চট্টগ্রামে অনাবৃষ্টির কারনে পুড়ছে চা বাগান। দীর্ঘ সময় ধরে বৃষ্টি না হওয়ায় বিবর্ণ হতে শুরু করেছে গাছের পাতা। আসছে না নতুন কুড়ি। এ ক্ষেত্রে বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে নতুন গাছগুলো। বাগানের গভীর অংশের অনেক গাছ পানির অভাবে মরে যাচ্ছে। কৃত্রিমভাবে গভীর নলকুপের মাধ্যমে পানি সেঁচের ব্যবস্থা থাকলেও বৃষ্টির অভাবে পানির স্তর তলিয়ে যাওয়ায় তাও বাঁধার সম্মুখিন হচ্ছে।
এদিকে কয়েকটি বাগানে পানির জন্য কৃত্রিম লেক করা হলেও সরেজমিনে গিয়ে সেগুলোও প্রায় শুকিয়ে যেতে দেখা গেছে। চা বাগান সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত দুই বছর ধরে নভেম্বর থেকে এপ্রিল সময়টিতে বৃষ্টি হচ্ছে না চট্টগ্রামে। যদিও এর আগে ফেব্রুয়ারি বা মার্চেই বৃষ্টি হতো। এ বছর এখনও বৃষ্টি না হওয়ায় নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে চা বাগানগুলোতে। এটাকে জলবায়ুর বৈশ্বিক প্রভাব হিসেবে দেখছেন আবহাওয়াবিদরা।
প্রকৃতির এমন বৈরিতার ফলে চা শ্রমিকদের কাজ সঙ্কুচিত হওয়ার পাশাপাশি উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন বাগান সংশ্লিষ্টরা। চট্টগ্রামের ২২ টি চা বাগানের ১৮ টির অবস্থান বৃহত্তর উপজেলা ফটিকছড়িতে। এর মধ্যে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কর্ণফুলী, মোহাম্মদ নগর, আধারমানিক, নাছেহা, দাঁতমারা, পঞ্চবটি, মা জান, এলাহি নূর, কৈয়াছড়া, উদালিয়া, নেপচুন, রামগড়, বারোমাসিয়া, রাঙ্গাপানি, নিউ দাঁতমারা চা বাগানগুলো।
ফটিকছড়ির সর্ব বৃহত চা বাগান কর্ণফুলী, যার আয়তন ৬৫৭২ একর এলাকা। আয়তনে যা বিশে^র সর্ব বৃহত চা বাগান হিসেবে পরিচিত। সম্প্রতি এ বছরের পহেলা জানুয়ারী ব্রাক থেকে এটি কিনে নেয় সিটি গ্রুপ। বাগানটির ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, আমাদের বাগানটি ৬ টি ডিভিশনে বিভক্ত। আগে একটি ডিভিশন থেকে প্রতিদিন চা পাতা আসতো ৫০-৫৫ কেজি। যা অনাবৃষ্টির কারনে ১৫-১৮ কেজিতে নেমে এসেছে। এছাড়াও নতুন আরো ৬ একর জমিতে নতুন চা গাছ লাগালেও খরার কারনে আর বেশি প্রসার করা সম্ভব হয় নি। কারণ পনির অভাবে সেগুলো মৃতপ্রায়। এছাড়াও আমাদের যে লেকগুলো আছে সঠিক সময়ে বৃষ্টি না হওয়াতে সেগুলোও শুকিয়ে যাচ্ছে। এভাবে আর হয়তো ১৫ দিন চালানো যাবে। এর পর থেকে গাছ মরে যাওয়া হয়তো রোধ করা যাবে না। ফলে আমরা উৎপাদনে বড় ক্ষতির সম্মুখীন হবো। এ ক্ষতি শুধু আমাদের নয়, পুরো চট্টগ্রাম চা উৎপাদনে পিছিয়ে পড়বে।
পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত তিন মাসে চট্টগ্রামে বৃষ্টির রেকর্ড ছিলো ১.৬৯ মিলিমিটার। অথচ ২০২২ সালে এসে এ সময়টিতে চট্টগ্রামে বৃষ্টির দেখা মেলেনি ।
এদিকে দৈনিক গড় তাপমাত্রা ৩২-৩৫ ডিগ্রীতে থাকায় চা শ্রমিকদের জন জীবন উষ্ঠাগত হওয়ার পাশপাশি দাবদাহে পুড়ে যাচ্ছে অনেক চারা গাছ।
ঢাকারিপোর্ট২৪.কম/এনআই/আরএএম