বুধবার, অক্টোবর ২৮, ২০২৬

১৩ কার্তিক ১৪৩৩

সরকার অনুমোদিত অনলাইন গণমাধ্যম
BD.GOV.REG.NO-88

বুধবার, অক্টোবর ২৮, ২০২৬

১৩ কার্তিক ১৪৩৩

সরকার অনুমোদিত অনলাইন গণমাধ্যম
BD.GOV.REG.NO-88

আপনি পড়ছেন : বগুড়া

জাতীয় নির্বাচনের আগেই বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেলপথ নির্মাণ হবে: রেলমন্ত্রী


DhakaReport24.com || 2022-04-23 18:22:45
জাতীয় নির্বাচনের আগেই বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেলপথ নির্মাণ হবে: রেলমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেই বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেলপথ নির্মাণের কাজ শেষ করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করলেন রেলপথমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন।

২৩ এপ্রিল শনিবার বেলা ১১টার দিকে বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেলপথ প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনে এসে বগুড়া  রেলওয়ে স্টেশনে সাংবাদিকদের তিনি একথা বলেন।

রেলপথমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন বলেন, বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পের কিছু জটিলতা ছিল।  সেসব জটিলতা কেটে গেছে। এছাড়াও প্রকল্প এলাকার সুবিধা ও অসুবিধা দেখতে আমি এখানে এসেছি। খুব দ্রুত রেলপথ নির্মাণের কাজ শুরু হবে।
এ পুরো প্রকল্পে সাড়ে পাঁচ থেকে ছয় হাজার কোটি টাকার মতো খরচ হবে। তবে ভারতের লাইন অব ক্রেডিটের আওতায় এই প্রকল্পটিতে অর্থ ব্যয় করা হবে। এছাড়াও প্রকল্প পরামর্শকেরা ইতোমধ্যে কোথায় কোথায় ব্রিজ, ফ্লাইওভার, আন্ডারপাস নির্মাণ হবে তা নিয়ে কাজ শুরু করেছেন। দ্রুত রেলপথ যাচাইয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। 
 
বগুড়া রেলওয়ে স্টেশন পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক জিয়াউল হক, পুলিশ সুপার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মজিবর রহমান মজনু, সাধারণ সম্পাদক রাগেবুল আহসান রিপু ও বগুড়ার স্টেশন মাস্টার সাজেদুর রহমান।

বগুড়া রেল স্টেশন সূত্র জানায়, বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পে মূল রুট ধরা হয়েছে ৭২ কিলোমিটার। বগুড়ার রানীরহাট এলাকা থেকে সিরাজগঞ্জের এম মনসুর আলী স্টেশন পর্যন্ত এ রুট হবে। এ প্রকল্পের আওতায় ডুয়েল  গেজের দুটি রেলপথ নির্মাণের পরিকল্পনা হয়েছে। এছাড়াও বগুড়ার কাহালু স্টেশন থেকে রাণীরহাট পর্যন্ত ১২ কিলোমিটারসহ মোট ৮৪ কিলোমিটার ডুয়েল গেজ রেলপথ নির্মাণ হবে। বগুড়া শহর থেকে প্রায় ৮ কিলোমিটার দূরে রাণীরহাটে জংশন নির্মাণ করা হবে।
এর পাশাপাশি বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রুটে শেরপুর, চাঁন্দাইকোনা, রায়গঞ্জ, কৃষাণদিয়া ও সদানন্দপুর এলাকায় ৭টি স্টেশন স্থাপন করা হবে। প্রস্তাবিত ৮৪ কিলোমিটার রেলপথের জন্য ৯৬০ একর জমি অধিগ্রহণের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে বগুড়ায় ৫২ কিলোমিটার রেলপথের জন্য ৫১০ একর এবং সিরাজগঞ্জের ৩২ কিলোমিটারের জন্য ৪৫০ একর জমি অধিগ্রহণ করা হবে।
বগুড়া- সিরাজগঞ্জ রেলপথ নির্মাণের দাবি ছিল দীর্ঘদিনের। 

এই দুই জেলার মধ্যে সরাসরি রেল পথ না থাকায় উত্তরাঞ্চলের ট্রেনগুলোকে যাত্রী ও কৃষিপণ্য নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাতে নানা ভোগান্তির শিকার হতে হয়। বর্তমানে বগুড়ার সান্তাহার জংশন হয়ে, নাটোর, পাবনা, ঈশ্বরদী, সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া হয়ে যমুনা নদীর উপর নির্মিত বঙ্গবন্ধু সেতুতে পৌঁছাতে হয়। শুধুমাত্র বগুড়া রেলওয়ে স্টেশন থেকে তিনটি জেলার পথ ঘুরে বঙ্গবন্ধু  সেতুতে পৌঁছাতে সময় লেগে যায় প্রায় ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা।

আর প্রায় ৪০৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে ঢাকায়  পৌঁছাতে প্রায় ৯ ঘণ্টা সময় লাগে। আর সড়ক পথে ২০০ কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে বাসে করে ঢাকা  যেতে সময় লাগে ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা। অথচ বগুড়া থেকে সিরাজগঞ্জের বঙ্গবন্ধু সেতুতে সরাসরি ট্রেনযোগে পৌঁছাতে সময়ে লাগবে প্রায় ১ ঘণ্টা থেকে সোয়া ঘণ্টা। বাসে করে ঢাকায় যেতে ২০০ কিলোমিটার ও ট্রেনে করে পাড়ি দিতে হয় ৪০৫ কিলোমিটার। প্রস্তাবিত বগুড়া থেকে সরাসরি বঙ্গবন্ধু  সেতুতে ট্রেন সার্ভিস চালু হলে বগুড়াসহ উত্তরের  জেলার ট্রেন যাত্রীদের প্রায় ২০০ কিলোমিটার পথ কমে আসবে।

এর আগে ২০১৫ সালের ১২ এপ্রিল বগুড়ার আলতাফুন্নেছা  খেলার মাঠে এক জনসভায় প্রধানমন্ত্রী  শেখ হাসিনা  দেয়া প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতেই বগুড়া-সিরজাগঞ্জ রেলপথ নির্মাণের কাজ শুরু হচ্ছে। ২০১৭ সালের ৪ অক্টোবর ঢাকায় ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ অবকাঠামো ও বিদ্যুত খাতের উন্নয়নে স্বাক্ষরিত চুক্তির আওতায় তৃতীয় ক্রেডিট লাইনে ঋণ দিতে দেশটি সম্মত হয়। এরপর প্রকল্পটি বাস্তবায়নে প্রজেক্ট  প্রোফাইল প্রণয়ন, নকশা তৈরি, স্টেশনের সংখ্যা নির্ধারণ ও জমির মূল্য নির্ধারণের কাজ শুরু হয়। ২০১৮ সালের ৩০ অক্টোবর একনেক সভায় বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেলপথ নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন লাভ করে।

ঢাকারিপোর্ট২৪.কম/এনআই/আরএএম