হার্নিয়া অপারেশনের পর শরীরটাও ঠিকঠাক করা খুব জরুরি বলে মনে করেছিলেন তিনি। তাই শুরু করে দেন ‘ওজন কমাও’ অভিযান। ক্রিকেটার ছিলেন বলে সবাই ধরেই নেন যে জিমে গিয়েই বোধহয় গাঁধার খাটুনি খেটেছেন। সেই ভুলটিই সবার আগে ভেঙে দিতে চাইলেন ১৯৯৬ সালে শ্রীলঙ্কার বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক অর্জুনা রানাতুঙ্গা, ‘আমি কিন্তু জিমে একদমই যাইনি।
হ্যাঁ শারীরিক পরিশ্রম করেছি। যদিও সেটি হাটাহাটির মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল।’
প্রচুর হেটেছেন আর সেই সঙ্গে কমিয়েছেন খাওয়াও। দুয়ে মিলে মোটাসোটা রানাতুঙ্গাকে দেখে অভ্যস্ত চোখ ধাক্কা না খেয়ে পারেই না।
শুক্রবার সকালে তাঁর ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ডেকলো টেকনোলজির কার্যালয়ে গিয়ে যে রানাতুঙ্গার দেখা পাওয়া গেল, তিনি একদমই হালকা-পাতলা। এখন আর শ্রীলঙ্কান সরকারের মন্ত্রী নন। এমনকি নন সংসদ সদস্যও। নিজের ব্যবসায়িক ব্যস্ততার ফাঁকে তাই স্বাস্থ্য সচেতনতায়ও যথেষ্ট সময় দেওয়ার অবকাশ আছে।
মোটামুটি একটি নিয়মের মধ্যে ঢুকে যাওয়াটা তাঁকে রোগ-ব্যাধির আক্রমণ থেকেও দূরে রাখছে, ‘৪০ কেজি ওজন কমিয়ে এখন বেশ ভালো আছি। শরীর ও মন ঝরঝরে থাকে।’ শ্রীলঙ্কার বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক অর্জুনা রানাতুঙ্গা। এখন অনেক বেশি সুশৃঙ্খল জীবনযাপনের প্রশান্তিও খেলে গেল তাঁর কথায়, ‘আমার জীবনে একটি ক্ষেত্রেই কেবল আমি বিশৃঙ্খল ছিলাম। সেটি খাওয়া-দাওয়ায়।
এখন একদম মেপে মেপে খাই। আমাকে এখন তাই সব ক্ষেত্রেই খুব সুশৃঙ্খল একজন মানুষ বলে মনে করতে পারেন।’ খাওয়া কমিয়ে, ওজন ঝরিয়ে টগবগে হতে চাওয়া মানুষটি বেশ কায়দা করে গোঁফও রেখেছেন। এই বদলটিও খুব বেশিদিন আগের নয়, ‘এই তো ছয় মাস হলো গোঁফ রেখেছি।’ রাজনীতি থেকে দূরে থেকে এখন নিজের ব্যবসাও বাড়াচ্ছেন রানাতুঙ্গা। হরেক রকমের ব্যবসা তাঁর। আজ সকালে পূর্ব নির্ধারিত সময়ে তাঁর প্রতিষ্ঠানে হাজির হওয়ার পর জানা গেল, সেটি সোলার প্যানেল স্থাপনের কাজ করে।
তবে এই এক ব্যবসাতেই থেমে নেই তিনি, ‘আরো ব্যবসা আছে আমার। ভারত থেকে ইলেকট্রিক বাইক আমদানি করে এনে এখানে বিক্রি করছি। সেই সঙ্গে মেডিক্যাল ল্যাবের যন্ত্রাংশ আমদানির ব্যবসাও আছে আমার।’ এখন দূরে থাকলেও আবার রাজনীতিতে ফেরার জন্যই যে ব্যবসায় মন-প্রাণ সঁপে দিয়েছেন, মজা করতে করতে বললেন সে কথাও, ‘ভাবলাম, সামনের (জাতীয়) নির্বাচন করতে হলে তো অনেক টাকার দরকার হবে। এজন্যই উপার্জনে মনোযোগ দিয়েছি। নির্বাচনে খরচ করার জন্য টাকা জমাচ্ছি (হাসি...)।’
ঢাকারিপোর্ট২৪.কম/এসপি/আরএএম