কুষ্টিয়ায় কালবৈশাখী ঝড়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ে অনেক কাচাপাকা ঘরবাড়ি ভেঙে গেছে। ক্ষতি হয়েছে আম, লিচুসহ উঠতি ফসলের। শনিবার (২১ মে) সকাল ভোর ৫টার দিকে ঝড় শুরু হয়।
সরেজমিন বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, জেলার বিভিন্ন স্থানে ঝড়ের তাণ্ডবে অনেক গাছপালা ভেঙে রাস্তায় পড়ে আছে। আম, কাঁঠাল, লিচুসহ বিভিন্ন মৌসুমি ফল ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।
কুষ্টিয়ার সদর উপজেলার রুবেল জানান, ঝড়ে আমাদের ঘরের টিনের চাল উড়ে গেছে। অনেক গাছ উপড়ে গেছে। গাছের ডাল পড়ে তার ছিঁড়ে অনেক স্থানে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।
মিরপুর উপজেলার সুলতানপুর গ্রামের কৃষক জুলমত আলী বলেন, শনিবার ভোরের দিকে হঠাৎ ঝড় ও বৃষ্টি শুরু হয়। ঝড়ে অনেক গাছ ভেঙে গেছে। উঠতি ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এলাকায় এখনো বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।
একই উপজেলার আম ও লিচু বাগান মালিক প্রভাষক মশিউর রহমান জানান, ঝড়ে বাগানের আম-লিচুর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অনেক গাছের আম লিচু পড়ে গেছে। এতে অনেক টাকা লোকসান হয়ে গেল।
কুমারখালী আবহাওয়া কর্মকর্তা মামুন আর রশিদ বলেন, শনিবার সকাল সাড়ে ৫টার দিকে ৭ কেটিএফ ঝড় ও ২৫ মিমি বৃষ্টি হয়েছে। প্রায় ১৫ মিনিট ধরে এ ঝড়-বৃষ্টি হয়।
কুষ্টিয়া ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক জানে আলম বলেন, কালবৈশাখী ঝড়ের কারণে সড়কের দু'পাশে অনেক গাছের ডালপালা ভেঙে পড়েছে। কিছু কিছু জায়গায় ফায়ার সার্ভিসের টিম গাছগুলো সড়ক থেকে সরিয়ে নিচ্ছে।
কুষ্টিয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (টেকনিক্যাল) মো. মোকসেমুল হাকিম বলেন, কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবে পুরো জেলা লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে এবং গাছের ডাল পড়ে তার ছিঁড়ে অনেক স্থানের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এর ফলে বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে আছে। আমরা মেরামতের কাজ করছি।
কুষ্টিয়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সুশান্ত কুমার প্রমানিক বলেন, ঝড়ে আম, লিচুসহ বিভিন্ন মৌসুমি ফল ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তাৎক্ষণিক ফসলের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয় করা যায়নি। তবে কৃষি বিভাগের লোকজন মাঠে গিয়ে ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয়ে কাজ করছে।
ঢাকারিপোর্ট২৪.কম/এএন/আরএএম