সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত আসামি প্রদীপ কুমার দাশ ও লিয়াকত আলীকে কক্সবাজার জেলা কারাগারের কনডেম সেলে রাখা হয়েছে। তাদের কারাগারের সাধারণ সেল থেকে সরিয়ে কন্ডেম সেলে নেওয়া হয়েছে।
গতকাল সোমবার (৩১ জানুয়ারি) জেলা কারাগারের সুপার মো. নোছার আলম সন্ধ্যায় এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
নোছার আলম জানান, “ফাঁসির আদেশ পাওয়ার পরপরই তাদের সকল সুযোগ সুবিধাগুলো বাতিল করা হয়েছে। সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে প্রদীপ কুমার দাশ ও লিয়াকত আলী এতদিন কারাগারে ভিআইপি সব সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেছিলেন। কিন্তু এখন আর সেই সুযোগ নেই।”
গতকাল অভিযোগ প্রমাণ হওয়ায় বিকেল ৪টা ২২ মিনিটে ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ও ইন্সপেক্টর মো. লিয়াকত আলীকে মৃত্যুদণ্ড দেন জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ ইসমাইল।
এর আগে, দুপুর ২টার দিকে কড়া নিরাপত্তায় মামলার ১৫ আসামিকে আদালতে আনা হয়। এরপর ২টা ২৫ মিনিটের দিকে বিচারক মামলার রায় পড়া শুরু করেন।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ৩১ জুলাই রাতে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের বাহারছড়ার শামলাপুরে এপিবিএন চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে তিনটি (টেকনাফে দুটি, রামুতে একটি) মামলা করে। সেনাবাহিনী থেকে অবসরে যাওয়া সিনহা ‘লেটস গো’ নামে একটি ভ্রমণ বিষয়ক ডকুমেন্টারি বানানোর জন্য সেসময় প্রায় এক মাস কক্সবাজারের হিমছড়ি এলাকায় ছিলেন। ওই কাজে তার সঙ্গে ছিলেন স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া বিভাগের শিক্ষার্থী সাহেদুল ইসলাম সিফাত ও শিপ্রা দেবনাথ। ঘটনার পাঁচ দিন পর অর্থাৎ ৫ আগস্ট কক্সবাজার আদালতে টেকনাফ থানার বহিষ্কৃত ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক লিয়াকত আলীসহ ৯ পুলিশের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন সিনহার বড় বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে র্যাবকে তদন্তের দায়িত্ব দেন। তদন্ত শেষে র্যাব ১৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়। সেই মামলায় আজ রায় দেওয়া হয়েছে।