গাইবান্ধায় ঘরে ঘরে ‘চোখ ওঠা’ বা কনজাংটিভাইটিস আক্রন্ত রোগীর দেখা মিলছে। মিলছেনা এই রোগের ক্লোরামফেনিকল গ্রুপের ড্রপ। জেলার সর্বত্রই এ ভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছেন শিশুসহ নানা বয়সের মানুষ। চিকিৎসা নিতে হাসপাতাল আর স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ছুটছেন রোগীরা। এদিকে চোখ ওঠা রোগ নিরাময় করে ক্লোরামফেনিকল গ্রুপের সংকট দেখা দিয়েছে গাইবান্ধার ফার্মেসীগুলোতে। ওষুধ ব্যবসায়ীদের দাবি, এসব প্রতিষেধকের চাহিদা বাড়লেও কোম্পানিগুলো তা সরবরাহ করতে পারছে না।
চিকিৎসকরা বলছেন, চোখ ওঠা রোগ সাধারণত ভাইরাস ও ব্যাক্টেরিয়ার কারণে হয়। এই রোগের আসল নাম কনজাংটিভাইটিস। ভাইরাস জনিত এই রোগ মুলত ছোঁয়াচে। এই রোগে আক্রন্তরা সাধারণত চিকিৎসা ছাড়াই পাঁচ থেকে সাত দিনের মধ্যে ভালো হয়ে যায়। চিকিৎসকরা এতে এসকিউমাইছিটিন গ্রুপের ড্রপ ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। আর এ কারণেই চোখের সব ড্রপ বাজার থেকে উধাও।
সরেজমিন গাইবান্ধার মার্কেটের বিভিন্ন ফার্মেসি ঘুরে দেখা যায়, চোখের কোনও ড্রপ অধিকাংশ ফার্মেসিতেই নেই। প্রায় প্রতিটি ফার্মেসিতে চোখের ড্রপের কথা বলতেই নেই বলে জানান। গেলো এক সপ্তাহে গাইবান্ধার হাট-বাজার এবং রাস্তাঘাটে অসংখ্য চোখ উঠা রোগীর দেখা মেলছে।
গাইবান্ধা শহরের মাস্টারপাড়া এলাকার ফিরোজ কবীর জানান, প্রথমে তার মেয়ে শিশুর চোখ উঠে। এর পর তাদের পরিবারের চার জনের চোখ উঠে। দুইদিন আগে তারও চোখ উঠেছে। চোখে ব্যথা অনুভব হচ্ছে এবং মাঝে মধ্যে দুই চোখ দিয়ে পানি ঝরছে। কিন্তু দুদিন হয়ে গেলেও বাজারে খুঁজে পাচ্ছেন না ড্রপ।
অপর রোগী শহরের মুন্সিপাড়ার বিজন কুমার বলেন, ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী এসকিউমাইসিটিন একটি চোখের ড্রপ কিনতে পৌর শহরের ২১টি ফার্মেসিতে খোঁজ করেছি, একটি ড্রপ পেলেও কিনতে হলো দ্বিগুন দাম দিয়ে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক থানাপাড়ার এক ব্যাক্তি বলেন, আমার বড় মেয়ের চোখ ওঠেছে। পরে আমি গাইবান্ধা জেলা হাসপাতালে গিয়ে পরামর্শ নিয়ে সেই বিকেল থেকে খুঁজতে খুঁজতে আমি রাত সাড়ে ৯টার দিকে এক দোকনে চোখের ড্রপ পেয়েছি। আর কোন ফার্মেসিতে চোখের ড্রপ নাই।
গাইবান্ধার পৌর শহরের ডিবি রোডের ১ নং ট্রাফিক মোড়ের মন্ডল ফার্মেসির স্বত্তাধিকারী রনি মন্ডল বলেন, রোগিদের চাহিদা থাকলেও নিয়মিত পাওয়া যাচ্ছে না এসকিউমাইসিটিন। প্রায় সব কোম্পানি চোখের ড্রপের একমাস থেকে সরবরাহ নাই বল্লেই চলে।
আরকে ফার্মেসির স্বত্তাধিকারী রুহুল আমিন বলেন, শুরুর দিকে যা ছিল সবার কাছে বিক্রি করেছি। কিন্তু পরে কোনও কোম্পানি আর পর্যাপ্ত চোখের ড্রপ সরবরাহ করতে পারেনি। মাঝে মধ্যে দুই-একটি কোম্পানি সরবরাহ করছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম।
স্কয়ার ফার্মাসিটিকেলের রিপ্রেজেন্টেটিভ বলেন, এসকিউমাইসিটিন ড্রপের চাহিদা দেয়া হয়েছে। আজ কালের মধ্যে সরবরাহ করা হবে।
এ ব্যাপারে গাইবান্ধা জেলা হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ড. শিহাব বলেন, ভাইরাসজনিত এ রোগ এমনিতে ঠিক হয়ে যায়। চোখ ওঠা রোগে আক্রান্ত রোগির সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় ক্লোরামফেনিকল এই ড্রপ এর সংকট দেখা দিচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, এই রোগে আক্রান্ত হলে রোগীর ব্যবহৃত তোয়ালে বা গামছা সুস্থ কারও ব্যবহার না করার পরামর্শ দেন তিনি। তিনি বলেন, কেউ এই ভাইরাস দ্বারা সংক্রমিত হলে চোখের ডাক্তারে পরামর্শ নিতে হবে।
ঢাকারিপোর্ট২৪.কম/এসএ/আরএএম