সোমবার, সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬

৬ আশ্বিন ১৪৩৩

সরকার অনুমোদিত অনলাইন গণমাধ্যম
BD.GOV.REG.NO-88

সোমবার, সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬

৬ আশ্বিন ১৪৩৩

সরকার অনুমোদিত অনলাইন গণমাধ্যম
BD.GOV.REG.NO-88

আপনি পড়ছেন : স্বাস্থ্য

আবার ট্রায়ালে যাচ্ছে অক্সফোর্ড অ্যাস্ট্রাজেনেকার ভ্যাকসিন


DhakaReport24.com || 2020-11-28 21:26:00
আবার ট্রায়ালে যাচ্ছে অক্সফোর্ড অ্যাস্ট্রাজেনেকার ভ্যাকসিন


কভিড-১৯ মহামারী প্রতিরোধে আশার সঞ্চার জাগিয়েছিল যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও অ্যাস্ট্রাজেনেকা উদ্ভাবিত ভ্যাকসিন। প্রাণঘাতী নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে উদ্ভাবিত ভ্যাকসিনটি ৯০ শতাংশ পর্যন্ত কার্যকর বলে দাবি করা হয়। তবে এ দাবির বিরুদ্ধে সমালোচনা শুরু হওয়ায় নতুন করে বিশ্বব্যাপী আবারো ট্রায়ালে যাচ্ছে তারা। খবর গার্ডিয়ান ও দ্য ওয়ার্ল্ড।

করোনা প্রতিরোধে সবচেয়ে বেশি আশা ছিল অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও অ্যাস্ট্রাজেনেকা উদ্ভাবিত ভ্যাকসিনটি নিয়ে। দাবি করা হয়েছিল, তাদের ভ্যাকসিন ৯০ শতাংশ পর্যন্ত কার্যকর, উৎপাদন প্রক্রিয়া সহজতম এবং দাম সবচেয়ে কম। ফলে বিশ্বব্যাপী এ ভ্যাকসিন নিয়েই সবচেয়ে আশাবাদী ছিল মানুষ। তবে ভ্যাকসিনটির এমন দ্রুত সফলতা নিয়ে বিশেষজ্ঞসহ বিভিন্ন মহল থেকে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। তারা বলছেন, ভ্যাকসিনটির ট্রায়াল প্রক্রিয়ার ত্রুটি রয়েছে। ফলে এটি দ্রুততার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন পেতে বেগ পোহাতে হতে পারে।

কিছু গবেষক অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা উদ্ভাবিত ভ্যাকসিনের ট্রায়াল নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে বলছেন, যে দ্রুততার সঙ্গে ভ্যাকসিনটির ৯০ শতাংশ কার্যকর বলে দাবি করা হচ্ছে, সেটির ট্রায়ালের ক্ষেত্রে ত্রুটি রয়েছে। বিশেষ করে যেসব সাব-গ্রুপ অংশগ্রহণকারী এটির ট্রায়ালে অংশ নিয়েছিল, শুরুতে তাদের অর্ধেক ডোজ এবং পরে পুরো ডোজ দেয়া হয়েছে, যেটিই এ ট্রায়ালের সবচেয়ে বড় ত্রুটি।

যুক্তরাষ্ট্রের একজন বিশ্লেষক ইনভেস্টর নোটে লিখেছেন, আমরা বিশ্বাস করি ভ্যাকসিনটি কখনই যুক্তরাষ্ট্রের লাইসেন্স পাবে না। একই নোটে তিনি ভ্যাকসিনটিকে ঘিরে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা অতিরঞ্জিত তথ্য দিচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন।

এদিকে ভ্যাকসিনটি নিয়ে এমন সমালোচনার মধ্যেই অক্সফোর্ডের মেডিসিনের রেজিয়াস প্রফেসর ও যুক্তরাজ্য সরকারের বিজ্ঞান উপদেষ্টা স্যার জন বেল আগের ট্রায়াল সঠিকভাবে হয়নি বলে উত্থাপিত দাবিটি নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি বলেন, আমরা এ ট্রায়াল নিয়ে কিছুই লুকোচুরি করছি না। আমরা এটির পুরো পিয়ার রিভিউ খুব দ্রুতই ল্যানসেট মেডিকেল জার্নালে প্রকাশ করব।

