সিরিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় দেইর আজ জোর প্রদেশে একটি সামরিকঘাঁটিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণে ১১ সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে। খবর আল জাজিরার
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, বিস্ফোরণে নিহত সেনাদের লাশ নিয়ে শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) জোর শহরে শোকযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। বিস্ফোরণের এক দিন পর এ শোকযাত্রা করা হয়।
সরকারি সংবাদ সংস্থা সানা জানায়, দেইর আজ জোরের পশ্চিমাঞ্চলীয় আইয়াশ শহরে সিরিয়ান আরব আর্মির একটি অবস্থানের ভেতরে থাকা অস্ত্রের গুদামে এ বিস্ফোরণ ঘটে।
প্রাদেশিক সরকারের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিস্ফোরণে আরও ৯ সেনাসদস্য আহত হয়েছেন। তবে কী কারণে বিস্ফোরণ ঘটেছে, তা এখনো জানা যায়নি। এ ঘটনায় তদন্ত চলছে।
দুই সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে সিরিয়ার কোনো সামরিক স্থাপনায় এটি দ্বিতীয় বিস্ফোরণের ঘটনা।
রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আল ইখবারিয়ার প্রচার করা ভিডিওতে দেখা যায়, শনিবার দেইর আজ জোর শহরের ন্যাশনাল হাসপাতালের বাইরে শোকাহত মানুষ জড়ো হয়েছেন। সেখানে সিরিয়ার পতাকায় মোড়ানো নিহত সেনাদের মরদেহ শোকযাত্রায় নিয়ে যাওয়া হয়।
আল ইখবারিয়া জানিয়েছে, ওই স্থাপনায় ভারী গোলাবারুদ পরিবহণের সময় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
এর আগে ৯ সেপ্টেম্বর উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় ইদলিব প্রদেশের সারমাদায় অস্থায়ী অস্ত্র ও যুদ্ধের অবশিষ্টাংশ সংরক্ষণাগারে বিস্ফোরণে ১৪ সেনা নিহত হন। ওই ঘটনায় বেসামরিক নাগরিকসহ ১০ জনের বেশি আহত হন।
সিরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, ওই ঘটনার দায় তারা নিয়েছে। সংরক্ষণাগারটিতে গৃহযুদ্ধের সময় পড়ে থাকা অস্ত্র ও গোলাবারুদ সংগ্রহ করে রাখা হয়েছিল। পরে নিয়ম অনুযায়ী সেগুলো অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার কথা ছিল।
এ ছাড়া ১ সেপ্টেম্বর ইদলিবের বিনিশে গোলাবারুদ বহনকারী একটি গাড়িতে বিস্ফোরণে পাঁচজন নিহত ও কয়েকজন আহত হন বলে জানিয়েছে সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।
এক দশকের বেশি সময় ধরে চলা গৃহযুদ্ধের পর সিরিয়ায় বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। সেগুলো সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলার মধ্যেই দেশটিতে এ ধরনের বিস্ফোরণের ঘটনা প্রায়ই ঘটছে।
ঢাকারিপোর্ট২৪.কম/জাক/আরএএম