যা গোষ্ঠীর উপর কিরিচ হামলা


জুয়েল বড়ুয়া, মহেশখালী প্রতিনিধি
DhakaReport24.com || 2024-04-01 19:18:15
ড্র সমিতির টাকা না দিতে কোদাইল্ল্যা গোষ্ঠীর উপর কিরিচ হামলা

মহেশখালীতে ড্র সমিতি’র ড্র'কে কেন্দ্র করে কোদাইল্ল্যা গোষ্ঠীর উপর বালুঝিরি জাফর গং এর এলোপাতাড়ি হামলায় একাধিক ব্যক্তি আহত।

৩১ মার্চ (রবিবার) হোয়ানক ৭নং ওয়ার্ড কেরুনতলী বালুঝিরি এলাকার মৃত মোহাম্মদ বকসু'র পুত্র জাফর আলম গং এর প্রধান জাফর আলম (৫২) ও তার পুত্র আমির হোছন (২২), মোহাম্মদ'র ছেলে নুরুল আবছার (২৫),মৃত গুরা মিয়া'র পুত্র আবু ছৈয়দ(৩৫) ও তার পুত্র আজিজুল হক,মোহাম্মদ রিফাত এবং জাফর আলমের ভাগিনা আবছার,নুরুল আলমের পুত্র ইছহাক (২২) সংঘবদ্ধ হয়ে বশির আহমদের পুত্র তৌহিদুল ইসলাম (১৮),নুরুল ইসলাম(৩০),ওয়াহিদুল ইসলাম(১৬),আক্কল আলীর পুত্র মানুনুল ইসলাম (২২)'কে গ্রাম্য অস্ত্র দা'কুড়াল, কিরিচ নিয়ে হামলা করার অভিযোগ উঠ। 

জানা যায়, মহেশখালী হোয়ানক ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের বালুঝিরি আবছার'র মুদির দোকানে রাতে ড্র অনুষ্ঠিত হয় তৌহিদুল ইসলাম ও আহত ব্যক্তিদের সম্পর্কে বোন জামাই আবুল কাশেম ড্র লটারিতে মোট চল্লিশ হাজার টাকা পেলে ক্যাশিয়ার ইছহাক টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানায় এ নিয়ে পরস্পরের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। অবস্থা বেগতিক দেখে কোদাইল্ল্যা গোষ্ঠীর লোকজন সেই স্থান থেকে নিজ নিজ বাড়িতে চলে আসে। পরে রাতে বালুঝিরি জাফর আলমের নেতৃত্বে ঘরের দরজা ভেঙে গ্রাম্য অস্ত্র দা,কুড়াল,কিরিচ দিয়ে তৌহিদুল ইসলাম সহ অন্যান্যদের এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হতাহত করে বলে জানা যায়।

জানা যায়, হতাহত ব্যক্তিদের চিকিৎসার জন্য মহেশখালী হাসপাতালের উদ্দেশ্য নিয়ে যেতে চাইলে বালুঝিরি জাফর আলম গং প্রধান জাফর আলম পথরোধ করে বলে,"তারা এখানেই মরে যাক হাসপাতালে নেয়ার দরকার নেই"।আহত তৌহিদুল ইসলাম'র বড় ভাইয়ের স্ত্রী তসলিমা আক্তার হাতে পায়ে ধরে প্রান ভিক্ষা চায়লে মামলা না করার শর্তে তাদেরকে ছেড়ে দেন।

মহেশখালী হাসপাতালে আহত ব্যক্তিদের ভর্তি করানো হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রেফার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে প্রেরণ করেন। বর্তমানে নুরুল ইসলাম,তৌহিদুল ইসলাম কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন অপর দুই ব্যক্তি ওয়াহিদুল ইসলাম ও মানুনুল ইসলাম'কে চট্টগ্রামে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।ওয়াহিদুল ইসলামের পিতামহ জানিয়েছেন,ওয়াহিদুল ইসলামের অবস্থা সংকটাপন্ন তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে রাখা হয়েছে।

ওই এলাকার একজন আইনজীবি রবিউল করিম'র সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, "মহেশখালীতে দীর্ঘদিন ধরে এ ধরণের সহিংসতা চলে আসছে আবার এসব ঘটনাকে পুঁজি করে কিছু অসাধু চক্র নিজেদের স্বার্থ হাসিলের অপচেষ্টা চালিয়ে যায় যা এমন সহিংস ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে।প্রশাসনের কাছে অনুরোধ তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা রুজু করা হোক"।

মানুনুল ইসলাম'র বড় ভাই আইনজীবি গোলাম কুদ্দুস জানান, তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে বর্বরোচিত হামলা অনাকাঙ্ক্ষিত সর্বোপরি মহেশখালী আইন শৃঙ্খলার অবনতি। নৃশংস হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে গ্রেফতার পূর্বক জেলহাজতে প্রেরণ করা হোক"।

হোয়ানক কেরুনতলী ৭নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য জাকির হোছাইন প্রকাশ গুরা বাঁশি'র সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, "স্থানীয় এক ব্যক্তি আমাকে ফোন করে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কোদাইল্ল্যার গোষ্ঠীর উপর বালুঝিরি জাফর আলম গ্রুপের হামলার বিষয়টি জানান।তৎক্ষণাৎ আমি মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত ইনচার্জ(ওসি) সুকান্ত চক্রবর্তী মহোদয়'কে বিষয়টি অবগত করলে তিনি ঘটনাস্থলে মোবাইল টিম পাঠিয়ে ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত মোহাম্মদ ইছহাক, নুরুল আবছারকে আটক করে পুলিশ"।

মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত অফিসার ইনচার্জ(ওসি) সুকান্ত চক্রবর্তী'র সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান,"উক্ত ঘটনায় মোহাম্মদ ইছহাক,নুরুল আবছার নামে দুইজন ব্যক্তিকে আটক করে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে"।
ঢাকারিপোর্ট২৪.কম/এমআর/আরএএম