কর্ণফুলীতে সিলেট, সুনামগঞ্জ ও নেত্রকোনাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় বন্যা দুর্গতদের পাশে থাকার নামে প্রতারণা ও সরকার বিরোধী লিফলেট বিতরণ করতে গিয়ে ধরা খেলেন সামুদ্রিক মৎস্য শিকারী জাহাজ শ্রমিক ইউনিয়ন সভাপতি আফসারসহ আরো তার কিছু সহযোগী।
এসময় কর্ণফুলী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি শাহেদুর রহমান সাহেদের নির্দেশনায় চরপাথরঘাট ইউনিয়নের ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আরমান হায়দার এর কাছে হাতে নাতে ধরা পড়ে যায়।
আরমান হায়দার তাদের বলে কর্ণফুলীর মাটি ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ ভাইয়ের ঘাটি, কর্ণফুলীতে সরকার বিরুদ্ধে কোন অপপ্রচার চলবে না
।এসময় ইছানগরের স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা বাধা দেয়। এছাড়াও তাদের পালিয়ে যেতে সাহায্য করে।
উল্লেখ্য যে, তাকে সবাই সামুদ্রিক মৎস্য শিকারী জাহাজ শ্রমিক ইউনিয়ন সংগঠনের সভাপতি হিসেবেই চিনে ও জানে। কিন্তু তিনি গোপনে একটি রাজনৈতিক দলকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে অর্থ সংগ্রহ করে সাধারণ নাবিক থেকে।
এসময় তাদের লিফলেটের যা লিখা ছিল তার কিছু অংশ তুলে ধরা হলো" ভ্যাট -ট্যাক্স, পণ্য সামগ্রীর দাম দফায় দফায় বৃদ্ধি করে জনজীবনকে বিপর্যস্ত করে তোলে। বাংলাদেশের ভূ-রাজনৈতিক ও রণনীতিগত গুরুত্বের প্রেক্ষিতে অন্ত:সাম্রাজ্যবাদী প্রতিযোগিতা ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্রতর। সাম্রাজ্যবাদী বৈশ্বিক পরিকল্পনা এ্যসকাপ(ESCAP), চীনের বিআরআই- বিহিত, জাপানের বিগ -বি ইত্যাদি কার্যকরী করে চলছে দালাল বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার। যমুনা সেতু ,পদ্মা সেতু, কর্ণফুলী টানেল, মেট্রোরেল, সমুদ্র বন্দর ,কয়লাভিত্তিক ও পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র ইত্যাদি মেগা প্রকল্প হচ্ছে উল্লেখিত সাম্রাজ্যবাদী পরিকল্পনায় এবং তাদেরই ঋণের টাকায়।সম্রাজ্যবাদের সহযোগী হিসেবে দালাল শাসক - শাসকগোষ্ঠী উন্নয়নের নামে বেপরোয়া লুটপাট করে সুইচ ব্যাংকসহ বিদেশে বিভিন্ন দেশে লক্ষ লক্ষ কোটি টাকা পাচার করেছে বিদেশে বাড়িঘর করেছে জমি জমা কিনে বেগম পাড়া তৈরি করেছে যার কারণে দেশের কৃষক, শ্রমিক, মেহনতী মানুষ থাকছে না খেয়ে। দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে বন্যার সমস্যা স্থায়ী সমাধানের দাবিতে বন্যা নিয়ে প্রতিক্রিয়াশীল দালাল রাজনৈতিক সরকার ও দলগুলো লুটপাতের বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগ্রাম গড়ে তুলতে হবে শোষণমূলক আর্থ-সামাজিক রাষ্ট্র কাঠামোর মৌলিক পরিবর্তনের লক্ষে সাম্রাজ্যবাদ ও তার দালাল সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগ্রামকে বেগবান করতে হবে। সাম্রাজ্যবাদ ও তার দালাল সরকার করোনা মহামারী ও রুশ ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে তার অজুহাত দিয়ে মুদ্রা ও মুদ্রাস্ফীতি ধুয়া তুলে নিত্য প্রয়োজনীয়সহ প্রায় সকল দ্রব্যমূল্যে লাগামহীন বৃদ্ধি জনজীবনের সংকট বিপর্যয়কে আরও বৃদ্ধি করে চলেছে। সাম্রাজ্যবাদীরা ভ্যাকসিন, খাদ্য জ্বালানি ইত্যাদিকেও তাদের স্বার্থ হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে।"
এভাবেই সরকারের বিভিন্ন মেগা প্রকল্পসহ বৈশ্বিক দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধিকে আন্তর্জাতিকভাবে দালাল ও হেয় প্রতিপন্ন করার তুলে ধরে "জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট" নামের রাজনৈতিক দল লিফলেটে।
বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের গর্বের পদ্মা সেতুকে নিয়েও কটুক্তি করে ।আমার টাকায় আমার সেতু পদ্মা সেতু।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন নাবিক বলেন, জনপ্রতি মাসে ৩০ টাকা বাধ্যতামূলক চাঁদা দিতে হয়। কর্ণফুলী প্রায় ৩৫০টি ফিশিং বোট রয়েছে। একটি ফিশিং বোটে ৩০ থেকে ৪০ জন নাবিক থাকে। অর্থাৎ৩৫০*৩০*৩০=৩১৫০০০টাকা এটি মাসিক চাঁদা ।এছাড়াও প্রতিটি ফিশিং বোট থেকে মিটিং এর নামে চাঁদা তুলেন ১০ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা। যা হিসাব করলে কোটি টাকা হবে।যদি তাদের চাঁদা না দেওয়া হয় তাহলে বিভিন্ন ভাবে তাদের মানসিক চাপ দেওয়া হয়।