মাজারে মাজারে ঘুরে করে আসছিলেন বাবুর্চি বা দারোয়ানের কাজ। আবার নাম বদলে ভুয়া দুটো জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করে নিয়েছিলেন। ২০ বছর ধরে বিভিন্ন পরিচয় ব্যবহার করে পালিয়ে ছিলেন। কিন্তু তাতেও শেষ রক্ষা হয়নি ফাঁসির রায় মাথায় নিয়ে পালিয়ে থাকা এক আসামির।
চট্টগ্রামের জানে আলম হত্যা মামলায় ফাঁসির রায় মাথায় নিয়ে পালিয়ে থাকা এক আসামিকে দুই দশক পর গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
আজ শুক্রবার র্যাব-৭ চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক নুরুল আবসার গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে সৈয়দ আহমেদকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর তাকে লোহাগাড়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার সৈয়দ আহম্মেদের বয়স এখন ৬০ বছর। তার বাড়ি লোহাগাড়ার আমিরাবাদে। বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের আকবর শাহ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা ।
র্যাব কর্মকর্তা নুরুল আবসার বলেন, ‘গ্রেপ্তারের পর সৈয়দ আহমেদকে প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি তার পলাতক জীবন সম্পর্কে বিবরণ দিয়েছেন।’
শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে র্যাব-৭ অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এমএ ইউসুফ জানান, জমির বিরোধে ২০০১ সালের নভেম্বর থেকে ২০০২ সালের মার্চের মধ্যে লোহাগাড়া উপজেলায় মাহমুদুল হক এবং তার বড় ভাই ব্যবসায়ী জানে আলমকে খুন করা হয়। দুই মামলার এজাহারেই আসামির তালিকায় সৈয়দ আহম্মদের নাম ছিল।
র্যাব কর্মকর্তা ইউসুফ বলেন, “জানে আলমকে হত্যার পর সৈয়দ আহম্মেদ বিভিন্ন স্থানে পালিয়ে ছিলেন। পরিবারের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে কিছুদিন উপকূলীয় এলাকায় এবং পরে সীতাকুণ্ডে অবস্থান করেন। পরিচয় গোপন রাখতে দুটি ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্রও তৈরি করিয়ে নেন তিনি।”
২০০২ সালের ৩০ মার্চ সকালে জানে আলমকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় নিহত ব্যক্তির বড় ছেলে তজবিরুল আলম বাদী হয়ে চট্টগ্রাম জেলার লোহাগাড়া থানায় ২১ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন।
২০০৭ সালের ২৪ জুলাই বিচারিক আদালত মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে সৈয়দ আহমেদসহ ১২ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। আটজনকে দেওয়া হয় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা আপিল করেন। আপিলে সৈয়দ আহমেদসহ ১০ জনকে মৃত্যুদণ্ড, দুজনকে যাবজ্জীবন ও বাকিদের খালাস দেওয়া হয়।