আজ বুধবার কক্সবাজারে শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে জেলা আওয়ামী লীগের জনসভায় ভাষণ দেবেন দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এটি আওয়ামী লীগের তৃতীয় প্রচার সভা।
জনসভা সফল করতে প্রস্তুত কক্সবাজার। শহরের বাস টার্মিনাল থেকে শুরু করে কলাতলী, লাবনী পয়েন্ট, সুগন্ধা পয়েন্ট, লালদীঘি পাড়া, পৌরসভা এলাকা, হলি ডে মোড়, শহীদ মিনার সড়ক এবং বিমানবন্দর সড়ক ছেয়ে গেছে ব্যানার, ফেস্টুন, বিলবোর্ড, পোস্টারে। নির্মাণ করা হয়েছে শতাধিক তোরণ।
গতকাল মঙ্গলবার থেকে বিভিন্ন উপজেলা থেকে নেতাকর্মীরা আসতে শুরু করেছেন শহরে। কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে চলছে স্থানীয় নেতাকর্মীদের দফায় দফায় বৈঠক।
জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারা জানান, মঙ্গলবার বিকেলে থেকে দূরের অনেক উপজেলার নেতাকর্মীরা কক্সবাজার শহরে আসতে শুরু করেছেন। তারা বিভিন্ন হোটেল ও আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে রাত পার করেছেন। শহরে বের করেছেন খণ্ড খণ্ড মিছিল।
প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়ে চকরিয়া-পেকুয়া আসনের সংসদ সদস্য জাফর আলম এবং মহেশখালী-কুতুবদিয়া আসনের সংসদ সদস্য আশেক উল্লাহ রফিক কয়েক হাজার নেতাকর্মী নিয়ে মঙ্গলবার বিকেলে কক্সবাজার শহরে দুটি মিছিল করেছেন।
কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রণজিত দাশ বলেন, ‘শুধু আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী নয়, প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে সমাবেশ স্থলে লাখ লাখ মানুষের সমাগম হবে। প্রধানমন্ত্রীর জনসভা হবে জনসমুদ্র।’
জেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক খোরশেদ আলম বলেন, ‘না চাইতেই প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজারের জন্য সবকিছু করেছেন। তার নেওয়া অনেক প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়েছে। অনেক প্রকল্প শেষের পথে। বুধবারের সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী আরও কিছু প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন এবং অনেক প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন।’
আজ বুধবার সকালে কক্সবাজারের ইনানীতে ৩০টি দেশের নৌবাহিনীর অংশগ্রহণে আন্তর্জাতিক নৌ মহড়ার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের উখিয়ার জালিয়াপালং ইউনিয়নের মোহাম্মদ শফির বিল এলাকার সৈকতে সাগরের ওপর নির্মিত সেতুর শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে তিন দিনব্যাপী ‘ইন্টারন্যাশনাল ফ্লিট রিভিউ ২০২২’-এর মহড়ার সালাম গ্রহণ করবেন তিনি।
সেখান থেকে দুপুরে হেলিকপ্টারে করে কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় যোগ দেবেন শেখ হাসিনা। তার জনসভার মঞ্চের পাশেই ভিত্তি ফলকগুলো স্থাপন করা হয়েছে।
এর আগে সর্বশেষ ২০১৭ সালের ৬ মে কক্সবাজার সফর করেন প্রধানমন্ত্রী। সে সময় তিনি কক্সবাজারকে প্রাচ্যের সুইজারল্যান্ড হিসেবে গড়ে তোলার ঘোষণা দেন। তার ঘোষণা অনুযায়ী এই জেলায় ৪০টি মেগা প্রকল্পসহ ৩ দশমিক ৫০ লাখ কোটি টাকা ব্যয়ে ৭৭টি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে।
ঢাকারিপোর্ট২৪.কম/জাক/আরএএম