এবার মেহেরপুরে মরিচের ফলন ভাল হলেও দাম নিয়ে হতাশা চাষিরা। বর্তমানে মরিচ বাজারে ১৬ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে, কিন্তু জমি থেকে মরিচ বাজারজাত করতে খরচ হচ্ছে ১০ থেকে ১২ টাকা পর্যন্ত। তাই খরচ বাদ দিয়ে চাষীদের ২ থেকে ৩ টাকা থাকছে। এতে কৃষকরা জমি থেকে মরিচের গাছ কেটে অন্য ফসলের আবাদ করার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন অনেক চাষিই।
মেহেরপুর সদর উপজেলার ফতেপুর গ্রামের মরিচ চাষি হাবিবের সাথে কথা হয়, তিনি বলেন, আমি দুই বিঘা জমিতে মরিচ চাষ করেছি। মরিচ ওঠার পরপরই ১২০ থেকে ১৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেছি। কিন্তু বর্তমানে সেই মরিচ বিক্রি হচ্ছে ১৫ থেকে ১৬ টাকা কেজি দরে। লেবার খরচ দিয়ে বাজারজাত করে তুলে কিছুই থাকছে না, তাই মরিচ ভেঙ্গে ফেলে গম চাষ করব তাই ভাবছি। কারণ ১৫থেকে ১৬ টাকা কেজি দরে মরিচ বিক্রি করে আমার কি থাকবে।
সদর উপজেলার মরিচ চাষী ওয়াসিম এর সাথে কথা হয়, বর্তমান বাজারে যদি ৩০ থেকে ৩৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে পারতাম তাহলে আমাদের মোটামুটি লোকসান হত না। কারণ জমির লিজ খরচ বেশি, সার ডিজেলের দাম বেশি, বর্তমানে অন্য সবজির দাম ভালো হলেও মরিচের দাম নেই বললেই চলে।
বাইজিদ ভান্ডারের স্বত্ত্বাধিকারী সাদ্দাম হোসেন বলেন, বর্তমানে মরিচের আমদানি অনেক বেশি, তাছাড়া বাইরে কুষ্টিয়া যশোরের মরিচগুলো অন্যবার নষ্ট হয়ে যায়, এবার নষ্ট হয়নি আবহাওয়া ভালো থাকায়, তাই উৎপাদন বেশি, তাই বর্তমান মরিচের দাম আর উপরে উঠবে বলে মনে হয় না।
মেহেরপুর সদর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা নাসরিন পারভিন বলেন, এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় মরিচের ফলন ভালো হয়েছে, মরিচ চাষিদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া মরিচ শুকিয়ে বিক্রি করা হলে চাষিরা বাজার দর ভালো পাবে বলেও জানান তিনি।
ঢাকারিপোর্ট২৪.কম/এমজার/আরএএম