ভারত থেকে ২০ হাজার মেট্রিক টন পেঁয়াজ ও ৫০ হাজার মেট্রিক টন চিনি আমদানি করা হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু। এছাড়া ব্রাজিলসহ অন্যান্য দেশ থেকে তেল-চিনি আসছে বলেও জানান তিনি।
শুক্রবার (২৬ জানুয়ারী) বেলা ১১টায় টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে তার নিজ বাসভবনে স্থানীয় নেতাদের সাথে মতবিনিময়কালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।
বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু বলেন, ‘আমাদের দেশের আমদানিকারক ও উৎপাদনকারীদের সঙ্গে বৈঠক করেছি। চিনি, তেল ও খেজুরের শুল্ক বেশি ছিল। সেই শুল্ক আমরা যাতে যোক্তিক পর্যায়ে নিয়ে আসতে পারি, সে বিষয়ে এনবিআরে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে আগামী সপ্তাহে একটা ঘোষণা আসবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের দেশের জন্য বড় একটা সুসংবাদ আছে। ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী আমাকে ফোন করেছিলেন শুভেচ্ছা জানাতে। বাংলাদেশে ভারত পেঁয়াজ ও চিনি রপ্তানি বন্ধ করেছিল-সেই বিষয়ে আমি কথা বলেছি। ভারত থেকে ২০ হাজার মেট্রিক টন পেঁয়াজ ও ৫০ হাজার মেট্রিক টন চিনি আমদানি করা হবে। এছাড়াও ব্রাজিলসহ অন্যান্য দেশ থেকে তেল চিনি আসছে।’
এ সময় দেলুদয়ার উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান মারুফ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল হকসহ স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশ থেকে ওষুধ, পাট ও চামড়াজাত পণ্যসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানি করতে চাচ্ছে রাশিয়া। আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটুর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতকালে এ আগ্রহের কথা জানান ঢাকায় নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার ভি মান্টিটস্কি।বৈঠক শেষে বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ-রাশিয়ার সম্পর্ক ঐতিহাসিক। সময়ের ব্যবধানে এই সম্পর্ক নতুন মাত্রা লাভ করেছে। উভয় দেশের সম্পর্ক বিশেষ করে ব্যবসা-বাণিজ্য এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করতে রাশিয়া সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
রাশিয়া বাংলাদেশ থেকে আমদানির চেয়ে রপ্তানি বেশি করে থাকে উল্লেখ করে এই ব্যবধান কমানোর জন্য বাংলাদেশ থেকে আরও বেশি পণ্য রাশিয়ায় আমদানির আহ্বান আহসানুল ইসলাম টিটু। এ সময় রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশ থেকে ওষুধ ফার্মাসিউটিক্যালস, পাট ও চামড়াজাত পণ্য, সিরামিকস, খাদ্যপণ্য ইত্যাদি আমদানি করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। উভয় দেশের মধ্যে কৌশলগত বাণিজ্যিক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বাড়ানোর জন্য রাশিয়ায় বাংলাদেশি পণ্যের, বিশেষ করে হস্তশিল্পের প্রদর্শনীর আয়োজন করার আহ্বান জানালে মস্কোতে প্রদর্শনী আয়োজনে সব ধরনের সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেন আলেকজান্ডার ভি মান্টিটস্কি।
বাংলাদেশ ও রাশিয়ার আমদানি-রপ্তানির সরাসরি বিনিময় ব্যবস্থা চালুকরণের বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তি করার আহ্বান জানান বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী। এ সময় রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে রাশিয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা স্থাপনের আগ্রহ প্রকাশ করলে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সহযোগিতার আশ্বাস দেন বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী। বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব তপন কান্তি ঘোষ এবং মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ঢাকারিপোর্ট২৪.কম/এমআর /আরএএম