বিশ্বকাপে দুটি বড় দলের ম্যাচে রোমাঞ্চ-নাটকীয়তা থাকবে না তা কী করে হয়! প্রথমার্ধে যা দেখা গেল, দ্বিতীয়ার্ধে সেটা যেন বিপরীত। দুই দলের দ্বৈরথে শেষ পর্যন্ত কারোরই জয় হলো না। স্পেনের বিপক্ষে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে ১-১ গোলে ড্র করেছে জার্মানি। পয়েন্ট ভাগ করে গ্রুপের শীর্ষেই রয়েছে স্পেন। তবে তলানিতে থাকা জার্মানরা এখনো টিকে থাকলেও বাদ পড়ার শঙ্কায়ও রয়েছে।
সোমবার দিবাগত রাত ১টায় আল বাইত স্টেডিয়ামে ‘ই’ গ্রুপের ম্যাচে মুখোমুখি হয় দু’দল। যে ম্যাচে স্পেনের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে কাতার বিশ্বকাপে শেষ ষোলো রাউন্ডে খেলার আশা টিকিয়ে রাখল জার্মানি। যেখানে প্রথমার্ধে কোনো গোল হয়নি। বিরতির পর আলভারো মোরাতা স্পেনকে এগিয়ে নেওয়ার পর শেষদিকে জার্মানিকে সমতায় ফেরান নিকলাস ফুলক্রুগ।
ম্যাচের দুটো গোলই এসেছে বদলি খেলোয়াড়ের হাত দিয়ে। আল বায়েত স্টেডিয়ামে ম্যাচের প্রথমার্ধটা অবশ্য ছিল একটু অন্যরকম। তবে আন্তোনিও রুদিগার অফসাইডে কাটা না পড়লে হয়তো এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যেত চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ৪০ মিনিটে ইয়োশুয়া কিমিখের ফ্রি-কিক থেকে নিখুঁত হেডে জালের ঠিকানা খুঁজে নিয়েছিলেন রুদিগার। কিন্তু কিমিখের শট নেওয়ার সময় অফসাইডে ছিলেন তিনি। ভিএআরের সংকেত পেয়ে রেফারিও তাই গোল বাতিলের সিদ্ধান্ত নেন।
খেলার শুরুতে বেশ কয়েকটি সুযোগ তৈরী করে স্পেন। কিন্তু ডি বক্সের সামনে আসতেই খেই হারিয়ে ফেলে। পাল্টা আক্রমণে যায় জার্মানিও। কিন্তু নিশানা ঠিক না থাকার কারণে তারাও খুব একটা ভয়ঙ্কর হতে পারেনি। ৪৫ মিনিট শেষে দুই দলই গোলমুখে কেবল একটি শট নিতে পারে। যদিও বল পজেশনে বেশি এগিয়ে ছিল স্পেন।
দ্বিতীয়ার্ধের ৯ মিনিটে মেয়ের প্রেমিক তোরেসকে তুলে আলভারো মোরাতাকে মাঠে নামান স্পেন কোচ লুইস এনরিকে। তার সেই সিদ্ধান্ত সফলতায় রুপ নিতে সময় নেয় মাত্র ৮ মিনিট। সাব থেকে মোরাতা হয়ে ওঠেন 'সুপার সাব'। জর্দি আলবার ক্রস থেকে বক্সের ভেতর দারুণ দক্ষতায় স্পেনকে এগিয়ে দেন এই ফরোয়ার্ড। গোল ঠিকমতো হজম করে উঠার আগেই আবারও স্প্যানিশদের আক্রমণ সামলাতে হয় জার্মানিকে। যদিও এবার সফল হননি মোরাতে।
দলের নাজেহাল অবস্থা থেকে ৭০ মিনিটে তিন খেলোয়াড়কে তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন জার্মান কোচ ফ্লিক। বদলি হিসেবে নামা সেই তিন জনের একজন ছিলেন নাম্বার নাইন ফুলক্রুগ। তাতে ধার বাড়ে আক্রমণে। দলের সবচেয়ে প্রতিভাবান তরুণ খেলোয়াড় জামাল মুসিয়ালা ছন্দে থাকলেও তাকে কোনোভাবেই সুযোগ দিচ্ছিলেন না স্পেনের ডিফেন্ডাররা। সেই মুসিয়ালার থেকে বল নিয়ে ৮৩ মিনিটে জার্মানিকে হাফ ছেড়ে বাঁচান ফুলক্রুগ। বক্সের ভেতর থেকে দুর্দান্ত এক শটে জালের ঠিকানা খুঁজে নেন এই স্ট্রাইকার। যা ঠেকানোর পর্যাপ্ত সময়ও পাননি স্প্যানিশ গোলরক্ষক উনাই সিমোন। শেষ দিকে জয়ের জন্য আরো মরিয়া হয়ে উঠে জার্মানরা। কিন্তু কিমিখ-ফুলক্রুগরা চেষ্টা করেও কাঙ্খিত গোলের দেখা পাননি।
শীর্ষে থাকা স্পেন ২ ম্যাচে ৪ পয়েন্ট পেয়েছে। সমান ম্যাচে ৩ পয়েন্ট করে যথাক্রমে দ্বিতীয় ও তৃতীয়স্থানে জাপান ও কোস্টারিকা। তবে ২ ম্যাচে মাত্র ১ পয়েন্ট নিয়ে তলানিতে রয়েছে হ্যান্স ফ্লিকের শিষ্যরা।
ঢাকারিপোর্ট২৪.কম/এমজার/আরএএম