তবে ভ্যাকসিনটি আবারো ট্রায়ালে যেতে পারে বলে গত সপ্তাহে চাউর হয়েছিল। বিশেষ করে কোম্পানি ও অক্সফোর্ডের গবেষকদের আলোচনার পর যখন ঘোষণা করা হয়, ভ্যাকসিনটি ৭০ শতাংশই কার্যকর, তখনই এটির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। ওই ঘোষণা থেকে জানা যায়, যুক্তরাজ্যের তিন হাজারের কম লোকের ওপর ভ্যাকসিনটি প্রয়োগের ক্ষেত্রে ভুলবশত কম ডোজ প্রয়োগ করা হয়েছে। কিন্তু তাদের ক্ষেত্রে ফলাফল ৯০ শতাংশ কার্যকর এসেছে। যদিও ব্রাজিল ও যুক্তরাজ্যের অধিকাংশ স্বেচ্ছাসেবীর মাঝে ভ্যাকসিনটি প্রয়োগে ৬২ শতাংশ কার্যকর বলে ফলাফল পাওয়া গেছে।

ডোজ কম দেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে অ্যাস্ট্রাজেনেকার হেড অব বায়োফার্মাসিউটিক্যালস আরঅ্যান্ডডি স্যার মেনি প্যাঙ্গোলাস বলেন, যাদের মধ্যে ভ্যাকসিনটি ডোজ কম দেয়ার ঘটনা ঘটেছে, তাদের সবারই বয়স ৫৫-এর মধ্যে। ফলে কম বয়সীদের মধ্যে ভাইরাসটির মারাত্মক রূপ না নেয়ার কারণেই ভালো ফল পাওয়া গেছে।

একই ধরনের কথা জানিয়েছে ভ্যাকসিন তৈরিতে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের তহবিলে পরিচালিত প্রকল্প ‘অপারেশন ওয়ার্প স্পিড’। তারা বলছে, ট্রায়ালের যে গ্রুপটিতে ভ্যাকসিনটি ৯০ শতাংশ কার্যকর দেখা গেছে, সেটিতে সবারই বয়স ছিল ৫৫ বছরের মধ্যে। এ বয়সে কভিড-১৯ মারাত্মক রূপ নেয়ার সম্ভাবনা কম।

এর আগে মার্কিন ওষুধ কোম্পানি ফাইজার ও জার্মান প্রাণ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান বায়োএনটেকের উদ্ভাবিত ভ্যাকসিনটি ৯৫ শতাংশ এবং আরেক মার্কিন প্রতিষ্ঠান মডার্নার টিকা ৯৪ দশমিক ৫ শতাংশ সুরক্ষা দিতে পারে বলে দাবি করা হয়। আর তৃতীয় ভ্যাকসিন হিসেবে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার ভ্যাকসিনটির ট্রায়াল সফলতার কথা জানার পরই বিশ্বব্যাপী আশার সঞ্চার দেখা দিতে শুরু করে। বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য ভ্যাকসিনটি সহজলভ্য হবে এবং এটি সাধারণ ফ্রিজের তাপমাত্রায় রাখা যাবে এমন সব বৈশিষ্ট্য ঘিরে আশা জাগিয়েছিল তারা।

কিন্তু ভ্যাকসিনটির ট্রায়ালের ক্ষেত্রে এমন ত্রুটি সামনে আসায় এখন তারা খুব দ্রুত নতুন করে ট্রায়ালে যাওয়ার কথা বলছে। বিশেষ করে যেসব ক্ষেত্রে অর্ধেক ডোজ বা কম ডোজ দেয়ার ঘটনা ঘটেছে, তেমন বয়সী ব্যক্তিদের ওপর এ ট্রায়াল দেয়া হবে। যদিও এটি ভ্যাকসিনটি অনুমোদনের ক্ষেত্রে কোনো বাধা হয়ে উঠবে না বলে মনে করছেন স্যার জন বেল। তিনি বলেন, ব্রিটেনে ভ্যাকসিনের লাইসেন্স প্রদানকারী সংস্থা এমএইচআরএ খুব ভালোভাবেই জানে, তারা আমাদের সব প্রটোকল অনুমোদন করেছে।