চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলায় ওয়াজ শোনতে যাওয়ায় শিক্ষকের বেত্রাঘাতে ৪ শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। গতকাল বুধবার (৯ মার্চ) উপজেলার মায়ানী ইউনিয়নের শফিউল আলম আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আবু সুফিয়ানের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠে।
শিক্ষার্থী সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাতে ওই শিক্ষার্থীদের এলাকায় একটি ওয়াজ মাহফিলে যাওয়ার অভিযোগে বুধবার ক্লাস চলাকালীন সময়ের একপর্যায়ে শিক্ষক মো. আবু সুফিয়ান মো. আব্দুল কাইয়ুম নামের এক শিক্ষার্থীকে এলোপাতাড়ি বেত্রাঘাত করেন। বেদম বেত্রাঘাতে পিঠে, হাতে ও পায়ে জখম হয় দশম শ্রেণির ছাত্র মো. আব্দুল কাইয়ুম। এ সময় মো. মোজাম্মেল, বিবি জুলফা ও তিশা আক্তারকেও বেদম পেটায় এ শিক্ষক। একপর্যায়ে বিবি জুলফা নামের এক শিক্ষার্থী অজ্ঞান হয়ে পড়লে তাকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়া হয়। এছাড়া আব্দুল কাইয়ুমকে বেত্রাঘাতে হাতে ও পিঠে ক্ষত হয়ে যায়। পরে তাকে পরিবারের লোকজন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে ভর্তি করায়।
দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. আব্দুল কাইয়ুমের মা আলেয়া বেগম অভিযোগ করে বলেন, মঙ্গলবার রাতে আমার ছেলে একটি মাহফিলে যায়। পরেরদিন ক্লাসে গেলে মাহফিলে যাওয়ার অজুহাতে তাকে বেদম পিটিয়ে রক্তাক্ত করে। তার স্কুলের সাদা শার্ট রক্তে লাল হয়ে যায়। পরে আমরা তাকে মস্তাননগর হাসপাতালে ভর্তি করাই। তিনি আরও বলেন, শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের শাসন করবে এটা স্বাভাবিক। কিন্তু একজন শিক্ষক এভাবে পেটাতে পারে না।
এ বিষয়ে শফিউল আলম উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু সুফিয়ান বলেন, শিক্ষার্থীদের বেদম পিটিয়ে আহত করার অভিযোগটি সত্য নয়। আমরা রাতে শিক্ষার্থীদের বাড়ি পরিদর্শন করে মো. মোজাম্মেল, বিবি জুলফা, তিশা আক্তার ও আব্দুল কাইয়ূমকে অধ্যয়ণরত অবস্থায় পাইনি। পরেরদিন স্কুলে আসলে তাদের প্রত্যেককে অন্যন্য শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে ১টি করে বেত্রাঘাত করেছি। জুলফা তার বাড়িতে জন্মদিনের অনুষ্ঠানে সারারাত জেগে ছিল। ডাক্তার জানায় সারারাত নির্ঘুম থাকায় তার গ্যাস ও মাথায় সমস্যা হয়। আমি খোঁজ নিয়েছি তাকে বাড়িতে আনা হয়েছে এবং সে সুস্থ আছে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার হুমায়ুন কবির খান উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, বিষয়টি আমি অবগত ছিলাম না। এই মাত্র শুনলাম। দ্রুত খবর নিয়ে দেখছি।
এ ঘটনায় ওই এলাকার অভিভাবক মহলে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ২০২০সালের এসএসসি পরিক্ষার পূর্বে টেস্ট পরিক্ষায় ৫জন শিক্ষার্থীকে টাকার বিনিময়ে উত্তীর্ণ করারও অভিযোগ উঠেছে এই শিক্ষকের বিরুদ্ধে।
জানা যায়, সরকারি-বেসরকারি স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, বিশ্ববিদ্যালয়সহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক শাস্তি দেওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কিন্তু এই নিষেধাজ্ঞা তোয়াক্কা করে প্রতিনিয়ত শ্রেণিকক্ষে বেত নিয়ে শারীরিক ও মানষিকভাবে আঘাত করে বলেও অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা।
ঢাকারিপোর্ট২৪.কম/আরএ/আরএএম