শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬

১০ আশ্বিন ১৪৩৩

সরকার অনুমোদিত অনলাইন গণমাধ্যম
BD.GOV.REG.NO-88

শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬

১০ আশ্বিন ১৪৩৩

সরকার অনুমোদিত অনলাইন গণমাধ্যম
BD.GOV.REG.NO-88

আপনি পড়ছেন : ফরিদপুর

সালথায় পেঁয়াজের দাম না পেয়ে পানিতে ভাসিয়ে দিচ্ছেন কৃষকরা


‎ আবুল বাসার, ‎সালথা,(ফরিদপুর) প্রতিনিধি:
DhakaReport24.com || 2026-06-29
সালথায় পেঁয়াজের দাম না পেয়ে পানিতে ভাসিয়ে দিচ্ছেন কৃষকরা

ফরিদপুরের সালথার অন্যতম ফসলই হচ্ছে পেঁয়াজ। এই উপজেরার মধ্যে বাণিজ্যিকভাবে সবচেয়ে বেশি পেঁয়াজ আবাদ হয়ে থাকে, উপজেলার ৮ টি ইউনিয়নে যুগযুগ ধরে এখানকার কৃষকরা পেঁয়াজ চাষের মাধ্যমে তাদের অর্থনীতির উন্নয়ন করে আসছেন। তবে প্রতিবছরের মতো এবারও বিপুল পরিমাণে পেঁয়াজ আবাদ করেও চরম বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।

বাজারে পেঁয়াজের দাম একেবারেই নেই। অন্যদিকে সংরক্ষণ ব্যবস্থার দুর্বলতা ও বিদ্যুতের ভেলকিবাজির কারণে পেঁয়াজ এয়ারফ্লো মেশিনে ঘরেও রাখা যাচ্ছে না, তা পচে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এমন অবস্থায় পেঁয়াজ এখন কৃষকের গলার কাটা হয দারিয়েছে। কোনো দিক না পেয়ে অনেক কৃষককে দেখা গেছে, তাদের হাড়ভাঙা পরিশ্রমের এই পেঁয়াজ বস্তা ভরে এনে ডোবার পানিতে ফেলে দিয়ে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন।

‎সালথা উপজেলার একাধিক কৃষকরা জানিয়েছেন, এবার নানা জাতের বিপুল পরিমাণ পেঁয়াজ আবাদ হয়েছে। তবে এর মধ্যে বেশিরভাগ হাইব্রিড জাতের পেঁয়াজ আবাদ করা হয়েছে। এই হাইব্রিড জাতের  পেঁয়াজ কোনোভাবে ঘরে রাখা যাচ্ছে না। এমনকি সংরক্ষণের জন্য সরকারিভাবে যে ঘরগুলো তৈরি করে দেওয়া হয়েছে, সঠিকভাবে বিদ্যুত সরবরাহ না থাকায় সেখানেও পেঁয়াজ রাখা যাচ্ছে না। অতিরিক্ত গরম আর সংরক্ষণ ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে পেঁয়াজ পচে যাচ্ছে। আর বাজারে পেঁয়াজের যে দাম, তাতে উৎপাদন খরচও ঘরে নিতে পারছে না কৃষকেরা।

‎সালথার কৃষক মোহাম্মদ আলী বলেন, সরকারি এয়ারফ্লো মেশিন ব্যবহারের পর পর্যাপ্ত বাতাস চলাচল না হওয়ায় প্রায় ৩৫০ মন পেঁয়াজ পচে নষ্ট হয়ে যায়। পরে বাধ্য হয়ে সেগুলো পুকুরে ফেলতে হয়।সোহেল রানা নামে আরেক কৃষক বলেন, বর্তমানে প্রতিমণ পেঁয়াজ ৮০০ থেকে ৯০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অথচ উৎপাদন খরচই ১৪০০ থেকে ১৫০০ টাকা। সংরক্ষণ ব্যয় যোগ হলে পুরোপুরি লোকসান গুনতে হচ্ছে। আরেক কৃষক ওয়াহিদ কাজী বলেন, কৃষকের এ দুর্দশার কার্যকর উদ্যোগ নিতে দেখা যাচ্ছে না। আগামীতে ন্যায্যমূল্য না পেলে পেঁয়াজ চাষ থেকে সরে যেতে বাধ্য হবে অনেকেই ।


‎কৃষকদের অভিযোগ- সরকারিভাবে দেওয়া এয়ারফ্লো মেশিন অনেক ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত ফল দিচ্ছে না। বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও কারিগরি সমস্যার কারণে সংরক্ষিত পেঁয়াজ দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বিদ্যুৎ না থাকলে বাতাস চলাচল বন্ধ হয়ে পচনের ঘটনা বাড়ছে বলেও জানান তারা।

সালথা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম বলেন,চলতি মৌসুমে সালথা উপজেলায় পেঁয়াজ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১১ হাজার ৫০০ হেক্টর। তবে কৃষকদের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ১২ হাজার ৫৮৫ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের আবাদ হয়েছে। এ বছর উপজেলায় মোট প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার ১২৫ মেট্রিক টন পেঁয়াজ উৎপাদিত হয়েছে। আমাদের হিসাব অনুযায়ী, প্রতি কেজি পেঁয়াজ উৎপাদনে কৃষকের গড়ে প্রায় ২৪ টাকা খরচ হয়, অর্থাৎ প্রতি মণের উৎপাদন খরচ দাঁড়ায় প্রায় ৯৬০ টাকা।

‎ফরিদপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. শাহাদুজ্জামান জানান, পেঁয়াজ সংরক্ষণে কৃষকদের সহায়তায় ২০২-৪২৫ অর্থবছরে জেলায় ১ হাজার ৪৩০টি এয়ারফ্লো মেশিন বিতরণ করা হয়েছে। চলতি বছর ইতোমধ্যে ৭০০টি বিতরণ করা হয়েছে এবং আরও প্রায় আড়াই হাজার মেশিন সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, সংরক্ষণ সুবিধা বাড়ানো গেলে কৃষকরা তাৎক্ষণিকভাবে কম দামে পেঁয়াজ বিক্রি করতে বাধ্য হবেন না।

তবে কৃষকরা বলছেন, রাত-দিন ২৪ ঘন্টার মধ্যে বিদ্যুত থাকে মাত্র ২ থেকে ৩ ঘন্টা। বিদ্যুত কম সময় থাকায় কোনোভাবেই এয়ারফ্লো মেশিনে পেঁয়াজ সংরক্ষণ করে রাখা সম্ভব না।

ঢাকারিপোর্ট২৪.কম/জাক/আরএএম