বাড়ি ভাড়া,সাইনবোর্ড,ভর্তি বিজ্ঞপ্তি,বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ভিন্নধর্মী বিজ্ঞাপনের প্রচারণায় ভরপুর রাস্তার আশপাশ৷ প্রত্যেকটি পোষ্টার,লিফলেট,হ্যান্ডবিল আর বিজ্ঞাপনগুলো তৈরী করা হয়েছে ইংরেজি লেখা দিয়ে৷
ইংরেজীতে সাইনবোর্ড বানিয়ে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে রাস্তার ধারের গাছে আর ঘরের দেওয়ালে৷ প্রচারণায় বাংলা ভাষার ব্যবহার বিলীন হয়ে যাওয়ার মত৷
তবে কি ইংরেজি ভাষায় প্রচার-প্রচারণা করার জন্য ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনে সালাম, বরকত, রফিক জব্বারেরা আওয়াজ তুলেছিলেন। আর নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন৷ ইংরেজী ভাষার প্রচারণা দেখার জন্য?
ঠাকুরগাঁও শহরের আশেপাশে ঘুরে দেখা যায় ব্যক্তি কিংবা প্রতিষ্ঠান সব প্রচারণায় বেশী ব্যবহার করা হয়েছে ইংরেজি ভাষা। যা একদিকে যেমনিভাবে নিজের ভাষার প্রতি অবমাননা অপরদিকে আইন অবমাননা করা।
হাইকোর্টের নির্দেশ মতে, কোন প্রচারণার ৬০ ভাগ বাংলা ভাষার ব্যবহার করতে হবে৷ আর বাকী ৪০ ভাগ আলাদা ভাষার ব্যবহার করা যেতে পারে৷
বাস্তবে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ডে বাংলা ভাষার ব্যবহার একেবারে তলানীতে পরে আছে৷ আর কোন প্রতিষ্ঠানের শতভাগ ও প্রায় ৯০ ভাগ ব্যবহার করা হয়েছে ইংরেজি ভাষা৷
এ বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষাবিদ প্রফেসর মনতোষ কুমার দে বলেন, আমরা অধিকাংশ প্রচারণায় দেখি ইংরেজি ভাষার প্রয়োগ। তাহলে এতে করে বাংলা ভাষাকে অসম্মান করা হল না। আর আমাদের দেশে এমন না যে বাইরের দেশের মানুষ অধিকাংশ সময় আসে। তাদের জন্য ইংরেজিতে সাইনবোর্ড করতে হবে। এটি যেমনিভাবে আইনগত অপরাধ তেমনি মাতৃভাষা কে অসম্মান৷ আমাদের সকলকে এই বিষয়গুলোতে সচেতন হওয়া দরকার।
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু তাহের মোঃ শামসুজ্জামান বলেন, সাইনবোর্ড তৈরীতে হাইকোর্টের একটি নির্দেশনা আছে। সেটি যারা মেনে চলেননি তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঢাকারিপোর্ট২৪ডটকম/সাকা/আরএএম