মিরপুর টেস্টের চতুর্থ দিনে বাংলাদেশের লক্ষ্য ছিল লিড বাড়ানোর। ওপেনার জাকির হোসেনের কল্যাণে সকালের শুরুটাও ছিল দারুণ। কিন্তু হঠাৎই ছন্দপতন। দিনের শুরুতে স্কোরবোর্ডে ২৬ রান যোগ করতেই পাঁচ উইকেট হারিয়ে চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ে বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত টাইগাররা গুটিয়ে যায় ১৪৪ রানে। এতে কিউইদের সামনে লক্ষ্য দাড়ায় ১৩৭ রানে। তবে অল্প রানের লক্ষ্য সেট করেও কিউইদের চেপে ধরেছেন বাংলাদেশের স্পিনাররা, আভাস পাচ্ছেন জয়েরও। ৬৯ রানে সফরকারীদের ৬ উইকেট ফেলে দিয়েছেন তাইজুল ইসলাম-মেহেদী হাসান মিরাজরা।
বাংলাদেশের দেওয়া লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় নিউজিল্যান্ডের দুই ওপেনার ডেভন কনওয়ে ও টম লাথাম। ভয়ংকর হয়ে ওঠার আগেই এ জুটিতে আঘাত হানেন শরিফুল ইসলাম। শরিফুলের পেসে পরাস্ত হয়ে লেগ বিফরের ফাঁদে পড়েন কনওয়ে। আউট হওয়ার আগে ২ রান করেন তিনি।
দ্বিতীয় উইকেটে ব্যাট হাতে ক্রিজে আসেন কেন উইলিয়ামসন। কিন্তু তিনিও ব্যাট হাতে ব্যর্থ হয়েছেন। ডাউন দ্য উইকেটে খেলতে এসে তাইজুলের বলটি মিস করেন। পরে সেই সুযোগে স্ট্যাম্পিং করেন সোহান। এরপর বাইশ গজে নিজেদের মেলে ধরার আগেই সাজঘরের পথ ধরেছেন হেনরি নিকোলস । নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে চাপে পড়েছে কিউইরা।
এরপর টম লাথামের সঙ্গী হন ড্যারিল মিচেল। এই জুটিতেই ঘুরে দাঁড়ানোর পরিকল্পনা সাজায় কিউইরা। তবে খুব একটা পার্থক্য গড়তে পারেননি লাথাম-মিচেল। মিরাজের হাতেই বিদায় নেন লাথাম। ৬০ বল খেলে ফেলা লাথাম প্রথম স্লিপে শান্তর হাতে ক্যাচ দেওয়ার আগে করেন ২৬ রান। এমন হতাশার পর টম ব্লান্ডেল এসে সেটি আরও বাড়িয়ে দেন। মিরাজের আগের ওভারেই ব্লান্ডেলের সাজঘরে ফেরা হয়ে যেত। অল্পের জন্য এলবিডব্লিউ থেকে বেঁচে যাওয়া ব্লান্ডেলকে পরের ওভারে সোহানের গ্লাভসে ক্যাচ বানিয়ে ফেরান তাইজুল।
এদিকে প্রথম ইনিংসে ভয়ংকর হয়ে ওঠা গ্লেন ফিলিপস এবার ফিরতে পারতেন ডাক হয়ে। যদি না স্লিপে থাকা নাজমুল হোসেন শান্তর হাত থেকে ক্যাচটা ফস্কে যেত। তবে শান্ত তৃপ্তি পেলেন মিচেলের ক্যাচ লুফে নিয়ে। মিরাজের বলেই রিভার্স সুইপ খেলতে গিয়ে ব্যাটে পাননি বল, এর আগেই তার গ্লাভসে হালকাভাবে স্পর্শ করে যায়। আম্পায়ার বুঝতে না পারলেও বাংলাদেশ দল মাতে উদযাপনে। এরপর শান্ত রিভিউ নিয়ে ১৯ রান করে ফেলা মিচেলের আউট নিশ্চিত করেন। ৬৯ রানের আগেই ৬ উইকেট হারিয়ে ফেলে নিউজিল্যান্ড।
ঢাকারিপোর্ট২৪.কম/জাক/আরএএম