রবিবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬

৫ আশ্বিন ১৪৩৩

সরকার অনুমোদিত অনলাইন গণমাধ্যম
BD.GOV.REG.NO-88

রবিবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬

৫ আশ্বিন ১৪৩৩

সরকার অনুমোদিত অনলাইন গণমাধ্যম
BD.GOV.REG.NO-88

আপনি পড়ছেন : মেহেরপুর

পরকীয়ার কারণে খুন

দাফনের দুই বছর পর কবর থেকে লাশ উত্তোলন


তুহিন ইসলাম, মেহেরপুর থেকে
DhakaReport24.com || 2022-03-14 23:23:00
দাফনের দুই বছর পর কবর থেকে লাশ উত্তোলন

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় দাফনের প্রায় ২ বছর পর তদন্তের জন্য আসাদুজ্জামান আসাদ (৪২) নামে এক ওষুধ কোম্পানি প্রতিনিধির লাশ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে। 

আদালতের নির্দেশে সোমবার (১৪ মার্চ) সকাল ১১টার দিকে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাদাত হোসেনের উপস্থিতিতে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ উত্তোলন করে চুয়াডাঙ্গা জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হয়।

এ বিষয়ে নিহতের ভাই মাসুম বিল্লাহ মাসুম জানান, চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার হাপানিয়া গ্রাম ও বর্তমানে চুয়াডাঙ্গা হাসপাতাল পাড়ার মহিবুল ইসলামের মেয়ে মোনালিসা হক লোপার সাথে তার ভাইয়ের বিয়ে হয়। বিয়ের পর তাদের সংসারে জন্ম নেয় ৩ কন্যা সন্তান। লোপা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা আর আসাদুজ্জামান একটি ওষুধ কোম্পানির চাকরির সুবাদে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে চুয়াডাঙ্গায় বসবাস করতেন।

২০২০ সালের ২৭ মার্চে রাত ৯টার দিকে আসাদুজ্জামানের স্ত্রী লোপা তার শ্বশুর পরিবারকে মোবাইল ফোনে জানায়, তার স্বামী স্ট্রোকে মারা গেছেন। কিন্তু সময় পার হওয়ার সাথে সাথে বেরিয়ে আসতে থাকে থলের বিড়াল। বের হতে থাকে আসাদুজ্জামানের স্ত্রীর পরকীয়ার কাহিনী ও পরিকল্পিত খুনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।

পরে আসাদুজ্জামানের ভাই লিটন বাদী হয়ে মোনালিসা হক লোপা ও লোপার প্রেমিক (বর্তমান স্বামী) হুমায়ুন কবিরকে আসামি করে চুয়াডাঙ্গার সিনিয়র জুডিসিয়াল আমলী আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার পরে হুমায়ুন কবিরকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে চুয়াডাঙ্গা জেলহাজতে প্রেরণ করেন। 

জানা যায়, আসাদুজ্জামানকে খাবারের সাথে বিষ মিশিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে আসামি হুমায়ুন কবির আদালত তার দোষ স্বীকার করেন। পরে তার স্বীকারোক্তিতে সোমবার (১৪ মার্চ) কবর থেকে লাশ উত্তোলন করা হলো। নিহত আসাদুজ্জামানের বাড়ি চুয়াডাঙ্গায়। তবে তাকে দাফন করা হয় মেহেরপুরের গাংনীতে।

এ ব্যাপারে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাদাত হোসেন জানান, আদালতের নির্দেশে লাশ উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। এ সময় চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিক্যাল কর্মকর্তা ডা. রবিন উপস্থিত ছিলেন।

চুয়াডাঙ্গা থানা পুলিশের ইন্সপেক্টর (তদন্ত) আবু সাঈদ জানান, তদন্তের স্বার্থে লাশ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

ঢাকারিপোর্ট২৪.কম/আরএ/আরএএম