বর্ডার-গাভাস্কার সিরিজের প্রথম টেস্টে অস্ট্রেলিয়াকে রীতিমতো নাস্তানাবুদ করেছে ভারত। মাত্র দুই দিন আর দুই সেশনে স্বাগতিকদের কাছে বড় ব্যবধানে হারলো সফরকারিরা। নাগপুরে চার ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্টে অজিদের ইনিংস এবং ১৩২ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়েছে ভারত। ফলে ১-০ তে এগিয়ে গেলো রোহিত শর্মার দল।
দ্বিতীয় ইনিংসে মূলত এক সেশনে অলআউট হয় প্যাট ক্যামিন্সের দল। অস্ট্রেলিয়ার করা ১৭৭ রানের জবাবে প্রথম ইনিংসে ভারত করে ৪০০ রান। আর দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ৯১ রানে অলআউট হয় অজিরা।
নাগপুরে ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিং—ক্রিকেটের সব বিভাগেই অস্ট্রেলিয়াকে টেক্কা দিয়েছে ভারত। তবে সেটা শুধু পিচের জন্য নয়, ভারতীয় স্পিনারদের জুজু অজিদের পতনের মূল কারণ।
প্রথম ইনিংসে ২২৩ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নামে অস্ট্রেলিয়া। প্রথমে ধাক্কা দেন রবিচন্দ্রন অশ্বিন। ভারতের মাটিতে সিরিজের শুরুটা ভাল হল না অস্ট্রেলিয়ার বর্ষসেরা টেস্ট ক্রিকেটার উসমান খাজার। মাত্র ৫ রানে স্লিপে বিরাট কোহলির হাতে ধরা পড়েন বাঁহাতি এই ব্যাটার। অপর ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নারকেও সাজঘরে ফেরান অশ্বিন।
প্রথম ইনিংসে মতো দ্বিতীয় ইনিংসেও শুরুটা ভাল করেছিলেন মারনাস লাবুশেন। কিন্তু বড় করতে পারেননি তার ইনিংস। রবীন্দ্র জাদেজার শিকার হন তিনি। এরপর ম্যাট রেনশ ও পিটার হ্যান্ডসকম্বকেও সাজঘরে পাঠান অশ্বিন।
প্রথম ইনিংসে জাদেজার মতো দ্বিতীয় ইনিংসে দাপট দেখান অশ্বিন। ডানহাতি এই বোলারের অফ স্পিন, ক্যারম বল, ফ্লিপার কিছুই বুঝে উঠতে পারছিল না অজি ব্যাটাররা। মাত্র ৫২ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ফেলে তারা।
উইকেটকিপার অ্যালেক্স ক্যারিকে ফিরিয়ে নিজের ৫ উইকেট তুলে নেন অশ্বিন। অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ছয় ব্যাটারের পাঁচজনই এলবিডব্লিউ আউট হন। এক প্রান্তে টিকেছিলেন স্টিভেন স্মিথ। কিন্তু কারও সঙ্গ পেলেন না তিনি। দলীয় ৮৮ রানের মাথায় স্মিথকে বোল্ড করেন জাদেজা। কিন্তু পরে দেখা যায় সেটি নো বল।
তবে এতে বিশেষ কোনো সমস্যা হয়নি ভারতের। শেষ পর্যন্ত ৯১ রানে শেষ হয়ে যায় অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস। ২৫ রানে অপরাজিত ছিলেন স্মিথ। ভারতের পক্ষে অশ্বিন পাঁচটি, জাদেজা ও শামি দুটি করে এবং অক্ষর নেন এক উইকেট।
এর আগে তৃতীয় দিনের শুরুটা খুব ভালো হয়নি স্বাগতিকদের। দ্রুত আউট হয়ে যান রবীন্দ্র জাদেজা। এতেও কমেনি ভারতের রানের গতি। ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে অক্ষর প্যাটেলকে সঙ্গী করে ভারতের স্কোর ৪০০ নিয়ে যান মোহাম্মদ শামি।
আগের দিনের স্কোরের সঙ্গে মাত্র চার রান যোগ করে ব্যক্তিগত ৭০ রানে টড মারফির শিকার হন জাদেজা। পরে অক্ষরের সঙ্গে ৫২ রানের জুটি গড়েন শামি। ওয়ানডে মেজাজে ৪৭ বলে ৩৭ রান করেন শামি।
অন্যদিকে সেঞ্চুরি মিস করেন দুর্দান্ত ব্যাট করা অক্ষর। কিন্তু ৮৪ রানে অজি অধিনায়ক প্যাট কামিন্সের বলে বোল্ড হন বাঁহাতি এই ব্যাটার। ৭ উইকেট শিকার করে অভিষেকটা স্মরণীয় করে রাখলেন অজি স্পিনান টড মারফি।
নাথান লায়নের পর অস্ট্রেলিয়ার প্রথম স্পিনার হিসেবে টেস্ট অভিষেকে ৫ উইকেট শিকার করলেন তিনি। এ ছাড়া প্যাট কামিন্স নেন ২ উইকেট। এর আগে নিজেদের প্রথম ইনিংসে ১৭৭ রানে অলআউট হয় অস্ট্রেলিয়া।
ঢাকারিপোর্ট২৪.কম/জাক/আরএএম