রবিবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬

৫ আশ্বিন ১৪৩৩

সরকার অনুমোদিত অনলাইন গণমাধ্যম
BD.GOV.REG.NO-88

রবিবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬

৫ আশ্বিন ১৪৩৩

সরকার অনুমোদিত অনলাইন গণমাধ্যম
BD.GOV.REG.NO-88

আপনি পড়ছেন : জাতীয়

আশা জাগাচ্ছে করোনাভাইরাসের অ্যান্টিবডি চিকিৎসা


DhakaReport24.com || 2020-10-07 21:40:30
আশা জাগাচ্ছে করোনাভাইরাসের অ্যান্টিবডি চিকিৎসা


করোনাভাইরাসের অ্যান্টিবডি তৈরি করা দ্বিতীয় একটি সংস্থা দৃঢ় ইঙ্গিত দিয়েছে, তাদের তৈরি মনোক্লোনাল অ্যান্টিবডিগুলো কভিড-১৯ আক্রান্ত, তবে গুরুতর অসুস্থ নয়—এমন ব্যক্তিদের চিকিৎসায় কার্যকর হতে পারে। বায়োটেক রেজেনেরন ফার্মাসিউটিক্যালস দুটি মনোক্লোনাল অ্যান্টিবডি দিয়ে একটি ককটেল তৈরি করেছে, যা করোনাভাইরাসের সারফেস প্রোটিনের সঙ্গে সংযুক্ত থাকে এবং এটা সংক্রামক কোষ থেকে ভাইরাসটিকে আটকানোর চেষ্ট করে। সম্প্রতি মার্কিন ওষুধ প্রস্তুতকারক এ সংস্থাটি প্রাথমিক ফলাফল প্রকাশ করেছে।

সংস্থাটি একটি প্ল্যাসেবো নিয়ন্ত্রিত ট্রায়ালের পর কভিড-১৯ সংক্রমিত ২৭৫ জন ব্যক্তির বিশদ তথ্যসহ স্লাইড প্রকাশ করেছে। তাদের লক্ষ্য আছে লক্ষণহীন, প্রচণ্ড ও মাঝারি অসুস্থ আরো ২ হাজার ১০০ জন ব্যক্তিকে ট্রায়ালে তালিকাভুক্ত করা। বিশ্লেষণটি রোগীদের দুটি দলে বিভক্ত করে; ট্রায়ালের শুরুতে এক দলের কভিড-১৯-এর শনাক্তযোগ্য অ্যান্টিবডি ছিল এবং অন্য দলের ছিল না অর্থাৎ একটি সেরোনেগেটিভ গ্রুপ।

ভাইরাসের বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি থাকা ব্যক্তিদের মনোক্লোনাল ককটেল খুব কম প্রভাব দেখিয়েছিল। তবে এটা সেরোনেগেটিভ রোগীদের সহায়তা করেছিল। এটা তাদের নাসাল সোয়াবে পাওয়া ভাইরাসের পরিমাণ হ্রাস করেছিল এবং লক্ষণগুলো দ্রুতই সারিয়ে তুলেছিল।

গবেষণাটির সঙ্গে জড়িত নন এমন একজন বিশেষজ্ঞ, নর্থ ক্যারোলাইনা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেরন কোহেন বলেন, এগুলো আশা জাগানো ফলাফল। দুই সপ্তাহ আগে আরেক ওষুধ প্রস্তুতকারক সংস্থা এলি লিলির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে একক মনোক্লোনাল অ্যান্টিবডির পরীক্ষায় প্রাথমিক ফলাফল রেজেনেরনের ডাটাগুলোর সঙ্গে মিল রয়েছে বলে জানিয়েছে। দুটি প্রতিবেদনই একই ফলাফল দেখিয়েছে। তবে তিনি সতর্ক করেছেন, কোনো ফলাফলই এখনো কোনো জার্নালে প্রকাশিত হয়নি, উভয় ট্রায়াল চলমান রয়েছে এবং এই পরীক্ষামূলক ওষুষগুলো কীভাবে রোগীদের সহায়তা করতে পারে, তা বোঝার জন্য আরো তথ্য প্রয়োজন।

