ফিল্ড সুপারভাইজার নুরুল কবিরের নানান অনিয়মে অতিষ্ঠ ইসলামি ফাউন্ডেশন, চট্টগ্রাম। নিজেকে সুপ্রিম পজিশনের ব্যক্তি মনে করে কার্যালয়ে বিভিন্ন অনিয়ম কুকীর্তির জট বাঁধছে।
তার বিরুদ্ধে কর্মক্ষেত্রে বিভিন্ন রকম জালিয়াতি, স্বেচ্ছাচারিতা, ক্ষমতার অপব্যবহারের বিস্তর অভিযোগ উঠেছে। ফাউন্ডেশনের শৃঙ্খলা পরিপন্থি কর্মকান্ড কার্যকলাপ থেকে সুরক্ষায় ইসলামি ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক বরাবরে লিখিত অভিযোগ করেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক তৌহিদুল আনোয়ার।

ফিল্ড সুপারভাইজার নুরুল কবির কর্মস্থলে বিভিন্ন উপজেলায় চাকরিকালে শৃঙ্খলা পরিপন্থি কাজে অভিযুক্ত হয়ে একাধিকবার বদলী হন। এমনকি তার বদলী চেয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অভিযোগ করেছেন অনেকেই। তিনি বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া সহ নিজ কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনে অনীহা সহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তার সাথে অদৃশ্য শক্তিতে হেনস্তামূলক আচরণে গুরুত্ব অভিযোগ সূত্রে প্রকাশ।
ফাউন্ডেশনের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, নুরুল কবির চট্টগ্রামের এক বেনামি পত্রিকা “অপরাধ ঘোষণা” নামক সাপ্তাহিক কাগজে সম্পাদক ও প্রকাশক বনে পুরো অফিসকে জিম্মি করে রেখেছে। ঐ পত্রিকাকে ঢাল-হাতিয়ার হিসেবে আমাদেরকে বিব্রত ও প্রতিনিয়ত নাজেহাল করে চলেছে সে। তাছাড়া নুরুল কবিরের কাজকর্ম এবং বিবাদ সৃষ্টির কারণে স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং বিভিন্ন উপজেলার ইউএনও ইসলামি ফাউন্ডেশনের বিভাগীয় পরিচালক বরাবরে চিঠি প্রেরণ করেছেন। তার কর্মস্থল ফাঁকি দিয়ে বিভিন্ন অবৈধ ব্যবসায় হয়েছে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ। পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক শিরোনামে সে গড়েছে নিজ অনৈতিকতার স্বর্গরাজ্য।
আমলনামায় রয়েছে অসংখ্য কুকীর্তির কাহিনী। তার কর্মস্থলে চাকরি দেওয়ার নামে অসংখ্য ব্যক্তি থেকে হাতিয়ে নিয়েছে কোটি টাকা। আবার চাকরির প্রতারণায় পড়ে নেওয়া টাকা ফেরত চাওয়ায় কুতুব উদ্দীন নামে এক মৌলভীকে মিথ্যা মামলা দিয়ে জেলে প্রেরণ করে। অনেকেই টাকা উদ্ধারের জন্য চট্টগ্রাম আদালতে মামলা করেছেন। এ বিষয়ে ইসলামি ফাউন্ডেশনের চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক প্রতিবেদককে জানান, সুপারভাইজার নুরুল কবিরের সাথে আমার কোন বিরোধ নেই। তার জাপটাবাজিতে আমরা বিপাকে পড়েছি। আমার উপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথ পালন এবং ফাউন্ডেশন সম্পদ মান-ইজ্জত রক্ষার্থে তাকে নিয়মতান্ত্রিক নির্দেশ প্রদানে কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার। বিভিন্ন সোর্স এর মাধ্যমে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন সংবাদ প্রকাশ করছে বেনামি কিছু পত্রিকায়।
তিনি আরও বলেন, নুরুল কবির সনদ জালিয়াতি, জন্ম সনদ জাল করে অপশক্তি প্রয়োগ করে মসজিদভিত্তিক গণশিক্ষার চাকরিতে আমাদেরকে অস্থির করে তুলেছে। তার চাকুরীর বয়স ৬ বছরে নিজ কর্মস্থলে উর্ধ্বতন ও অধীনস্থ কর্মকর্তা তার প্রতি অতিষ্ঠ হয়ে বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম ইসলামি ফাউন্ডেশনের বিভাগী পরিচালক বরাবরে অভিযোগ দাখিল করেছে। মূলত সে নিয়ম বহির্ভূতভাবে এক সাপ্তাহিক পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক হওয়ার সুবাদে নিজেকে সবকিছুর মালিক মনে করছেন। তিনি কোনকিছুরই তোয়াক্কা করছেন না। আমরা তার আপত্তিকর সব ডকুমেন্ট রেজ্যুলেশন করে সদর দপ্তর মহাপরিচালক বরাবরে প্রেরণ করেছি।
এ বিষয়ে নুরুল কবিরের মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
ঢাকারিপোর্ট২৪.কম/জাক/আরএএম