অনশনের দীর্ঘ ১৬২ ঘণ্টারও বেশি সময় পর বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালের হাতে অনশন ভেঙেছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) আন্দোলনরত ২৮ শিক্ষার্থী।
বুধবার (২৬ জানুয়ারি) সকালে সস্ত্রীক ক্যাম্পাসে এসে পানি পান করিয়ে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ ৭ দিনের অনশন ভাঙান শাবিপ্রবির এই সাবেক শিক্ষক।
ড. জাফর ইকবাল বলেন, এখানে আমি আসতে চাইছিলাম না। কারণ তোমরা আমরা কথা না শুনলে তাই! তবে আমার ছেলে-মেয়েদের ওপর বিশ্বাস ছিল, তাই এসেছি। আমি সংকল্প করে এসেছি তোমাদের অনশন ভাঙিয়ে তারপর আমি সিলেট ছাড়ব। আমি চাই তোমরা আন্দোলন চালিয়ে যাও, তবে অনশন ভেঙে আন্দোলন করো। আন্দোলন আর অনশন ভিন্ন জিনিস! আমি এসেছি তোমাদের অনশন ভাঙাতে। পরে সকালে শিক্ষার্থীরা তার হাতে পানি পান করে অনশন ভাঙেন।
শিক্ষার্থীদের চিকিৎসার বিষয়ে তিনি বলেন, আমি মনে করেছিলাম যারা অনশন করতেছে তাদের যথাযথভাবে মেডিক্যাল সাপোর্ট দিচ্ছে। তবে এখানে এসে যা দেখলাম তা দেখে খুবই হতাশ হয়েছি। চিকিৎসা না দিয়ে ডাক্তাররা খুবই অমানবিক কাজ করেছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, এই কয়দিনে তোমরা দেশের সব মহলকে দেখিয়ে দিয়েছ। তোমাদের কথা সবার কাছে পৌঁছে গেছে। আমি নিজেও এখান থেকে ফিরে তোমাদের কথা পৌঁছে দেব। আমি চাই না তোমরা নিজেদের জীবনকে হুমকির মধ্যে ফেলে দাও।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের হাতে টাকার অনুদান তুলে দিয়ে তিনি বলেন, আমি তোমাদের হাতে ১০ হাজার টাকা তুলে দিলাম। এখন দেখি আমাকে কে গ্রেফতার করে? আমি দেখতে চাই কারা আমাকে অ্যারেস্ট করতে আসেন।
এ সময় ড. ইয়াছমিন হক বলেন, আমার মনে হয় যে তদন্ত কমিটি করা হয়েছে তা নামসর্বস্ব। এখন প্রতিটি ঘণ্টা তোমাদের স্বাস্থ্যের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা চাই তোমরা অনশন ভেঙে আন্দোলন চালিয়ে যাও। তবে এজন্য তোমাদের বেঁচে থাকতে হবে। আমি এর আগে অনেক আন্দোলন দেখেছি এবং করেছি। তবে এমন নিষ্ঠুর আচরণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে করতে দেখিনি!
শিক্ষার্থীরা বলেন, স্যার আমরা আপনাকে বিশ্বাস করি। আপনার আশ্বাসে আমরা অনশন ভাঙছি। তবে আমাদের কথা দিয়ে আপনারা তা ভাঙবেন না সে বিশ্বাস আমাদের আছে।
আন্দোলনকারীরা মঙ্গলবার (২৫ জানুয়ারি) তাদের সহপাঠীদের অনশন ভাঙার ঘোষণা দেন। তবে তারা চেষ্টা করলেও অনশনকারীরা নিজেদের দাবিতে অনড় থাকেন এবং অনশন চালিয়ে যান। এর আগে শিক্ষামন্ত্রীসহ বিভিন্ন মহল থেকে শিক্ষার্থীদের অনশন ভাঙানোর চেষ্টা করে তা সফলতার পথ পায়নি। অবশেষে শেষ আশ্রয়স্থল হিসেবে ড. জাফর ইকবালের ভরসা পেয়ে অনশন ভাঙতে সম্মত হন শিক্ষার্থীরা।