নিউ ক্যালেদোনিয়া যে পুরো ম্যাচে ৩টা শট নিতে পেরেছে, সেটাকেই ম্যাচ শেষে আশ্চর্যজনক তথ্য বলে মনে হতে পারে। ওই তিন শটের একটিও পোস্টে ছিল না বটে। কিন্তু আশ্চর্যজনক কেন বলা হচ্ছে?
শট নিতে হলে অন্তত ব্রাজিলের বক্সের আশপাশে তো যেতে হবে, পুরো ম্যাচে নিউ ক্যালেদোনিয়া ব্রাজিলের বক্সের দিকে যেতে পেরেছেই তো হাতে গোনা দুয়েকবার! ম্যাচের প্রায় পুরোটা সময়ই যেভাবে নিউ ক্যালেদোনিয়ার বক্সের আশপাশে কেটেছে, তাতে উল্টো মনে হচ্ছিল, ব্রাজিলের আজ হয়তো গোলকিপার হিসেবে কাউকে না খেলালেও চলত!
উল্টোদিকে নিউ ক্যালেদোনিয়া ১১ জনকেই বলতে গেলে বক্সে দাঁড় করিয়ে রেখে খেলেছে, কিন্তু তাতেও যেন যথেষ্ট মনে হচ্ছিল না। একটা পর্যায়ে তো মনে হচ্ছিল, নিউ ক্যালেদোনিয়ার পোস্টেই বরং একাধিক গোলকিপারের দরকার ছিল। তাদের গোলকিপারকে যে 'ওভারটাইম ডিউটি' করতে হলো! কেন? ব্রাজিল পুরো ম্যাচে শট নিয়ে মোট ৮০টি!
ভাবতে পারেন, ৯০ মিনিটের ম্যাচে ব্রাজিল শট নিয়েছে ৮০টি! এর মধ্যে ২৩টি ছিল পোস্টে। প্রথমার্ধেই নিয়েছিল ৪৭টি শট।
সে অনুপাতে ব্রাজিলের জয়ের ব্যবধানটাকে কমই মনে হবে! ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তায় অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপের ম্যাচটিতে শেষ পর্যন্ত আজ ব্রাজিল জিতেছে 'মাত্র' ৯-০ গোলে। পুরো ম্যাচে ব্রাজিলের বল পজেশন ছিল ৭৮%।
তবে এ জয়ে একটা স্বস্তির নিশ্বাস ফেলবে ব্রাজিল। অতৃপ্তি যা, তা হতে পারে এ নিয়ে যে, জয়টা আরও বড় ব্যবধানে হলেই বুঝি ভালো হতো।
কারণ, বিশ্বকাপে দ্বিতীয় ম্যাচে এসে যে আজ প্রথম জয়টা পেল ব্রাজিল। প্রথম ম্যাচে তারা হেরে গিয়েছিল ইরানের কাছে, ৩-২ গোলে। গ্রুপে অন্য দল ইংল্যান্ড, তাদের সঙ্গে গ্রুপপর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচটি ব্রাজিল খেলবে আগামী শুক্রবার। সে ম্যাচে না জিতলে দ্বিতীয় পর্বে ওঠা হচ্ছে না, এটা সম্ভবত নিশ্চিত।
জিতলেও যে দ্বিতীয় পর্ব নিশ্চিত হয়ে যাবে, তা-ও বলা যাচ্ছে না। আর সেখানেই আসছে ব্রাজিলের আজ আরও বেশি গোলে জিততে না পারার অতৃপ্তির প্রসঙ্গ। নিউ ক্যালেদোনিয়া যে গ্রুপের বাকি দলগুলোর জন্য 'পাঞ্চিং ব্যাগ' হয়ে উঠছে! ইংল্যান্ড প্রথম ম্যাচে তাদের হারিয়েছিল ১০-০ গোলে। আজ গ্রুপের অন্য ম্যাচে যদি ইংল্যান্ডই জিতে যায় ইরানের বিপক্ষে, সে ক্ষেত্রে শেষ ম্যাচে ইরান কত গোল দেয় নিউ ক্যালেদোনিয়াকে, সেটি শেষ পর্যন্ত হয়ে গড়ে দিতে পারে ব্যবধান।
তা সেটা পরের ব্যাপার, আপাতত ব্রাজিল আজ নিজেদের বড় জয় নিশ্চিত করতে পেরেছে। প্রথমার্ধেই ব্রাজিল গোল পেয়েছে ৩টি। রায়ানের গোলে এগিয়ে যাওয়া ২৮ মিনিটে, এরপর ৩৯ মিনিটে গোল এস্তেভাও উইলিয়ানের। ৪৪ মিনিটে তৃতীয় গোলটি করেছেন হানরি সান্তোস।
প্রথমার্ধে গোল কম হয়ে যাওয়ায় দ্বিতীয়ার্ধে আরও ক্ষুরধার ব্রাজিল। ৪৬ মিনিটে গোল করেন কাউয়া এলিয়াস, শেষ পর্যন্ত ৪৬ ও ৯৪ মিনিটে আরও দুই গোল করে হ্যাটট্রিকই পূর্ণ করেছেন তিনি। ৫১ মিনিটে পেনাল্টি থেকে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেছেন রাইয়ান। তবে ৫৫ মিনিটে ভিতর রেইস প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে বুলেট গতির শটে যে গোলটি করেছেন, তা চোখে লেগে থাকার মতো। ১৭ বছর বয়সী একজনের পায়ে এত জোরাল শট অবিশ্বাসই জাগায়! ৬১ মিনিটে ব্রাজিলের সপ্তম গোলটি করেছেন ভিক্তর কুনিয়া।
আজ আর্জেন্টিনাও নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে নামছে বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৬টায়। জাপানের বিপক্ষে ম্যাচে আর্জেন্টিনারও জয়ের বিকল্প নেই, কারণ ব্রাজিলের মতো তারাও গ্রুপে প্রথম ম্যাচে হেরেছে। ফিফা প্লাস ওয়েবসাইটে সরাসরি দেখা যাবে খেলার লাইভস্ট্রিভিং।
ঢাকারিপোর্ট২৪.কম/এসপি/আরএএম