লিলি অদ্ভুতভাবে তাদের অ্যান্টিবডির পরীক্ষার সর্বাধিক ডোজের কোনো প্রভাব দেখতে পায়নি এবং রেজেনেরনও তাদের অ্যান্টিবডির পরীক্ষামূলক ট্রায়ালে কম ও বেশি ডোজের মধ্যে কোনো পার্থক্য পায়নি। দুই সংস্থার মনোক্লোনাল অ্যান্টিবডিগুলো শক্তিশালী সার্স-কোভ-২ অ্যান্টিবডিগুলোর ক্লোন, যেগুলো টেস্টটিউব গবেষণায় ভাইরাসকে নিষ্ক্রিয় করতে পারে বলে দেখা গিয়েছিল। কভিড-১৯ থেকে সেরে ওঠা মানুষ বা কৃত্রিমভাবে সংক্রমিত করা ইঁদুরের অ্যান্টিবডি থেকে গবেষকরা জিনগুলো সংগ্রহ করেছিলেন। প্রচুর অ্যান্টিবডি তৈরির জন্য তখন জিনগুলো চাইনিজ ইঁদুরের ডিম্বাশয়ের কোষগুলোতে রাখা হয়েছিল। এগুলো পরবর্তী সময়ে স্যালাইনের মাধ্যমে কভিড-১৯ রোগীদের শরীরে প্রবেশ করানো হয়।

রেজেনেরন ডাটাতে ট্রায়ালের শুরুতে সর্বাধিক মাত্রায় ভাইরাস থাকা কভিড-১৯ সেরোনেগেটিভ রোগীদের মধ্যে কার্যকরী হিসেবে দেখা গেছে। প্ল্যাসেবো প্রাপ্ত রোগীদের সঙ্গে তুলনা করলে ফলাফলগুলো পরিসংখ্যানগতভাবে তাত্পর্যপূর্ণ ছিল।

লিলির প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড্যানিয়েল স্কোভ্রনস্কি বলেন, রেজেনেরন ডাটাগুলো বেশ নিশ্চিত। আমি আশা করি না যে ভালো নিরপেক্ষ অ্যান্টিবডিগুলোর মধ্যে বড় কোনো পার্থক্য রয়েছে। অ্যান্টিবডিগুলো এমন লোকদের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি কাজ করবে, যারা নিজেরা ভাইরাসটিকে পরাজিত করতে পারে না। দুটি গবেষণার মূল পার্থক্য হলো লিলি কম সেরোনেগেটিভ লোকদের অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং প্রভাবটি এখনো পরীক্ষা করছে। তবে এ অ্যান্টিবডি গ্রহণকারী লোকদের হাসপাতাল ও আইসিইউতে ভর্তি হওয়ার সংখ্যা হ্রাস করেছে বলে দেখা গেছে। অ্যান্টিবডিপ্রাপ্ত কভিড-১৯ আক্রান্ত ৩০২ জন রোগীর মধ্যে পাঁচজনকে (১ দশমিক ৭) এবং প্ল্যাসেবো প্রাপ্ত ১৫০ জন রোগীর মধ্যে নয়জনকে (৬ শতাংশ) হাসপাতাল বা আইসিইউতে চিকিৎসা নিতে হয়েছে। ট্রায়ালটি অল্পসংখ্যক মানুষের ওপর পরিচালিত হলেও অ্যান্টিবডিটি হাসপাতালে ভর্তির ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য তৈরি করেছে।

অন্যদিকে রেজেনেরন এখনো পর্যাপ্ত ডাটা প্রকাশ করেনি। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো মনোক্লোনাল অ্যান্টিবডিগুলো তৈরি করা ওষুধের তুলনায় অনেক বেশি ব্যয়বহুল। অনেক দেশের পক্ষে এটা কেনার সামর্থ্য নাও থাকতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র সরকার এ বছরের শেষ অবধি রেজেনেরনের তিন লাখ ডোজ অ্যান্টিবডি উৎপাদনের জন্য ৪৫০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে।

সায়েন্সম্যাগ থেকে সংক্ষেপে অনূদিত