পটুয়াখালী গলাচিপা উপজেলার সদর ইউনিয়নের মুরাদনগর গ্রামে বি এ ডি সি প্রকল্প বরিশাল জোন আলু চাষিদের নিয়ে গত সোমবার বিকেল সারে চারটা সময়ে চুক্তি বদ্ধ আলু চাষি এবং অন্যান্য চাষিদের নিয়ে এক মাঠ দিবস ২০২৩ অনুষ্ঠিত হয়।
চলমান আলু জাতের মধ্যে বরিশাল জোনে যেসব জাতের আলু বেশি রোপন এবং ফলন বেশি তা হলো ডায়মনড,এস্টারিক, ল্যাবেলা এবং সানসাইন। চলতি বছরেই প্রথম সানসাইন আলু বীজ বরিশাল জোনে চাষিদের রোপণ করতে দেয়া হয়, সমস্ত আলুর তুলনায় সানসাইন জাতের আলু সবচাইতে আগাম ও বেশি ফলন পাওয়া যায় বলে উপস্থিত সকলের মতামত। সানসাইন আলু বীজ থেকে প্রতি হেক্টরে ৩৪ টনের অধিক ফলন পাওয়া যাবে বলে বি এ ডি সি এবং কৃষকগন ধারনা করেছে।
এছাড়া প্রকল্পগত নিয়মিত চুক্তি বদ্ধ কৃষকদের মাঠ পর্যায়ে বীজ বপনের নির্দিষ্ট সময়,গাছের যত্ন,সেচ, ফসল রক্ষনাবেক্ষন সহ বীজ সংরক্ষণের প্রশিক্ষন দিয়ে, বিগত প্রায় ৬ বছর যাবৎ আলু চাষি সহ বিভিন্ন কৃষকদের মাঝে সরকার নির্ধারিত মূল্যে উন্নত জাতের বীজ দিয়ে সার্বক্ষনিক তত্ত্বাবধানে রেখে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে প্রকল্পের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
কৃষিবিদ কে এম আক্তার হোসেন উপ-পরিচালক (টিসি) আলু বীজ হিমাগার (বি এ ডি সি) বরিশাল গনমাধ্যমকে জানান, দেশে বি এ ডি সি প্রকল্পের মোট ২৮টি জোনে চুক্তি বদ্ধ কৃষকদের জন্য বিভিন্ন জাতের প্রায় সাড়ে ছয় লক্ষ টন আলু বীজ উৎপাদন করা হয়। বরিশাল জোনে প্রকল্পের চুক্তি বদ্ধ আলু চাষিদের সংখ্যা শতাধিক তার ভিতরে শুধু গলাচিপা উপজেলায় আছে প্রায় ৭০ জন। প্রকল্প যুক্ত এলাকায় চলতি মৌসুমে ২২০ একর জমিতে আলু চাষ করা হয় যার ২১০ একরই গলাচিপা উপজেলায় চাষ করা হয় বাকি ১০ একর অন্যান্য উপজেলায়। গ্রেড অনুযায়ী একর প্রতি বি এ ডি সি বীজ আলু (গ্রেট -এ) ৬৪০ কেজি এবং (গ্রেট- বি) ৭২০ কেজি। প্রত্যেক আলু চাষিদের জন্য বাংলাদেশ কৃষি ব্যাং থেকে ৩ মাস মেয়াদি একর প্রতি উপকরন লোন দেয়া হয় ৫২০০০ হাজার টাকা। উল্লেখিত এলাকায় কৃষি ব্যাংক থেকে মোট চাষিদের প্রায় ১১০ কোটি টাকা ৩ মাস মেয়াদি উপকরণ লোন দেয়া হয়। বাংলাদেশে প্রায় ১০০ প্রকার আলুর জাত আছে তার মাত্র ১৭ টি জাত দেশের আবহাওয়া অনুযায়ী বেশি রোপন করা হয়। তাছাড়া চুক্তি বদ্ধ আলু চাষিদের জন্য ৪০০০ হাজার মেট্রিক টন সানসাইন আলু বীজ উৎপাদ করেছে বি এ ডি সি। মাঠ সভায় উপস্থিত সকলের মতে গলাচিপা উপজেলায় আলু চাষিদের মধ্যে মোঃ জামাল খান একজন অভিজ্ঞ সফল আলু চাষি এবং চলতি মৌসুমেও প্রায় ৯ একর জমিতে বিভিন্ন জাতের বি এ ডি সি প্রকল্পের আলু চাষ করেছেন। মাঠ সভার প্রধান অতিথি কৃষিবিদ যুগ্মপরিচালক ( মান নিয়ন্ত্রণ) আলু বীজ বিভাগ ড. মিজানুর রহমান বলেন চলতি বছর ১.২ মিলিয়ন বা লক্ষ টন আলু বিদেশে রপ্তানি করবে সরকার, যা আলু চাষিদের উৎপাদন কষ্ট লাঘব হবে এবং সকল চাষিদের গুরুত্বপূর্ণ দিক নির্দেশনা দেন।
এসময়ে উপস্থিত ছিলেন, কৃষিবিদ ড. মোঃ মাহবুবুর রহমান যুগ্ম-পরিচালক (বি বী) বরিশাল, কৃষিবিদ আসাদুজ্জামান যুগ্ম-পরিচালক ( সার) বরিশাল বি এ ডি সি, কৃষিবিদ মোর্শেদা আক্তার মি মি ( ডি এস সি ও) পটুয়াখালী, গলাচিপা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আরজু আক্তার, বরিশাল আঞ্চলিক কৃষি তথ্য অফিসার মোঃ শাহাদত হোসেন, গনমাধ্যম কর্মী মোঃ ফরহাদ হোসেন বাবু সহ বিভিন্ন শ্রেনীর কৃষকজনগোষ্ঠি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি প্রমুখ।