খুলনার রূপসায় দোকান বাকির পাওনা টাকা চাওয়ার জের ধরে ছুরিকাঘাতে দোকানদার হৃদয় শেখ (১৯)-কে হত্যা ঘটনার থানায় মামলা দায়ের হয়েছে।
বৃহস্পতিবার এই ঘটনায় নিহতের পিতা হারুন শেখ বাদী হয়ে ১১ জনের নাম উল্লেখ করে রুপসা থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
এদিকে পুলিশ ও র্যাব পৃথক অভিযান চালিয়ে মামলার এজাহারভুক্ত ৫ আসামিকে গ্রেফতার করেছে। এরমধ্যে বৃহস্পতিবার র্যাব-৬ পূর্ব রূপসা ঘাট এলাকা থেকে বাগমারা গ্রামের মো. শহিদুল ইসলাম শেখের ছেলে মো. রিয়াদ হোসেন তন্ময় (২২) ও গহর আলী মীরের ছেলে মো. ইমরান আলীকে (২০) গ্রেফতার করে।
এর আগে পুলিশ বাগমারা গ্রামের আড্ডা গলির ইউসুফ সরদারের ছেলে শাহিন ও তুহিন এবং আফসার শেখের ছেলে নাজমুল শেখকে (২২) গ্রেফতার করে। বাকি আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
উল্লেখ্য, বাগমারা গ্রামের মীর বাড়ির মৃত আবুল কালাম সরদারের ছেলে মিঠু সরদার ও তার খালাতো ভাই হারুন শেখের ছেলে হৃদয় পূর্ব রূপসা বাসস্ট্যান্ড পুলিশ ফাঁড়ির সামনে চায়ের দোকানদারি করে আসছিল। গত কয়েক মাস ধরে পূর্ব রূপসা বাজারের আড্ডা গলির মৃত পলাশের ছেলে হৃদয় ও অন্তর মিঠুর দোকানে বাকিতে চা ও অন্যান্য খাদ্যসামগ্রী খায়। ২০ এপ্রিল দুপুরে দোকানদার মিঠু খরিদ্দার হৃদয় ও অন্তরের নিকট পাওনা টাকা চাইলে উভয়ের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ঘটে। ওই ঘটনার জের ধরে ইফতারির পর সন্ধ্যা ৭টার দিকে হৃদয় ও অন্তরসহ ১০-১২ জন দোকানে এসে মিঠুকে মারপিটসহ ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করতে থাকে।
এসময় মিঠুকে তাদের কবল থেকে রক্ষা করতে খালাতো ভাই হৃদয় শেখ এগিয়ে গেলে তার পেটে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায় তারা। এসময় নাজমুল প্রতিপক্ষের হামলায় গুরুতর আহত হয়। পরে হৃদয়ের পরিবারের লোকজন ও স্থানীয়রা রক্তাক্ত জখম অবস্থায় আহত মিঠু ও হৃদয়কে উদ্ধার করে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক হৃদয়কে মৃত ঘোষণা করে। এছাড়া স্থানীয়রা নাজমুলকে উদ্ধার করে রূপসার একটি স্থানীয় ক্লিনিকে ভর্তি করে। পরে সেখান থেকে নাজমুল পুলিশের হাতে আটক হয়। এর আগে পুলিশ শাহীন ও তুহিনকে গ্রেফতার করে।
ঢাকারিপোর্ট২৪.কম/আরএ/আরএএম