শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬

১০ আশ্বিন ১৪৩৩

সরকার অনুমোদিত অনলাইন গণমাধ্যম
BD.GOV.REG.NO-88

শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬

১০ আশ্বিন ১৪৩৩

সরকার অনুমোদিত অনলাইন গণমাধ্যম
BD.GOV.REG.NO-88

আপনি পড়ছেন : গাজীপুর

জমি অধিগ্রহণ এক নোটিশেই বেহুশ জমি মালিক, ইনভেস্ট দৌরাত্ম্যে দালাল চক্র


নাঈম - গাজীপুর
DhakaReport24.com || 2023-04-18 10:01:45
জমি অধিগ্রহণ এক নোটিশেই বেহুশ জমি মালিক, ইনভেস্ট দৌরাত্ম্যে দালাল চক্র

ঢাকা - কিশোরগঞ্জ মহাসড়ক উন্নয়নে গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার টোক বাইপাস সড়কের পাশে জমি অধিগ্রহণের লক্ষ্যে প্রাথমিক নোটিশ জারি করা হয়। এতেই হুমরি খেয়ে পরেন গাজীপুর সড়ক ভবণের সার্ভেয়ার জাহিদ হাসান, গাজীপুর এলএ শাখার সার্ভেয়ার মনিরুল ইসলাম ও সদর ইউএনও অফিস সহকারী নয়ন মিয়ার সমন্নয়ে স্থানীয় দালাল চক্র।


দেশের বিভিন্ন উন্নয়ন ও অবকাঠামো নির্মাণের লক্ষ্যে সরকার জমি অধিগ্রহণ করেন। অফিস-আদালত, শিল্প-কারখানা, দালান-কোঠা, বিদ্যুৎ কেন্দ্র, সড়ক-সেতু কিংবা বেসরকারি পর্যায়েও বিভিন্ন উন্নয়নমূল কর্মকাণ্ডে জমি অধিগ্রহণ করা হয়। উল্লেখ্য আছে স্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণ ও হুকুম দখল আইন-২০১৭ ধারা (১৩) অনুসারে ধর্মীয় উপাসনালয়, কবরস্থান ও শ্মশান অধিগ্রহণ করা যাবে না।


জানাগেছে, ঢাকা - কিশোরগঞ্জ মহাসড়ক উন্নয়নে গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার টোক বাইপাস এলাকায় জমি অধিগ্রহণের লক্ষ্যে প্রাথমিক নোটিশ জারি করা হয়েছে। এতে দিশেহারা হয়ে পাড়েন জমি মালিকেরা। অধিক ক্ষতিপূরণ পাওয়ার লুভে রাতারাতি নালা ডুবা বড়াট ও স্থাপনা নির্মাণে চলে তোড়জোড়। শুরু হয় দালালদের দৌরাত্ম্য।  দালাল চক্রের চুক্তিতে সিমেন্ট-বালুর প্লাস্টারে মাটির ঘর পাকা ঘরে রুপান্ত করার চেষ্টা করেন অনেকেই।


বাইপাস মোড় এলাকার অধিগ্রহণের আওতাধীন একাধিক জমি মালিকের সাথে কথা বলে জানাগেছে, অধিগ্রহণ মর্মে প্রাথমিক নোটিশ জারির পরপরি দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য বাড়ে। চুক্তি ভিত্তিক ৪৫% হাতিয়ে নিতে স্থাপনা নির্মাণে মোটা অঙ্কের অর্থ ইনভেস্ট করেন দালাল চক্র। কোনো খরচ ছাড়াই ৫৫% পাবেন জমি ও স্থাপনা মালিকেরা। এমন অফার পেয়ে বিদ্যুৎ গতিতে চলে স্থাপনা নির্মাণ কাজ।


দালালদের নিয়োগ প্রাপ্ত স্থানীয় রিয়াজ উদ্দিন মেম্বার জানান, একটা নোটিশ পেয়েছি, এখন কোনো খবর নেই। গাজীপুর সড়ক ভবণের সার্ভেয়ার জাহিদ হাসান ও এলএ শাখার মনিরুল ইসলাম, গাজীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ের অফিস সহকারী নয়ন মিয়া, রফিক ও মীর্দা। তাদের সমন্নয়ে চুক্তিতে ৪/৫ টা স্থাপনার কাজ করেছি। তবে নয়ন লোক ভালো না, সে খুব ভেজাল করেছে। অন্যদের দিয়েও কাজ করাইছে, এখনে অনেক কাজ করা হইছে।


বাড়ি মালিক শহিদ মিয়ার সাথে কথা বলে জানাযায় , জাহিদ হাসান ৪২ লাখ টাকা চুক্তিতে শহিদ মিয়ার মাটির ঘরের রাস্তার পাশে বাহিরের দেয়াল ঘেঁষে ইটের ওয়াল করে পাকা স্থাপনায় রুপান্তরের চেষ্টা করেন। এসব করতে ২২ লাখ টাকা নগদ দেন জাহিদ।


শহিদের ভাতিজা জাহাঙ্গীর বলেন, চাচার সাথে জাহিদের বাবার নামে চুক্তি হয়। কারন জাহিদ সরকারি চাকরি করে তাই তার নামে কোনো চুক্তি করে না, সব তার বাবার নামেই করে, সে শুধু দেখাশুনা ও টাকা দেয়। এখানে ৪/৫ জন দালাল আছে সবাই সরকারি চাকরি করে। এছাড়া তাদের সাথে স্থানীয় কয়েকজন আছে যারা তাদের হয়ে কাজ করান।


সরেজমিন দেখা গেছে, শহিদের মাটির দেয়ালের এক পাশে ইটের ঘাতনী আরেক পাশে শুধু প্লাস্টার করে মাটির দেয়াল ঢেকে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু তাতেও মাটির দেওয়াল দেখা যাচ্ছে বাহির থেকে। কাঞ্চনের বাড়ির সামনে সবুজ রং করা মাটির দেয়ালে প্লাস্টার এবং আরেকটু সামনে হিন্দু বাড়িতেও এমন চিত্র মিলেছে। বাইপাস মোড় এলাকায় ১০ / ১৫ ফুট গভীর থেকে মাটি বড়াট ও স্থাপনা নির্মাণে চলে পুড়ো এলাহি কাণ্ড।


এবিষয়ে গাজীপুর সড়ক ভবনের সার্ভেয়ার জাহিদ হাসানের সাথে মোবাইল ফোনে ( 01715--4959 ) কথা বলতে চাইলে তিনি চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন বলে ফোন কেটে দেন, পরে তার সাথে একাধিকবার চেষ্টা করেও আর কথা বলা সম্ভব হয়নি।


এবিষয়ে গাজীপুর এলএ শাখার সার্ভেয়ার মনিরুল ইসলাম বলেন, চার ধারায় প্রাথমিক নোটিশ হয়েছে, প্রাথমিক কাজ চলমান রয়েছে। এরচেয়ে বেশি কিছু জানার হলে তার কর্তৃপক্ষের (ডিসি) সাথে কথা বলার পরামর্শ দিয়ে দায় এড়িয়ে ফোন কেটে দেন তিনি।