শুক্রবার, নভেম্বর ৬, ২০২৬

২২ কার্তিক ১৪৩৩

সরকার অনুমোদিত অনলাইন গণমাধ্যম
BD.GOV.REG.NO-88

শুক্রবার, নভেম্বর ৬, ২০২৬

২২ কার্তিক ১৪৩৩

সরকার অনুমোদিত অনলাইন গণমাধ্যম
BD.GOV.REG.NO-88

আপনি পড়ছেন : ক্রীড়া

ম্যারাডোনার মৃত্যু রহস্য উদঘাটনে ফের বিচার শুরু


DhakaReport24.com || 2026-04-14
ম্যারাডোনার মৃত্যু রহস্য উদঘাটনে ফের বিচার শুরু

দীর্ঘ অপেক্ষার পর ফুটবল কিংবদন্তি ডিয়েগো ম্যারাডোনার মৃত্যু রহস্য উদঘাটনে ফের শুরু হয়েছে বিচারিক প্রক্রিয়া। প্রথম দফায় বিচারকের অনৈতিক কর্মকাণ্ডে থমকে যায় বিচার কার্যক্রম। এবার সেই অচলাবস্থা কাটিয়ে নতুন করে শুরু হয়েছে আইনি লড়াই।

প্রসঙ্গত, ২০২০ সালের ২৫ নভেম্বর আর্জেন্টিনার রাজধানী শহর বুয়েনস আইরেসের ডিক লুজানে নিজ বাসভবনে ঘুমের মধ্যে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে চিরবিদায় নেন এই ফুটবল কিংবদন্তি। তবে তার এই চলে যাওয়া স্বাভাবিক ছিল নাকি চিকিৎসকদের অবহেলায় তা নিয়ে শুরু থেকেই দানা বেঁধেছে বিতর্ক।

ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে ম্যারাডোনার শরীরে কোনো অ্যালকোহল বা মাদকদ্রব্যের উপস্থিতি পাওয়া না গেলেও তার গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গে মারাত্মক ক্ষতির চিহ্ন দেখা গিয়েছিল। বিশেষ করে তার হৃদপিণ্ড স্বাভাবিক ওজনের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ ছিল এবং সেখানে চর্বি ও রক্ত জমাট বেঁধে থাকার প্রমাণ পান বিশেষজ্ঞরা।

মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচারের পর হাসপাতাল থেকে ফিরে টাইগ্রে নামক উপশহরে যখন তিনি সুস্থ হওয়ার প্রক্রিয়ায় ছিলেন, তখন তার চিকিৎসায় নিয়োজিত সাত সদস্যের মেডিকেল টিমের বিরুদ্ধে ‘অবহেলার’ অভিযোগ তোলেন সরকারি কৌঁসুলিরা। তাদের দাবি, মৃত্যুর ঝুঁকি জেনেও ম্যারাডোনার চিকিৎসায় চরম গাফিলতি করা হয়েছে।

ম্যারাডোনার মৃত্যু মামলার বিচারিক ইতিহাস বেশ নাটকীয় মোড় নেয় গত বছর। এর আগে সাত সদস্যের মেডিকেল টিমকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে ম্যারাডোনার সন্তানসহ অসংখ্য সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছিল দীর্ঘ সময় ধরে।

কিন্তু আড়াই মাস চলার পর গত বছরের মে মাসে সেই বিচার কার্যক্রম বাতিল ঘোষণা করা হয়।

জানা যায়, বিচারকদের একজন জুলিয়েটা মাকিনতাচ বিচার বিভাগীয় নীতি লঙ্ঘন করে এই মামলা সংক্রান্ত একটি ডকুমেন্টারিতে অংশ নিয়েছিলেন, যার ফলে তাকে অভিশংসন করা হয় এবং পুরো প্রক্রিয়াটি ভেস্তে যায়।

নতুন করে শুরু হওয়া এই বিচারে প্রায় ১২০ সাক্ষীর জবানবন্দি নেওয়া হবে বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে। অভিযুক্তদের তালিকায় রয়েছেন চিকিৎসক, মনোবিদ ও নার্সসহ মোট সাতজন।

তাদের বিরুদ্ধে ‘সম্ভাব্য উদ্দেশ্যমূলক হত্যার’ অভিযোগ আনা হয়েছে। আর্জেন্টাইন আইন অনুযায়ী, যদি চিকিৎসাজনিত অবহেলার এই অভিযোগ প্রমাণিত হয়; তবে অভিযুক্তদের ৮ থেকে ২৫ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।

অবশ্য বিবাদী পক্ষ শুরু থেকেই সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। তাদের দাবি, ম্যারাডোনা দীর্ঘদিন ধরে মাদক ও অ্যালকোহলে আসক্ত ছিলেন এবং তার মৃত্যু ছিল স্বাভাবিক শারীরিক জটিলতার ফল।

অভিযুক্ত মনোবিজ্ঞানী অগাস্টিনা কোসাটোভের আইনজীবী ভাদিম মিশানচুক এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেছেন, ম্যারাডোনাকে মেরে ফেলার কোনো পরিকল্পনা ছিল না। যারা এই দাবি করছেন তারা মূলত কিংবদন্তি এই ফুটবলারের পরিবার এবং অভিযুক্তদের প্রতি নিষ্ঠুরতা প্রদর্শন করছেন। আপাতত গোটা ফুটবল বিশ্ব তাকিয়ে আছে আদালতের রায়ের দিকে, যেখানে নির্ধারিত হবে প্রিয় তারকার শেষ দিনগুলোর প্রকৃত সত্য।

ঢাকারিপোর্ট২৪.কম/জাক/আরএএম